Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পদ্মার চরে ২ হাজার বিঘা কলাই চাষ ক্ষতিগ্রস্ত, চিন্তায় কৃষকরা

পদ্মার চরে ২ হাজার বিঘা কলাই চাষ ক্ষতিগ্রস্ত, চিন্তায় কৃষকরা
  • ১৪ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, করিমপুর: ক’দিন পরেই ঘরে ওঠার কথা মাঠের কলাই। কিন্তু এবছর পদ্মার জলে ডুবে ব্যাপক ক্ষতির মুখে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের প্রায় দু’ হাজার বিঘা জমির কলাই চাষ। এই ক্ষতি কীভাবে পূরণ হবে তা নিয়ে উদ্বেগে চাষিরা। তাঁরা জানান, নদীয়ার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের হোগলবেড়িয়ার কাছারিপাড়া, মধুগাড়ি, নাসিরের পাড়া সীমান্ত এলাকার একাধিক চাষজমি এবছর পদ্মার জলে ডুবে গিয়েছিল। প্রত্যেক বছর এলাকার ১০৮ নং মধুগাড়ী মৌজার চরের উর্বর জমিতে স্থানীয় চাষিরা কলাই চাষ করে লাভবান হতেন। এবারেও তাঁরা কলাই চাষ করেছিলেন। কিন্তু এবছর দেরিতে অতিরিক্ত বৃষ্টি হওয়ায় পদ্মার চরের জমি জলে ডুবে যায়। কাছারিপাড়ার বাসিন্দা শঙ্কর মণ্ডল জানান, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত বরাবর এই চরের জমি ১৯৯৮ সালের ভাঙনে পদ্মাগর্ভে তলিয়ে গিয়েছিল। নদীবাঁধ দেওয়ার পর ওই এলাকায় পলি পড়তে শুরু করে। কয়েক বছর পরে সেখানে জেগে ওঠে প্রায় তিন হাজার বিঘা জমি। তার মধ্যে বর্ষাকালে প্রায় দুই হাজার বিঘা জমিতে কলাই চাষ হয়ে থাকে। কিন্তু এবারে বৃষ্টিতে পদ্মার জল কুল ছাপিয়ে সেই জমি ডুবিয়ে দিয়েছে। পদ্মার জল বাড়তে পারে এমন সতর্কবার্তা বিএসএফ থেকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ক্ষতি যা হওয়ার তা হয়ে গিয়েছে। এলাকার আরেক চাষি ফটিকচন্দ্র মণ্ডল জানান, একসময় পদ্মার ভাঙনে জমি হারিয়ে আমরা নিঃস্ব হয়ে গিয়েছিলাম। তারপর প্রাকৃতিক কারণে ওই এলাকায় পলি পড়ায় চাষিরা সেই জমি ফিরে পেয়েছেন। পদ্মা পাড়ের ওই উর্বর জমিতে প্রত্যেক বছর খুব কম খরচে কলাই চাষ করে চাষিরা লাভবান হতেন। কিন্তু এবার জলে সব তলিয়ে গেল। ধনঞ্জয় মণ্ডল বলেন, পদ্মার চরে জেগে ওঠা জমিতে বছরে এখন প্রায় তিনটে ফসল হয়। পাট ছাড়াও রবিশস্য চাষ করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। ইদানিংকালে বেশিরভাগ চাষি ভাদ্র মাস নাগাদ কলাই বুনে অগ্রহায়ণ মাসের প্রথম দিকে কলাই তুলে গম চাষ করেন। করিমপুর ১ পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি আলাউদ্দিন মণ্ডল জানান, ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের পাশে আমরা আছি। কীভাবে তাঁদের ক্ষতি পূরণ করা সম্ভব এ বিষয়টি নিয়েও সমিতিতে আলোচনা হবে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ