সংবাদদাতা, পতিরাম: বিচ্ছিন্ন দ্বীপের ন্যায় বালুরঘাট ব্লকের জলঘর গ্রাম পঞ্চায়েতের ছোট দেওড়া গ্রাম। বিগত দিনে একাধিকবার ভোট বয়কটের কারণে এই গ্রাম খবরের শিরোনামে উঠে এসেছিল। ইস্যু একটাই গ্রামে ঢোকার মাটির রাস্তা পাকা করতে হবে। অন্যদিকে, কাশিয়াখাড়িতে সেতু নেই। তাই শিক্ষা থেকে স্বাস্থ্য সব কিছুতে পিছিয়ে গ্রামবাসীরা। গত পঞ্চায়েত থেকে বিধানসভা সব ভোটই বয়কট করেছিলেন গ্রামবাসীরা। তবে প্রশাসনের আশ্বাসে তাঁরা লোকসভা ভোট দিয়েছিলেন। মঙ্গলবার সেই গ্রামেই রাস্তার কাজের সূচনা হল। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের তরফে ১ কোটি ৪১ লক্ষ টাকা ব্যয়ে অত্যাধুনিক মানের রাস্তা তৈরি হচ্ছে। এদিন ২ কিমি রাস্তার কাজের সূচনা করেন দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলা পরিষদের সভাধিপতি চিন্তামণি বিহা। এতে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের সদস্য সুভাষ ভাওয়াল, কল্পনা মুর্মু, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অরূপ সরকার সহ অন্যান্যরা। চিন্তামণি বিহা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই রাস্তার দাবি ছিল গ্রামবাসীদের। অবশেষে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের তহবিলের ১ কোটি ৪১ লক্ষ টাকা ব্যয়ে রাস্তার কাজ সূচনা হল। বালুরঘাট পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অরূপ সরকার বলেন, একাধিকবার ভোট বয়কট করেছিলেন গ্রামবাসীরা। আমরা বিষয়টি নিয়ে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরে একাধিকবার জানিয়েছিলাম। অবশেষে এই রাস্তা হচ্ছে। আমরা গ্রামবাসীদের পাশে রয়েছি। এদিন রাস্তার কাজের সূচনায় খুশির হাওয়া গ্রামজুড়ে। তবে গ্রামবাসীদের দাবি, রাস্তা হচ্ছে। এবার কাশিয়া খাঁড়ির উপরে একটি সেতু তৈরি করতে হবে। এবিষয়ে গ্রামের বাসিন্দা অজিত সরকার, পরেশ সরকাররা বলেন, মাটির রাস্তা দিয়ে আমরা বর্ষাকালে চলাচল করতে পারি না। রাস্তার কারণে আমাদের গ্রামের সমস্ত উন্নয়ন পিছিয়ে রয়েছে। এবারে খানিকটা উন্নয়ন আমাদের গ্রামে এসে পৌঁছবে। তবে এবার ব্রিজ করতে হবে। বালুরঘাট শহরের কাছেই ছোট দেওরা গ্রাম যেন বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। উন্নয়নের দাবিতে ২০২১ সালের বিধানসভার পর ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত ভোটও বয়কট করেছিলেন গ্রামবাসীরা। একাধিকবার রাস্তা অবরোধ করেও বিক্ষোভ দেখান। এমনকী ভোটের সময় নেতা-নেত্রীরা প্রচারে এলেও তাঁদের ঘিরে বিক্ষোভ দেখান হতো। তাই রাস্তা না হওয়ায় প্রশাসন কিংবা জনপ্রতিনিধারা কেউ ওই গ্রামে ঢুকতে পারতেন না। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, ওই রাস্তা এবং খাঁড়ির কারণে তাঁরা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য থেকে যেমন পিছিয়ে ছিলেন, তেমনি গ্রামের মেয়েদের ও ছেলেদের বিয়েও হতো না। এবারে সেই সমস্ত কিছুই দূর হয়ে যাচ্ছে। ওই এলাকারই পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য মলয় কুমার মণ্ডল বলেন, এই গ্রামে ৫৫০ ভোটার এবং দুই হাজারের বেশি বাসিন্দা রয়েছেন। আমরা বহু চেষ্টা করে এই রাস্তা করছি। আগামীতে আমরা ব্রিজ তৈরির চেষ্টা করব।



