নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রবিবার বিকেল থেকেই পার্ক স্ট্রিটের পানশালায় চলছিল দেদার মদ্যপান। সঙ্গী দুই বান্ধবী। সন্ধ্যায় বিলাসবহুল মার্সিডিজ গাড়িতে তাঁদের নিয়ে জয়রাইডে বেরন ব্যবসায়ী পুত্র। বান্ধবীদের আবদার, ‘স্টিয়ারিংয়ে হাত না রেখে গাড়ি চালাও’। আবদার মেটাতে গিয়েই ভয়াবহ অঘটন। পার্ক স্ট্রিটেই এক পথচারীকে সজোরে ধাক্কা মারল ৫০ লাখি গাড়ি। গুরুতর জখম হন ওই যুবক। আশঙ্কাজনক অবস্থায় এসএসকেএমের ট্রমা কেয়ার সেন্টারে ভর্তি পেশায় সাংবাদিক পার্থপ্রতিম দাস। গাড়ির চালক রিমাংশু রাতারিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পার্ক স্ট্রিট থানার পুলিস।
রবিবার সন্ধ্যায় পার্ক স্ট্রিটে মার্সি হাসপাতালের সামনে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। সবসময় কড়া নজরদারির ব্যবস্থা থাকে শহরের এই অতি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায়। তার মাঝেই ফের ভয়াবহ দুর্ঘটনা। পুলিস সূত্রে খবর, মার্সিডিজ গাড়িটি পার্ক স্ট্রিট মোড় থেকে মল্লিক বাজারের দিকে যাচ্ছিল। সেখান থেকেই নিউ পার্ক স্ট্রিট হয়ে মা ফ্লাইওভার ধরার কথা ছিল। তার আগেই দুর্ঘটনা।
পার্ক স্ট্রিট-মল্লিক বাজার ক্রসিংয়ের কাছেই রয়েছে মার্সি হাসপাতাল। তার পাশেই একটি স্টলে চা খেতে এসেছিলেন পার্থপ্রতিম। অফিস ফিরে যাওয়ার পথেই তাঁকে ধাক্কা মারে রিমাংশুর গাড়ি। ছিটকে পড়েন পথচারী। শরীরের একাধিক জায়গায় চোট লাগে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের জেরে অচৈতন্য হয়ে পড়েন পার্থ। দুর্ঘটনা খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে আসেন সাউথ ট্রাফিক গার্ডের পুলিস। আহত পথচারীকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু, তাঁর আঘাত গুরুতর হওয়ায় এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, দুর্ঘটনার জেরে গাড়ির বাঁদিকের দরজা, তার কাচ ও সাইড ভিউ মিরর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পুলিসি জেরায় দুর্ঘটনার কথা অস্বীকার করেন নেশাগ্রস্ত অবস্থায় থাকা গাড়িরচালক। তার আগেই গাড়ি ছেড়ে চম্পট দেয় রিমাংশুর দুই বান্ধবী। অংসলগ্ন কথাবার্তা শুনেই পুলিস বুঝতে পারে গাড়িচালক মদ্যপ। ব্রেথ অ্যানাইলাইজার দিয়ে পরীক্ষা করা হয় তাঁর শ্বাস। এরপরেই মদ্যপ অবস্থায় বিপজ্জনক গাড়ি চালানো সহ একাধিক ধারায় রিমাংশুর বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে পার্ক স্ট্রিট থানা। রাতেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
উল্লেখ্য, এই ঘটনা উস্কে দিয়েছে ২০১৭ সালের জাগুয়ার-মার্সিডিজ সংঘর্ষে দুই বাংলাদেশির প্রাণহানিকে। কলকাতার নামজাদা বিরিয়ানি দোকানের মালিকের পুত্রকে সেই ঘটনায় গ্রেপ্তার করে পুলিস। এরপরেই গত বছর ক্যামাক স্ট্রিটে নাকা চেকিংয়ে ট্রাফিক সার্জেন্ট সহ ৪ জন পুলিস কর্মীকে ধাক্কা মেরে একটি বাড়িতে ঢুকে যায় বিলাসবহুল গাড়ি। সেই ঘটনাতেও গাড়ির চালককে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিস।