Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পদ্মার মিষ্টি জলে বাঁচবে সুন্দরবন, প্রাণ ফিরবে জলঙ্গি, ভৈরব, কলিঙ্গের

পদ্মার মিষ্টি জলে বাঁচবে সুন্দরবন, প্রাণ ফিরবে জলঙ্গি, ভৈরব, কলিঙ্গের
  • ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: বঙ্গোপসাগরের নোনা জল ঢুকছে সুন্দরবনের গ্রামে। যার ফলে চাষের জমি লবণাক্ত হয়ে পড়ছে। ফসল উৎপাদনের ক্ষমতা কমছে বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী জমিতে। এই লবণ জল প্রভাব ফেলছে ম্যানগ্রোভ অরণ্যেও। আর তাই পদ্মার জল মোহনায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছে রাজ্য সরকার। মুর্শিদাবাদ, নদীয়া জেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া জলঙ্গি, কলিঙ্গ, ইছামতি নদীর মাধ্যমে সেই জল মোহনা পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। মূলত বর্ষাকালের অতিরিক্ত জলকেই সুন্দরবন ইকো সিস্টেমকে রক্ষার কাজে ব্যবহার করা হবে। সেই মতো এই সকল ছোট নদীর সমীক্ষার কাজ শুরু করেছে রাজ্য সরকার। সম্প্রতি এইসব নদীর উৎসমুখ, প্রবাহ, বর্তমান পরিস্থিতি সহ যাবতীয় বিষয় সরেজমিনে দেখতে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্কের বিশেষজ্ঞরা আসেন। এই প্রকল্প হলে সুন্দরবনের ইকো সিস্টেম বাঁচার পাশাপাশি ক্রমশ প্রবাহহীন হয়ে পড়া ছোট নদীগুলিও প্রাণ ফিরে পাবে বলে মনে করছেন নদী বিশেষজ্ঞরা। এই প্রকল্পের জন্য কয়েকশো কোটি টাকা খরচ হবে।  যদিও টাকার সেই হিসেব এখনও চূড়ান্ত হয়নি। 
Advertisement
নদীয়া জেলা সেচদপ্তরের আধিকারিক স্বপন বিশ্বাস বলেন, ‘সুন্দরবন ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। যা একদম প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। সেখানে সাগরের নোনা জল ঢুকে যাচ্ছে। যার ফলে সেখানকার ইকো সিস্টেমে কুপ্রভাব পড়ছে। তাই পদ্মার জলকে জলঙ্গি, ভৈরব দিয়ে ইছামতি নদীতে ফেলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ইছামতি দিয়ে সেই জল সুন্দরবন এলাকায় পৌঁছবে।’
প্রসঙ্গত, স্রোত হারিয়ে ভৈরব, জলঙ্গি বর্তমানে মৃতপ্রায়। মুর্শিদাবাদ জেলায় এই দুই নদীর উৎসস্থল। কিন্তু নদীয়া জেলার জন্য এই দুই নদী বেশ গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে জলঙ্গি। কারণ জেলার একটা বড় অংশের মানুষ জীবিকার জন্য এই নদীর উপর নির্ভরশীল। একসময়ে মুর্শিদাবাদ থেকে গঙ্গার যে অংশ পদ্মা হয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছে, সেটাই ছিল জলঙ্গির উৎসস্থল।‌ কিন্তু বর্তমানে সেই উৎসস্থল পলি পড়ে বুজে গিয়েছে। একই অবস্থা ভৈবের নদের। এই দুই উৎসমুখকেই পুনরুদ্ধার করা হবে বলে জানা গিয়েছে। যাতে পদ্মার মিষ্টি জল ফের জলঙ্গি ও ভৈরবে ঢুকতে পারে। বর্ষাকালে অতিরিক্ত জল পদ্মা দিয়ে বাংলাদেশে চলে যায়। সেই অতিরিক্ত জলকেই প্রবেশ করানো হবে এই দুই নদীতে।  নদী বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে মৃতপ্রায় জলঙ্গি ও ভৈরব নদ প্রাণ ফিরে পাবে। পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ জলের পরিমাণও বাড়বে। সেচদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, চাপড়া ব্লকের মহৎপুর এলাকায় রয়েছে কলিঙ্গ নদী। যা বর্তমানে খালের আকার নিয়েছে। জলঙ্গি ও ভৈরবের জল কলিঙ্গ খাল দিয়ে নিয়ে গিয়ে মাজদিয়ার কাছে মাথাভাঙা নদীতে ফেলা হবে। কলিঙ্গ খালের দৈর্ঘ্য প্রায় ৫২ কিলোমিটার। কিন্তু বর্তমানে সেই খালের অবস্থাও ভালো নয়। তাও পুনরুদ্ধার করা হবে বলে জানা গিয়েছে। তারপর সেই জল চুর্ণি নদী দিয়ে ইছামতিতে নিয়ে যাওয়া হবে। তারপর তা বসিরহাট দিয়ে সরাসরি সুন্দরবনে পৌঁছবে বলে সেচদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে।
সম্পর্কিত সংবাদ