নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: একে একে বিদায় নিয়েছেন দুর্গা, কালী, জগদ্ধাত্রী। উৎসবের মরশুমে এবার ইতি টানার পালা। তবে মরশুমের শেষে এই দাঁড়ি যে শান্তিপুরের ঐতিহাসিক রাস উৎসবের মাধ্যমেই টানা হবে, তা বলাই বাহুল্য। ইতিমধ্যেই জোর কদমে শান্তিপুর জুড়ে চলছে প্রস্তুতি। তবে এই উৎসবের ‘ইতিহাস’ না জানলে যেন অপূর্ণই থেকে যায় ঐতিহাসিক রাস উৎসব।
Advertisement
কথিত আছে, অদ্বৈত আচার্য কলিযুগে নারায়ণরূপে রাসযাত্রা করেন। ফলে শান্তিপুরের এই ধর্মীয় উৎসব পাঁচ শতাধিক বছরের প্রাচীন তো বটেই। পুরাণের সঙ্গে যোগ খুঁজলে দেখা যায়, দ্বাপর যুগ আর কলিযুগ একে অপরের সঙ্গে এই রাসের মাধ্যমে যুক্ত। দ্বাপর যুগে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বৃন্দাবনে তাঁর গোপিনীদের সঙ্গে নিয়ে রাসলীলা করতেন। কিন্তু সেখানে কোনও পুরুষকে প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়নি। কিন্তু দেবাদিদেব মহাদেবের মনে বাসনা জাগে, তিনি রাসলীলা দেখবেন। নারী রূপে ঘোমটা দিয়ে তিনি বৃন্দাবনে প্রবেশ করেছিলেন। কিন্তু চতুর শ্রীকৃষ্ণ তা বুঝে যান আগেই। তাই রাসলীলা সমাপ্ত না করেই তিনি চলে যান সেখান থেকে। কিন্তু হতাশ মহাদেব তখন সিদ্ধান্ত নেন, আজ যখন রাস দেখতে পেলাম না, তখন কলিযুগে বিশ্ববাসীকে আমি এই রাস দর্শন করাব।
লোকশ্রুতি অনুযায়ী, অদ্বৈত আচার্য নাকি বিষ্ণুর অবতার রূপে এই কলিযুগে সেই রাসযাত্রা প্রবর্তন করেন। স্বর্গকে মর্ত্যে নিয়ে এসেছিলেন তিনি। বর্তমানে সব মিলিয়ে শান্তিপুরের মাটিতে প্রায় ৩০টি বিগ্রহ বাড়ি রয়েছে। যাঁদের বাড়িতে পুরনো জৌলুসের সঙ্গে রাসযাত্রা পালিত হয়। তবে তার মধ্যে কমপক্ষে ১৫টি বাড়ির রাস দর্শনীয়। এরমধ্যে অধিকাংশই অদ্বৈত আচার্যের বংশধরদের পরিবার আয়োজিত রাস। ভাঙা রাসে শোভাযাত্রা হয় প্রায় ১২টি। তবে রাসের সঙ্গে প্রাচীনত্বের যদি মেলবন্ধন দেখতে হয়, তাহলে শান্তিপুরের বিগ্রহ বাড়িগুলিই তার ধারক বাহক। আজও কাঁচের ফানুস থেকে মখমলের পর্দা বর্তমান। পৌরাণিক কাহিনি অনুযায়ী সং সাজানো হয়। বড় গোস্বামী, মেজো গোস্বামী, ছোট গোস্বামী, মদন গোস্বামী, বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামীর মতো একাধিক দর্শনীয় বিগ্রহবাড়ি রয়েছে। বারোয়ারিগুলিতে আবার থাকে থিমের ঝলক।
তবে রাস উৎসব প্রায় ৫০০ বছরের প্রাচীন হলেও, তার খ্যাতি ছড়ায় আরও প্রায় দেড়শো বছর পরে। বড় গোস্বামী বাড়ির পূজিত বিদ্রোহ রাধারমণের সঙ্গে শ্রীমতী বিগ্রহের মিলন বা বিবাহ হয়েছিল। প্রায় ৩৫০ বছর আগে রাস পূর্ণিমার তিথিতে এই বিবাহ হয়। সেই থেকেই এটি উৎসবের রূপ নেয়। বড় গোস্বামী পরিবারের বর্তমান সদস্য সত্যনারায়ণ গোস্বামী বলেন, আগে শ্রীমতী পূজিতা হতেন না। কিন্তু রাধারমণের সঙ্গে তাঁর মিলনের পর তৃতীয় দিনে অর্থাৎ ‘বৌভাত’ এর দিনে নগর পরিক্রমা হয়। সমস্ত নগরবাসীকে শ্রীমতী দর্শনের সুযোগ দেওয়া হয়। সেই নগর পরিক্রমার প্রথম উদ্যোগ নেন গোস্বামী পরিবারের অন্যতম শিষ্যকুল শান্তিপুরের খাঁ চৌধুরী পরিবার। সে যুগের সেই আড়ম্বরের সঙ্গে নগর পরিক্রমা ধীরে ধীরে শোভাযাত্রায় রূপ নেয়। পরবর্তীতে রাসের ঠিক একদিন পরে এই নগর পরিক্রমার ধারণা শোভাযাত্রায় পরিবর্তিত হয়। আজ লাখ লাখ মানুষের ভিড় হয় এই উৎসবকে কেন্দ্র করে। শান্তিপুরের গণ্ডি পেরিয়ে রাস আজ খ্যাতির শিখরে। দ্বাপর যুগে মহাদেব যে রাস বিশ্ববাসীকে দেখানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, আজ প্রকৃত অর্থেই সেই শান্তিপুরের রাস উৎসব বিশ্বজনীন।
লোকশ্রুতি অনুযায়ী, অদ্বৈত আচার্য নাকি বিষ্ণুর অবতার রূপে এই কলিযুগে সেই রাসযাত্রা প্রবর্তন করেন। স্বর্গকে মর্ত্যে নিয়ে এসেছিলেন তিনি। বর্তমানে সব মিলিয়ে শান্তিপুরের মাটিতে প্রায় ৩০টি বিগ্রহ বাড়ি রয়েছে। যাঁদের বাড়িতে পুরনো জৌলুসের সঙ্গে রাসযাত্রা পালিত হয়। তবে তার মধ্যে কমপক্ষে ১৫টি বাড়ির রাস দর্শনীয়। এরমধ্যে অধিকাংশই অদ্বৈত আচার্যের বংশধরদের পরিবার আয়োজিত রাস। ভাঙা রাসে শোভাযাত্রা হয় প্রায় ১২টি। তবে রাসের সঙ্গে প্রাচীনত্বের যদি মেলবন্ধন দেখতে হয়, তাহলে শান্তিপুরের বিগ্রহ বাড়িগুলিই তার ধারক বাহক। আজও কাঁচের ফানুস থেকে মখমলের পর্দা বর্তমান। পৌরাণিক কাহিনি অনুযায়ী সং সাজানো হয়। বড় গোস্বামী, মেজো গোস্বামী, ছোট গোস্বামী, মদন গোস্বামী, বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামীর মতো একাধিক দর্শনীয় বিগ্রহবাড়ি রয়েছে। বারোয়ারিগুলিতে আবার থাকে থিমের ঝলক।
তবে রাস উৎসব প্রায় ৫০০ বছরের প্রাচীন হলেও, তার খ্যাতি ছড়ায় আরও প্রায় দেড়শো বছর পরে। বড় গোস্বামী বাড়ির পূজিত বিদ্রোহ রাধারমণের সঙ্গে শ্রীমতী বিগ্রহের মিলন বা বিবাহ হয়েছিল। প্রায় ৩৫০ বছর আগে রাস পূর্ণিমার তিথিতে এই বিবাহ হয়। সেই থেকেই এটি উৎসবের রূপ নেয়। বড় গোস্বামী পরিবারের বর্তমান সদস্য সত্যনারায়ণ গোস্বামী বলেন, আগে শ্রীমতী পূজিতা হতেন না। কিন্তু রাধারমণের সঙ্গে তাঁর মিলনের পর তৃতীয় দিনে অর্থাৎ ‘বৌভাত’ এর দিনে নগর পরিক্রমা হয়। সমস্ত নগরবাসীকে শ্রীমতী দর্শনের সুযোগ দেওয়া হয়। সেই নগর পরিক্রমার প্রথম উদ্যোগ নেন গোস্বামী পরিবারের অন্যতম শিষ্যকুল শান্তিপুরের খাঁ চৌধুরী পরিবার। সে যুগের সেই আড়ম্বরের সঙ্গে নগর পরিক্রমা ধীরে ধীরে শোভাযাত্রায় রূপ নেয়। পরবর্তীতে রাসের ঠিক একদিন পরে এই নগর পরিক্রমার ধারণা শোভাযাত্রায় পরিবর্তিত হয়। আজ লাখ লাখ মানুষের ভিড় হয় এই উৎসবকে কেন্দ্র করে। শান্তিপুরের গণ্ডি পেরিয়ে রাস আজ খ্যাতির শিখরে। দ্বাপর যুগে মহাদেব যে রাস বিশ্ববাসীকে দেখানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, আজ প্রকৃত অর্থেই সেই শান্তিপুরের রাস উৎসব বিশ্বজনীন।



