Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘ক্লিক... ক্লিক’ শব্দে পটুয়াপাড়া যেন টলিউড

আচমকা দেখলে মনে হবে টলিউডের স্টুডিওপাড়া উঠে এসেছে উত্তরের পটুয়াপাড়ায়। পুজো যত এগিয়ে আসছে, কুমোরটুলির অলিগলিতে মৃৎশিল্পীদের ঘরে সুবেশা তরুণ‑তরুণীদের ভিড় ততই বাড়ছে।

‘ক্লিক... ক্লিক’ শব্দে পটুয়াপাড়া যেন টলিউড
  • ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুকান্ত বসু, কলকাতা: আচমকা দেখলে মনে হবে টলিউডের স্টুডিওপাড়া উঠে এসেছে উত্তরের পটুয়াপাড়ায়। পুজো যত এগিয়ে আসছে, কুমোরটুলির অলিগলিতে মৃৎশিল্পীদের ঘরে সুবেশা তরুণ‑তরুণীদের ভিড় ততই বাড়ছে। শুধু মাতৃপ্রতিমার সামনে ছবি তোলা নয়, একেবারে শ্যুটিংয়ের কায়দায় ক্যামেরা চলছে কুমোরটুলিতে। কখনও কখনও কানে ভেসে আসছে, লাইট, ক্যামেরা, অ্যাকশন...। ঝলমলে পোশাকে ক্যামেরার সামনে নানা ভঙ্গিমায় সংলাপ দিয়ে চলেছেন তরুণ-তরুণীরা। ভিডিওর সঙ্গে চলছে স্থিরচিত্র গ্রহণের কাজও। অনবরত ক্লিক...ক্লিক...ক্লিক শব্দ। 

Advertisement

কুমোরটুলির বনমালি সরকার স্ট্রিট, রবীন্দ্র সরণি, কুমোরটুলি স্ট্রিট সহ বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে রয়েছে মৃৎশিল্পীদের একের পর এক স্টুডিও। প্রতিটি ঘরেই সারি দিয়ে রাখা রয়েছে দেবী দুর্গার মূর্তি। সঙ্গে লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ। কোথাও কোথাও দেখা মিলল বিশ্বকর্মারও। চারদিকেই জোরকদমে চলছে প্রতিমা গড়ার কাজ। কোথাও চলছে প্রতিমার গায়ে রং করার কাজ, কোথাও আবার মাটির উপর লেগেছে সাদা প্রাইমার। মৃৎশিল্পীদের নাওয়া-খাওয়ার সময় নেই।
এর মধ্যেই পটুয়াপাড়ায় ভিড় জমিয়েছেন পুজোর উদ্যোক্তা থেকে শুরু করে আলোকচিত্রীরা। নানা বিচিত্র পোশাকে এসেছেন নতুন প্রজন্ম। সেলফি, গ্রুফি তো উঠছেই, তার পাশাপাশি রীতিমতো বড় বড় ক্যামেরা নিয়ে এসে চলছে শ্যুটিং। কেউ কেউ মা দুর্গার সঙ্গে গা সাঁটিয়ে দাঁড়িয়ে তুলছেন ছবি। সকালের ফটো সেশন দেখে বোঝার উপায় নেই, এটা বনমালি সরকার স্ট্রিট, নাকি টলিপাড়া। সেখানেই এক মৃৎশিল্পী ঘরের সামনে লালপাড় সাদা শাড়ি পড়া এক তরুণীকে দেখা গেল পদ্ম হাতে দাঁড়িয়ে। কে জানে, রিল হবে নাকি স্টোরি! তবে ওই তরুণী ঠিকমতো পোজ না দেওয়ায় বারে বারে ‘কাট’ করতে হচ্ছিল ক্যামেরাম্যানকে। এমনকী, চওড়া হাসির জন্যও মাঝে মাঝে ধমক খেতে হয়েছে তাঁকে। ক্যামেরার ওপারে থাকা দুই যুবককে এগিয়ে এসে বলতে শোনা গেল, অত হাসতে হবে না। হাসি হাসি মুখ থাকলেই হবে।
কিছুটা এগতেই দেখা গেল, একচালার প্রতিমার সামনে ঠায় দাঁড়িয়ে দুই তরুণী। অ্যাঙ্গল পছন্দ না হওয়ায় ক্যামেরাম্যান বারে বারে তাঁদের একটু ডানে, একটু বাঁয়ে বলে নির্দেশ দিচ্ছিলেন। পাশেই এক চায়ের দোকানে দেখা গেল এক যুগলকে তৃপ্তির ভাঁড়ে চুমুক দিতে। যুবকটি ক্যামেরা রোল করে দেখাচ্ছেন সদ্য তোলা ছবিগুলি। তা দেখে খুশিতে ডগমগ তরুণী। কুমোরটুলি ঘাট সংলগ্ন এক শিল্পীর ঘরে দুর্গার বাহন সিংহের কেশর ঘেঁষে দাঁড়িয়ে এক কন্যা। ফটোগ্রাফারের ফোকাসে বনের রাজা। সিংহের ছবিটা ঠিকঠাক উঠেছে কি না, জানতে চাইলে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ তুলে সাড়া দিলেন আলোকচিত্রী।
বেলা যত গড়িয়েছে, এমন নানা দৃশ্য চোখে পড়েছে কুমোরটুলির আনাচে কানাচে। এই কোলাহলের মধ্যেই ক্যামেরার সামনে পোজ দিতে দিতে এক তরুণীকে ফোনে বলতে শোনা গেল, ‘বোন, মাকে বলে দে, বাড়ি ফিরতে সন্ধ্যা হয়ে যাবে’। সব মিলিয়ে পুজোকে ঘিরে কুমোরটুলির পটুয়াপাড়া যেন পরিণত হয়েছে টলিপাড়ায়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ