নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আর জি কর আন্দোলনের অন্যতম মুখ ছিলেন ডাঃ প্রলয় বসু। সোমবার সকালে বেহালা থানা এলাকার একটি অভিজাত আবাসন থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করল পুলিস। তিনি শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ছিলেন। অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বেহালা থানার পুলিস। দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পুলিসের অনুমান, আত্মঘাতী হয়েছেন ওই চিকিৎসক। তবে এর নেপথ্যে কী কারণ থাকতে পারে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। জানা গিয়েছে, বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করেন প্রলয়। বর্তমানে তিনি প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতেন। বেহালার বাড়িতে থাকতেন স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে। তাঁর স্ত্রীও একজন চিকিৎসক (রেডিওলজিস্ট)। পরিবার সূত্রে খবর, এদিন সকালে প্রলয়বাবুর ঘরের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ ছিল। অনেক ডাকাডাকি করেও সাড়া মেলেনি। পাশের ঘরেই ছিলেন তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তান। দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকির পরও সাড়া না মেলায় দরজা ভাঙা হয়। তখন দেখা যায়, ঘরের সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলছেন চিকিৎসক। খবর যায় বেহালা থানায়। ঘটনাস্থল থেকে চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার করে বিদ্যাসাগর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। প্রাথমিক তদন্তে পুলিস জেনেছে, গত মাসখানেক ধরে অবসাদে ভুগছিলেন প্রলয়বাবু। তবে কী কারণে অবসাদ তাঁকে ঘিরে ধরেছিল, তা নিয়ে অন্ধকারে তাঁর স্ত্রীও। তিনি শোকে কার্যত নির্বাক হয়ে গিয়েছেন। কর্মক্ষেত্রে কোনও সমস্যা তৈরি হয়েছিল কি না, বাজারে এই চিকিৎসকের কোনও ধারদেনা ছিল কি না—এসব খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে পুলিস ঘটনার তদন্ত শুরু করলেও চিকিৎসকের পরিবারের তরফে এনিয়ে কোনও অভিযোগ জমা পড়েনি থানায়। এদিকে, এই ঘটনায় চিকিৎসক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রলয়বাবু ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টরস ফোরাম’-এর সক্রিয় সদস্য ছিলেন। এই ফোরামের অন্যতম শরিক অ্যাসোসিয়েশন অব হেলথ সার্ভিস ডক্টরসের রাজ্য সম্পাদক ডাঃ উৎপল বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘এরকম একটা ঘটনা আমরা কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। পুলিস ঘটনার সঠিক তদন্ত করুক—এটাই চাইব।’ একজন নামকরা শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ কেন আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন, তা নিয়ে চিকিৎসক মহলে তৈরি হয়েছে বিস্তর জল্পনা।



