নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: নদীয়া জেলার কৃষ্ণগঞ্জ ব্লকে কালাজ্বর এক বাংলাদেশি নাগরিকের সন্ধান মেলায় উদ্বিগ্ন স্বাস্থ্যদপ্তর। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) প্রতিনিধি দল রোগীর সঙ্গে কথা বলতে নদীয়ায় আসে। জানা গিয়েছে, আক্রান্ত ব্যক্তি চিকিৎসার জন্য ভারতে এসেছিলেন। তিনি কৃষ্ণগঞ্জে তাঁর এক আত্মীয়ের বাড়িতে রয়েছেন এবং সেখানকার গ্রামীণ হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছে। আক্রান্ত ব্যক্তিকে দু’ সপ্তাহ কৃষ্ণগঞ্জে রেখে চিকিৎসা করা হবে। এরপর এক মাসের ওষুধ দিয়ে তাঁকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। ওষুধ শেষ হলে তাঁকে আবার ভারতে এসে চিকিৎসা করাতে হবে।
নদীয়া জেলার সহ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক পরাশর পোদ্দার এই খবরের নিশ্চয়তা স্বীকার করে জানিয়েছেন, হু-র প্রতিনিধি দল এসে রোগীকে পর্যবেক্ষণ করেছেন। আমরাও রোগীকে নজরদারিতে রেখেছি।
স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন ধরেই ওই ব্যক্তি বিভিন্ন উপসর্গে ভুগছিলেন। ত্বক ছিল আঁশের মতো। একাধিকবার ভারতে এসে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করান। কিন্তু সুস্থ হননি। চলতি মাসে তিনি ফের বাংলাদেশ থেকে ভারতে এসে কৃষ্ণগঞ্জের আত্মীয়ের বাড়িতে ওঠেন। সেখানকার গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে যান। চিকিৎসকের নির্দেশে স্বাস্থ্যদপ্তরের তরফ থেকে তাঁর কালাজ্বর পরীক্ষা করানো হয়। তাতে রিপোর্টে পজিটিভ আসে। পরিস্থিতি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে তৎক্ষণাৎ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি প্রতিনিধি দল নদীয়া জেলায় আসে। কৃষ্ণগঞ্জের ওই রোগীর শারীরিক অবস্থা খতিয়ে দেখে। স্বাস্থ্যদপ্তরের তরফ থেকেও ওই রোগীকে কড়া নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
বাইরের দেশের রোগীর শরীরে কালাজ্বরের হদিশ মেলায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে নদীয়া জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও পাবলিক হেলথ অ্যান্ড কমিউনিকেবল ডিজিজ বিভাগের আধিকারিক পৌলোমী ঘোষ জানান, কৃষ্ণগঞ্জ নদীয়ার একটি নন-এনডেমিক ব্লক। সেখান থেকে কালাজ্বর রোগী শনাক্ত হওয়া প্রমাণ করে, আমাদের নজরদারি যথেষ্ট কার্যকর। এনডেমিক ব্লকের বাইরেও কালাজ্বর নিয়ে বাড়িত সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
নদীয়া জেলায় দীর্ঘদিন পর ফের কালাজ্বরের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৮ সাল থেকে ২০২৩ সালের মধ্যবর্তী সময়ে জেলায় নতুন করে কোনও কালাজ্বর আক্রান্ত রোগীর সন্ধান মেলেনি। কিন্তু ২০২৩ এবং ২০২৪ সালে একাধিক ব্লকে বিচ্ছিন্নভাবে এই রোগের প্রভাব লক্ষ্য করা গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে চলতি বছর স্বাস্থ্যদপ্তরের তরফে কালাজ্বর রোগী চিহ্নিত করতে জেলায় বিশেষ সমীক্ষা পরিচালনা করা হয়। -নিজস্ব চিত্র