সংবাদদাতা, কাটোয়া: সে এক অদ্ভুত মনমুগ্ধকর দৃশ্য। আউশগ্রামের লোকালয়ে নির্ভয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে ময়ূরের দল। কারও হেঁশেলে ঢুকে যাচ্ছে, তো কারও উঠোনে পেখম মেলে নেচে বেড়াচ্ছে। মানুষ মোবাইলের ক্যামেরায় ধরে রাখছেন সেসব দৃশ্য। আউশগ্রামের জঙ্গলমহলে ঘুরতে যাওয়া পর্যটকরা সেই দৃশ্য দেখে দারুণ খুশি।
আউশগ্রামের জঙ্গলে ময়ূরের সংখ্যা যথেষ্ট বেড়েছে। বনদপ্তর কয়েক বছর আগে কাঁকসার জঙ্গলে দেউলে পরীক্ষামূলক ভাবে কয়েকটি ময়ূর ছেড়েছিল। উপযুক্ত পরিবেশ পেয়ে ধীরে ধীরে সেই ময়ূরের দল বংশবিস্তার করে আশেপাশের জঙ্গলে ছড়িয়ে পড়েছে। আদুরিয়া বিটের অফিসার পিনাকি ভট্টাচার্য বলেন, আমরা ময়ূরের উপর সর্বদা নজরদারি চালাই। জঙ্গলে ময়ূরের জলপানের জন্য পাত্র বসিয়েছি। গরমের জন্য সেই জলে ওআরএস দেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনেই আউশগ্রাম-২ ব্লকের দেবশালা অঞ্চলের মৌকাটা গ্রামে এক ব্যক্তির বাড়িতে দু’টি ময়ূর ঢুকে পড়েছিল। একটি ময়ূর হেঁশেলে ঢুকে পড়ে। আরেকটি ময়ূর উঠোনে চড়ে বেড়ায়। সেই দৃশ্য মোবাইল বন্দি করেন অনেকেই। স্থানীয় বাসিন্দা পূজা চৌধুরী বলেন, আমাদের এখানে ময়ূরকে কেউ বিরক্ত করে না। আমাদের সঙ্গেই ঘুরে বেড়ায়। আমাদের তো খুবই ভালো লাগে। দেবশালা, লবণধার, আদুরিয়ার রাঙাবাঁধ, হেদোগড়িয়া এসব এলাকায় ঝাঁকে ঝাঁকে ময়ূর ঘুরে বেড়াচ্ছে। পর্যটকরাও আসছেন প্রতিদিন ময়ূর দেখতে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ ময়ূর দেখা যাচ্ছে। প্রেমগঞ্জ, কুনুর নদীর ধারেও দেখা যাচ্ছে ময়ূরের দল। অনেকেই বলছেন, এবার ঝাঁকে ঝাঁকে ময়ূর দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। এক একটি ঝাঁকে প্রায় ৩০ থেকে ৪০টি ময়ূর দেখা যাচ্ছে। তারা দল বেঁধে ঘুরে বেড়াচ্ছে। গত বছরে অনেক বাচ্ছার জন্ম দিয়েছিল। সেগুলিও ঘুরে বেড়াতে দেখা যাচ্ছে। বাইরে থেকে অনেকেই আউশগ্রাম ঘুরতে এসে ময়ূর দেখে যাচ্ছেন। ছবিও তুলছেন। আমরা চাই এখানে পাকাপাকি ভাবে ময়ূরের সংরক্ষণ কেন্দ্র করা হোক। তাহলে পর্যটক আরও বাড়বে। পাশাপাশি এলাকার অর্থনৈতিক পরিকাঠামো বদলে যাবে। এমনিতেই আউশগ্রামের আদুরিয়া জঙ্গলে ইন্ডিয়ান উলফ বা হেঁরোল, খরগোশ, অজগর, বনমুরগি, বনবিড়াল প্রভৃতি প্রাণী বেশি সংখ্যায় দেখা যাচ্ছে। হেঁরোলের সংখ্যাও আগের থেকে বেড়েছে। তাদের সুরক্ষিত রাখাটা খুবই জরুরি। -নিজস্ব চিত্র