সংবাদদাতা, করিমপুর: প্রায় পাঁচ বছর আগে শুরু হলেও আজ পর্যন্ত শেষ হল না করিমপুরের অডিটোরিয়ামের কাজ। শুরু হওয়ার পর থেকে বারবার নির্মাণ কাজ থমকে থাকায় ক্ষুব্ধ এলাকার আমজনতা। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছর শীতকালে বহু সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য ভরসা করতে হয় অস্থায়ী মঞ্চের উপর। এই অডিটোরিয়ামটা সম্পূর্ণ হলে মানুষের অনুষ্ঠান করার জায়গার জন্য চিন্তা করতে হত না। জানা গিয়েছে, শীত এলেই অন্যান্য জায়গার মত উৎসবের আবহে মেতে ওঠে করিমপুর। এই সময়টায় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নাট্যোৎসবের মেজাজে থাকেন এলাকার সংস্কৃতি সম্পন্ন মানুষ ও বাসিন্দারা। এত আনন্দের মধ্যে অস্বস্তির কাঁটা অসম্পূর্ণ অডিটোরিয়াম। পাঁচ বছর আগে করিমপুর কেন্দ্রে উপনির্বাচনে তৃণমূলের জয়ের পর মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় আশায় বুক বেঁধেছিল সকলে যে, খুব শীঘ্রই এখানে একটা অডিটোরিয়াম হচ্ছে। সেই কাজটা শুরুও হয়েছিল। তবে মাঝ পথে কয়েকবার কাজ থমকে যাওয়ায় হতাশায় করিমপুর। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে বিভিন্ন নাট্যানুষ্ঠান শুরু হবে। করিমপুর শরৎস্মৃতি নাট্য সংস্থার সভাপতি দেবপ্রসাদ স্যান্যাল বলেন, আন্তর্জাতিক নাট্যমেলার জন্য প্রতি বছর বহু টাকা খরচ করে আমাদের অস্থায়ী মঞ্চ তৈরি করতে হয়। গত বছরেও তিনদিনের নাট্যোৎসবের জন্য মঞ্চ তৈরি করতে পঞ্চাশ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল। এখানে সরকারি অডিটোরিয়ামটি চালু হলে অনেক কম খরচে এবং আরও বেশিদিনের উৎসব করা সম্ভব হত। আমরা চাই এবছর না হলেও পরের বছর যেন নতুন অডিটোরিয়ামের আমাদের অনুষ্ঠান করতে পারি। জানা গিয়েছে, ২০১৯ সালে করিমপুর গ্রামীণ হাসপাতালের সামনে পূর্ত দপ্তরের জমিতে একটি অডিটোরিয়াম তৈরির কথা জানায় রাজ্য সরকার। তৎকালীন রাজ্য সভার তিন সাংসদ শুভাশিস চক্রবর্তী, মণীশ গুপ্ত এবং আবীররঞ্জন বিশ্বাসের সাংসদ তহবিল থেকে পাঁচ কোটি টাকা অনুমোদন করা হয়। ২০২১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর কাজের শিলান্যাস করে বারো হাজার স্কোয়ার ফুট জমিতে ২৮০ আসন বিশিষ্ট একটি অডিটোরিয়ামের কাজ শুরু হয়। ভবণ নির্মাণের কাজ হলেও অজানা কারণে বাকী কাজ স্তব্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে। করিমপুর ১ ব্লক তৃণমূল যুব কংগ্রেস সভাপতি সৌমিক সরকার বলেন, করিমপুরে বছরভর বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। এখানে অডিটোরিয়ামের খুব প্রয়োজন। এলাকার মানুষের দাবি পূরণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চার বছর আগে টাকা অনুমোদন করলেও এখন পর্যন্ত সেই কাজ হচ্ছে না। এটা প্রথম থেকে এলাকার বিধায়কের তত্বাবধানে হচ্ছে। তাই কেন হচ্ছে না সেটা বিধায়ক বলতে পারবেন।
Advertisement
করিমপুরের বিধায়ক বিমলেন্দু সিংহ রায় বলেন, কাজের দায়িত্ব রয়েছে পূর্ত দপ্তর। কাজ শুরুর পর থেকে একাধিক আধিকারিক বদলী হয়ে চলে যাওয়া দেরী হওয়ার প্রথম কারণ। এছাড়া ভবণ নির্মাণের কাজ শেষ। এরপরে বিদ্যুৎ সংযোগ, অডিটোরিয়ামে বৈদ্যুতিক কাজ এবং চারিদিকের প্রাচীর নির্মাণ করতে সময় লাগবে। এখন শেষ পর্যায়ের কাজ চলছে এবং খুব শীঘ্র বাকী কাজ শেষ হবে।



