সংবাদদাতা, বহরমপুর: মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওপিডি বিভাগে রোগীর চাপ বাড়ায় জটিলতা বাড়ছে। চিকিৎসা করাতে এসে অনেকেই দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ। সকাল থেকেই টিকিট কাউন্টারের সামনে লম্বা লাইন পড়ছে। দুপুর গড়িয়ে বিকাল পর্যন্ত রোগীর লাইন থাকছে। চিকিৎসা এবং সরকারি কাউন্টারে ওষুধ নিতে নিতে সন্ধ্যা নেমে আসছে। দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওপিডি বিভাগের পরিকাঠামো নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন তুলছেন। রোগীদের হয়রানি মেটাতে টিকিট কাউন্টারের সংখ্যা বাড়ানোর দাবি তুলছেন রোগী ও তাঁদের আত্মীয়রা। তাঁদের দাবি, বহু বয়স্ক, শারীরিকভাবে বিশেষ সক্ষম রোগীকেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। ওপিডিতে চিকিৎসার জন্য ভোরবেলায় পৌঁছে বাড়ি ফিরতে রাত হয়ে যাচ্ছে।
মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এমএসভিপি অনাদি রায়চৌধুরী বলেন, ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের সংখ্যা খুবই কম রয়েছে। নির্বাচন প্রক্রিয়া মিটে গেলে আরও কর্মী নিয়োগ করে কাউন্টারের সংখ্যা বাড়ানো হবে।
জেলা ও জেলার বাইরে নদীয়া ও বীরভূম থেকে বহু রোগী মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসেন। সপ্তাহের সোম থেকে শনি ছ’দিন ওপিডি বিভাগ খোলা থাকে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, গড়ে প্রতিদিন সাড়ে পাঁচ হাজার রোগী চিকিৎসার জন্য এখানে আসেন। এত সংখ্যক রোগীর জন্য মাত্র ছ’টি টিকিট কাউন্টার রয়েছে। এরমধ্যে একটি শিশু বিভাগ ও একটি ক্যানসার বিভাগের রোগীর জন্য বরাদ্দ। সাধারণ রোগীদের ক্ষেত্রে পুরুষ ও মহিলাদের জন্য দু’টি করে কাউন্টার রয়েছে। কোনো কোনো দিন রোগীর লাইন মেডিকেল কলেজের মেইন গেট ছাড়িয়ে যায়। রোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালের ওপিডিতে চরম অব্যবস্থা। লাইনে দাঁড়িয়ে সারগাছির বাসিন্দা দিলরুবা খাতুন ক্ষোভ উগরে দিয়ে বললেন, মাথার উপর টিনের ছাউনি। না আছে কোন ফ্যানের ব্যবস্থা, না আছে জলের ব্যবস্থা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দুর্বিষহ গরমে সবাইকে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। অবিলম্বে পরিকাঠামো উন্নয়নের দরকার। দৌলতাবাদ থেকে বাবার চিকিৎসার জন্য আসা বিরাজ বিশ্বাস বলেন, সকাল ৮টায় এসেছি। এখন দুপুর ২টো বাজছে। কখন বাড়ি ফিরতে পারব জানি না। টিকিট কাউন্টারের সংখ্যা বাড়ালে কিছুটা হলেও রোগীদের দুর্ভোগ কমবে। টিকিট কাউন্টারের সামনে গাছতলায় বসেছিলেন খোসবাসপুরের আরসিদা বেওয়া। তিনি বলেন, বহুক্ষণ ধরে বসে আছি। নাতি লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছে। ডাক্তার দেখানোর পর আবার ওষুধ নিতে লাইনে দাঁড়াতে হবে।
যদিও মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। চিকিৎসা করাতে এসে রোগী ও তাঁদের আত্মীয়দের যে দুর্ভোগ পোহাতে হয়, তা নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছে। তাঁদের দাবি, টিকিট কাউন্টারের সংখ্যা বাড়ালেই রোগীদের দুর্ভোগ অনেক কমবে। নিজস্ব চিত্র