নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া মুর্শিদাবাদ জেলায় প্রায় নির্বিঘ্নে দোল ও হোলি উদযাপিত হল। শুক্রবার জুম্মার নামাজ থাকায় পুলিস কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছিল।
নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া মুর্শিদাবাদ জেলায় প্রায় নির্বিঘ্নে দোল ও হোলি উদযাপিত হল। শুক্রবার জুম্মার নামাজ থাকায় পুলিস কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছিল।
উৎসব ঘিরে জেলার বেশ কিছু জায়গায় সম্প্রীতির ছবিও দেখা গেল। শুক্রবার সকালে বড়ঞা থানার পাঁচথুপি গ্রামে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে বসন্ত উৎসবের শোভাযাত্রা বের করেন। শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর বহরমপুরে একটি মসজিদের সামনে ফিরনি বিলি করেন স্থানীয় হিন্দু যুবকরা। বহরমপুর শহরে বেশ কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও ক্লাবের উদ্যোগে বসন্ত উৎসব হয়েছে।
শুক্রবার প্রতিটি থানা এলাকায় নজরদারির পর শনিবার হোলিতে মেতে ওঠেন জেলার পুলিস আধিকারিকরাও। পুলিস প্যারেড গ্রাউন্ডে হোলিতে পুলিস সুপার সূর্যপ্রতাপ যাদব, অতিরিক্ত পুলিস সুপার(সদর) মজিদ ইকবাল খান, অতিরিক্ত পুলিস সুপার(লালবাগ) রাসপ্রীত সিং সহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
পুলিস সুপার বলেন, শুক্রবার সারা জেলায় নির্বিঘ্নে দোল উৎসব হয়েছে। শনিবারও শান্তিপূর্ণভাবে মানুষ হোলিতে অংশ নিয়েছেন। জেলার বাসিন্দাদের পুলিসের তরফে দোল ও হোলির আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানাই।
তবে শহরাঞ্চলে বেপরোয়া বাইক ও স্কুটারের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে পুলিস হিমশিম খেয়েছে। যুবকদের পাশাপশি যুবতীরাও রাস্তায় দাপিয়ে বেড়ায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রিভেন্টিভ অ্যারেস্ট করে পুলিস। দোলের প্রথমদিনই মুর্শিদাবাদ পুলিস জেলায় প্রায় ১২০জনকে প্রিভেন্টিভ অ্যারেস্ট করা হয়। জঙ্গিপুর পুলিস জেলায় বহু আইনভঙ্গকারীকে পাকড়াও করা হয়। শনিবারও অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়।
ভরতপুর থানার মাসলাই গ্রামে রংখেলার সময় দু’পক্ষের হাতাহাতি বেধে যায়। এই থানারই জজান গ্রামে আবির খেলায় নাচানাচিকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষে সাতজন জখম হন। খড়গ্রাম থানার বাতুর গ্রামে রংখেলা নিয়ে দুই পাড়ার যুবকদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে দুই পাড়ার কয়েকটি বাড়ি ভাঙচুর হয়। এঘটনায় পুলিস দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
সীমান্তের ক্যাম্পে উৎসবে মেতে ওঠেন বিএসএফ জওয়ানরা। শুক্রবার ৭৩ নম্বর ব্যাটেলিয়নের উদ্যোগে কাহারপাড়া ক্যাম্পে দোল উৎসব হয়েছে। সেখানে বিএসএফের বহরমপুর রেঞ্জের ডিআইজি অনিলকুমার সিনহা উপস্থিত ছিলেন। তিনি নিজে হাতে জওয়ানদের রং মাখিয়ে তাঁদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। জেলার সাংসদ, বিধায়ক
ও জনপ্রতিনিধিরা নিজ নিজ
এলাকায় রং খেলে জনসংযোগ সারেন। -নিজস্ব চিত্র