সংবাদদাতা, চাঁচল: মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়ে ভিনরাজ্য পাড়ি দেওয়া। মোটা টাকা উপার্জন করে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ভিনরাজ্যে পাড়ি দেন যুবকরা। এই প্রবণতা রয়েছে মালদহ জেলার চাঁচলের প্রত্যন্ত গ্রামগুলিতে। পরিবারের প্রয়োজনে টাকা উপার্জনের জন্য অনেকের বছরে হয়ত একদিনও বাড়ি আসা হয় না। এবার এলাকার ছেলেমেয়েদের স্কুলছুট কমাতে ও শিক্ষা অর্জনে আগ্রহী করে তুলতে আসরে নামল চাঁচল-১ ব্লকের শীতলপুর মোবারক হাইস্কুল। শুক্রবার স্কুল ছুটির পরে শিক্ষকরা গ্রামে গ্রামে গিয়ে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। এদিন মোবারকপুর হাটখোলা ও চকবাজারে ‘চলো বিদ্যালয় যাই’ কর্মসূচি নিয়ে অভিভাবকদের সচেতন করা হয়। স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, ধারাবাহিকভাবে এই কর্মসূচি চলবে।
Advertisement
স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত স্কুলে ২৮০০ জন ছাত্রছাত্রী রয়েছে। ৫২ জন শিক্ষক শিক্ষিকা রয়েছেন। কিন্তু বর্তমানে স্কুলছুট অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে। পড়ুয়াদের উপস্থিতির হার ২৩ শতাংশে ঠেকেছে। এনিয়ে উদ্বেগে পড়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। শীতলপুর মোবারকপুর হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক সাইনুর হক বলেন, অভিভাবকদের স্কুলে ডাকা হলেও আসেন না। এদিন গ্রামে গিয়ে জানতে পারি চাষাবাদের কাজ চলায় ছাত্রছাত্রীরা স্কুলমুখী হচ্ছে না। কিছু পড়ুয়া মোবাইলে আসক্ত হয়ে স্কুলে আসার আগ্রহ হারাচ্ছে। নিজের সন্তানকে যাতে সুশিক্ষিত করে তোলেন, সেজন্য অভিভাবকদের সচেতন করা হয়েছে।চাঁচল চক্রের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক পলাশ রায় বলেন,বিশেষভাবে সক্ষম বহু ছাত্রছাত্রী শিক্ষাক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করে নজির গড়ছে। একজন সুস্থ মানুষ কেন পারবে না। শিক্ষা শুধু ব্যক্তিগত উন্নয়নের জন্য নয়। পরিবার, সমাজ এলাকার সামগ্রীক অগ্রগতির জন্যও অপরিহার্য। যা উন্নত জীবনযাত্রাও নিশ্চিত করে। অভিভাবকদের সচেতন করা হয়েছে।



