সংবাদদাতা, ডোমকল: সূর্য পশ্চিমে হেলে পড়তেই অন্ধকারে ডুবে যায় চারিদিক। তখন সর্বত্র জোনাকি পোকার মিছিল আর ঝিঁ ঝিঁর আওয়াজ। তার সঙ্গেই তাল মিলিয়ে ভেসে আসে পড়ুয়াদের পড়ার শব্দ। এভাবেই চলেছে রাতের পর রাত। পাশাপাশি চলেছে চেকিংয়ের নামে বিএসএফের হয়রানি। তারপরেও থেমে থাকেনি ওদের লড়াই। দাঁতে দাঁত চেপে পড়াশোনা চালিয়ে গিয়েছে ‘পাচারের স্বর্গরাজ্য’ জলঙ্গির উদয়নগর খণ্ড কলোনি ও চর পরাশপুরের মেহবুব, ঈশান, সুফিয়ারা। তাদের দু’চোখে একরাশ স্বপ্ন আর নিজেদের প্রতিষ্ঠা করার অদম্য জেদ। সেই জেদকে হাতিয়ার করেই সোমবার জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষায় বসল ওরা।
Advertisement
এক সময় এখানকার গ্রামগুলি পদ্মা ভাঙনে প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল। পরে খাত বদলে পদ্মা ফের ওপার বাংলার কুষ্টিয়া দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করে। পদ্মা গহ্বরে জন্ম নেয় দুই জলঙ্গির উদয়নগর খণ্ড কলোনি ও চর পরাশপুর। গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্তও ওই দুই চরে যাতায়াতের নিয়ন্ত্রণ ছিল ভারতীয় সীমান্তরক্ষা বাহিনীর হাতে। ভারতীয় হয়েও প্রতি মুহূর্তে স্থানীয়দের ভারতীয় হওয়ার প্রমাণ দিতে হতো। পড়ুয়ারা স্কুলের পোশাক পরে থাকলেও চলত তল্লাশি। সদ্য মিটেছে সেই সমস্যা। গত বছরের ডিসেম্বরে গ্রামের প্রবেশদ্বার ছেড়ে জিরো পয়েন্টে সরে গিয়েছে। গ্রামে দু’একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। তবে একটু উঁচু ক্লাসে উঠলেই পড়াশোনার জন্য পাড়ি দিতে হয় প্রায় চার কিমি দূরের ঘোষপাড়া সর্বপল্লি বিদ্যানিকেতনে। রাস্তা না থাকায় কখনও হাঁটুজল ডিঙিয়ে, কখনও চরের বালিপথ উজিয়ে ছুটতে হয় স্কুলে। বর্ষা এলে বন্ধ হয়ে যেত স্কুল। তবে শত প্রতিকূলতা থাকলেও হাল ছেড়ে দেয়নি ওঁরা। দাঁতে দাঁত চেপে চলেছে স্বপ্নকে ছুঁয়ে ফেলার প্রচেষ্টা। ঘোষপাড়া সর্বপল্লি বিদ্যানিকেতন থেকে এবারে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে ২৯২ জন পরীক্ষার্থী। স্কুল সূত্রের খবর, তার মধ্যে পঁচিশের বেশি পরীক্ষার্থী ওই দুই চরের বাসিন্দা। শত বাধা অতিক্রম করেও তারা এবার পরীক্ষায় বসল। মেহবুব, ঈশান, সুফিয়ারা বলল, কতদিন হয়েছে স্কুলে যেতে গিয়ে বাধা এসেছে। কাদায় নষ্ট হয়েছে স্কুলের জামাকাপড়। বিএসএফের অপমান জুটেছে। বর্ষায় স্কুল কামাই করতেও হয়েছে। তবে আমরা লড়াই থেকে সরে যাইনি। সেই লড়াই থেকেই সোমবার জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা দিলাম। পরীক্ষাও বেশ ভালোই হয়েছে।
ঘোষপাড়া সর্বপল্লি হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম বলেন, ওদের জীবনে অসংখ্য প্রতিকূলতা। তবে ওরা ভয় পেয়ে থেমে থাকেনি। বর্ষার সময় ওরা স্কুলে আসতে পারত না। আবার স্কুল ছুটি হওয়ার এক ঘণ্টা আগে ওদের ছেড়ে দিতে হতো। এমন লড়াই করে যারা জীবনে এগিয়ে চলতে চায়, তাদের জন্য রইল শুভকামনা।
জলঙ্গির বিডিও সুব্রত মল্লিক বলেন, হাজারো প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ওরা যেভাবে লড়াই করছে, তা দেখে ভালো লাগছে। ওদের আগামীর জন্য শুভকামনা রইল।
ঘোষপাড়া সর্বপল্লি হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম বলেন, ওদের জীবনে অসংখ্য প্রতিকূলতা। তবে ওরা ভয় পেয়ে থেমে থাকেনি। বর্ষার সময় ওরা স্কুলে আসতে পারত না। আবার স্কুল ছুটি হওয়ার এক ঘণ্টা আগে ওদের ছেড়ে দিতে হতো। এমন লড়াই করে যারা জীবনে এগিয়ে চলতে চায়, তাদের জন্য রইল শুভকামনা।
জলঙ্গির বিডিও সুব্রত মল্লিক বলেন, হাজারো প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ওরা যেভাবে লড়াই করছে, তা দেখে ভালো লাগছে। ওদের আগামীর জন্য শুভকামনা রইল।



