সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: সকাল থেকে উঠে বোতল কুড়োনো। সেই বোতল বিক্রি করে চলে সংসার। আবার কখনও মদের বোতল কুড়িয়ে তা কাবাডি খানাতে বিক্রি করতে হয়। কথা বলতে বলতে কেঁদে ফেলছিলেন বৃদ্ধ মেথরা কালিন্দি। পুরুলিয়া পুরসভার অবসরপ্রাপ্ত কর্মী। ৬ মাস আগে অবসর নিলেও মাত্র একমাস পেনশন পেয়েছিলেন। তারপর আর পাননি। বকেয়া পেনশনের দাবিতে তিনিও লাগাতার অবস্থান বিক্ষোভে শামিল হয়েছেন। তবে শুধু মেথরা কালিন্দি নয়, এরকম অসহায় অবস্থা আরও বহু অবসরপ্রাপ্ত পুরকর্মীর। পুজোর আগে ৫ মাসের বকেয়া পেনশনের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন তাঁরা।
আগাম ঘোষণা মতো সোমবার থেকে পুরসভা চত্বরে লাগাতার অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেছেন সিটু অনুমোদিত অবসরপ্রাপ্ত পুরকর্মীদের সংগঠন। এদিনের কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সিটুর পুরুলিয়া জেলা সভাপতি বিমলেন্দু কোনার, পুরুলিয়া পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান কেষ্ট বিশ্বাস সহ পুরুলিয়া পুরসভার অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরা। অবসরপ্রাপ্ত পুরকর্মীদের সংগঠনের আহ্বায়ক প্রকাশ কুমার এবং মানিক বাউরি বলেন, ৫ মাস ধরে পেনশন বকেয়া। কীভাবে সংসার চলবে বলতে পারবেন। পুরসভার আধিকারিকদের কাছে বারবার এসেও লাভ হয়নি। পুরুলিয়া পুরসভায় কেউ ৩০ বছর, কেউ তারও বেশি কাজ করার পর এখন পেনশনের জন্য এ টেবিল থেকে ও টেবিল ঘুরতে হচ্ছে। তাতেও লাভ হচ্ছে না। অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের বিষয়টি কেউ ভাবছেন না। তাঁরা আরও বলেন, প্রায় ২৫০ অবসরপ্রাপ্ত কর্মীর অবস্থা শোচনীয়। সংসার চালানোর জন্য কাউকে এই বয়সে বোতল কুড়োতে হচ্ছে, কাউকে ঠেলা চালাতে হচ্ছে। অথচ কারও ৯ হাজার, কারও ২৩ হাজার পেনশন পাওয়ার কথা। এমনকী গ্র্যাচুইটির টাকাও পাননি বহু অবসরপ্রাপ্ত কর্মী। উধম লোহার, কুড়ালা ডোম বলেন, সংসারের অবস্থাটা পুরসভার আধিকারিকরা একবার দেখে আসুন। তাহলে যদি কিছু সুরাহা হয়। পুরসভায় এতদিন ভালো করে কাজ করার পর পেনশনের জন্য এভাবে আন্দোলন করতে হচ্ছে। সিআইটিইউর পুরুলিয়া জেলা সভাপতি বিমলেন্দু কোনার বলেন, ৫ মাস ধরে অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরা বেতন পাননি। তাই তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছি। আন্দোলন চলবে। লাগাতার আন্দোলন ছাড়া উপায় নেই। পুরসভার আধিকারিকরা ঘুমিয়ে রয়েছেন। তাঁদের আন্দোলন করেই জাগাতে হবে।