নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: রেল ওয়ার্কশপের বাতিল সামগ্রী দিয়ে তৈরি করা হয়েছে মণ্ডপ। ফেলে দেওয়া ড্রাম, নাট-বোল্ট, টিন, ফাইলের কাগজ, কোচ তৈরির সামগ্রীর সাধারণত ঠাঁই হয় স্ক্র্যাপের স্তূপে। কিন্তু সেগুলিই এবার হয়ে উঠেছে বিশ্বকর্মা পুজোর মণ্ডপ ও প্রতিমা তৈরির মূল উপকরণ। ১২৬ বছরের ঐতিহ্যবাহী লিলুয়া রেল ওয়ার্কশপের পুজোয় রেলকর্মীদের এই অভিনব ভাবনা এবছর নজর কেড়েছে।
১৯০০ সাল থেকে লিলুয়া ওয়ার্কশপে বিশ্বকর্মা পুজো হচ্ছে। একসময় বিভিন্ন বিভাগে আলাদা আলাদা পুজো হত। বর্তমানে কেন্দ্রীয়ভাবে একটি বড়ো পুজোর আয়োজন হয়। এবছর ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সৃজনশীলতা। ওয়ার্কশপের বাতিল সামগ্রী পুনর্ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে মণ্ডপ। প্যান্ডেল সাজানোয় ব্যবহার করা হয়েছে পুরনো ফাইলের কাগজ। চমক শুধু উপকরণে নয়। প্রতিমায় রয়েছে বৌদ্ধ সংস্কৃতির ছোঁয়া। বুদ্ধদেবের আদলে তৈরি করা হয়েছে বিশ্বকর্মা মূর্তি। আবহসংগীতেও সেই ভাবনার প্রতিফলন। পাশাপাশি পরিত্যক্ত কোচ তৈরির সামগ্রী দিয়ে হয়েছে প্রেয়ার হুইল। সবমিলিয়ে পুজো মণ্ডপে শিল্প, প্রযুক্তি ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন। লিলুয়া ওয়ার্কশপের আধিকারিক চন্দন বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, এই উদ্যোগে শুধু আধিকারিকরাই নন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছেন কোচের কারপেন্টার, ওয়েল্ডার ও ফিটার কর্মীরা। ফেলে দেওয়া সামগ্রী দিয়েও যে এমন আয়োজন সম্ভব, সে বার্তাই দেওয়া হয়েছে পুজোর মধ্য দিয়ে।
লিলুয়ার পাশাপাশি হাওড়ার একাধিক রেল ও পরিবহণ প্রতিষ্ঠানে বিশ্বকর্মা পুজো পালিত হয়েছে। সাঁতরাগাছি ওয়ার্কশপ এবং বাস স্ট্যান্ডগুলিতে পুজোয় সামিল হন মন্ত্রী-বিধায়করা। হাওড়ার সিইএসসি দপ্তর ও সিটিসি বাস স্ট্যান্ডের বিশ্বকর্মা পুজোয় যোগ দেন পুর প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই। সাঁতরাগাছি রেল ইয়ার্ডের পুজোয় যান শিবপুরের বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ। যন্ত্র ও প্রযুক্তির দেবতার আরাধনায় হাওড়ার শিল্প, রেল ও পরিবহণ কর্মী সহ জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। নিজস্ব চিত্র