Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চোর ভেবে রোগীকে মার, নার্সিংহোম থেকে নিখোঁজ, পরে উদ্ধার

চোর ভেবে রোগীকে মার, নার্সিংহোম থেকে নিখোঁজ, পরে উদ্ধার
  • ২১ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: ফের ফুলবাড়িতে এক ব্যক্তিকে চোর সন্দেহে মারধর করার অভিযোগ উঠল অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। গুরুতর জখম অবস্থায় রাস্তার ধারে পড়ে থাকা ওই ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য ফুলবাড়ির একটি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসার জন্য মেয়ের সঙ্গে নার্সিংহোমেই এসেছিলেন তিনি। মানসিকভাবে অসুস্থ ওই প্রৌঢ় চিকিৎসক দেখানোর আগেই সকলের অলক্ষ্যে বেরিয়ে যান। উদ্‌ভ্রান্তের মতো ঘুরতে থাকায় চোর সন্দেহে তাঁকে মারধর করে কিছু লোক। 

Advertisement

গত সপ্তাহেই ফুলবাড়িতে এক ভবঘুরেকে চোর সন্দেহে মারধর করার সময় বাধা দিতে গিয়ে এনজেপি থানার পুলিস কর্মীরা শারীরিক হেনস্তার শিকার হন। ওই ঘটনায় দু’জন গ্রেপ্তার হলেও এখন প্রায় ১৫ জন অভিযুক্ত পলাতক। এবার একজন রোগীকে মারধরের ঘটনা ঘটল। পরপর এমন ঘটনা নিয়ে পুলিস মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। 
রাজগঞ্জের ভদ্রেশ্বরের বাসিন্দা জিতা ওরাওঁ মেয়ে সুনীতার সঙ্গে ফুলবাড়ির একটি নার্সিংহোমে বুধবার চিকিৎসা করতে আসেন। সুনীতা ওই নার্সিংহোমেই কাজ করেন। বাবাকে রিসেপশনে বসিয়ে ভর্তির প্রস্তুতিতে যান সুনীতা। কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে দেখেন বাবা নেই। এরপরই খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। সোশ্যাল মিডিয়াতেও ছবি পোস্ট করেন। বৃহস্পতিবার প্রাতর্ভ্রমণে বেরিয়ে স্থানীয় কয়েকজন সংশ্লিষ্ট নার্সিংহোম থেকে এক কিমি দূরে পশ্চিম ধনতলায় জিতা ওরাওঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁরাই থানায় খবর দেন। পুলিস আসার আগেই প্রৌঢ় জিতা ওরাওঁকে ফুলবাড়ির নার্সিংহোমে ভর্তি করেন। বিষয়টি জানতে পেরে প্রৌঢ়ের মেয়ে সুনীতা ও ছেলে রাজেশ হাসপাতালে পৌঁছন। জিতা ওরাওঁ জানান, বুধবার নার্সিংহোম থেকে বেরিয়ে পশ্চিম ধনতলায় একটি বাড়িতে জল খেতে ঢুকেছিলেন। দিকভ্রষ্ট হয়ে সেখানে ঘোরাঘুরি করছিলেন। রাতে কয়েকজন মারধর করে। সুনীতা ওরাওঁ বলেন, বাবাকে কেন মারধর করা হয়েছে বুঝতে পারলাম না। পুলিস বিষয়টি খতিয়ে দেখুক। 
প্রৌঢ়ের পায়ে গভীর ক্ষতচিহ্ন মিলেছে। যা দেখে পুলিসের প্রাথমিক অনুমান ধারালো অস্ত্র দিয়ে পায়ে আঘাত করা হয়েছিল। যদিও এ নিয়ে এনজেপি থানায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত লিখিত কোনও অভিযোগ জমা পড়েনি। তবুও পুলিস স্বতঃস্ফূর্তভাবে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। এলাকায় বারবার এমন ধরনের ঘটনায় পুলিস মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। 
শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিসের ডিসিপি (পূর্ব) রাকেশ সিং বলেন, যদি এমন ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে তা খুবই উদ্বেগজনক। আইন যাতে নিজের হাতে কেউ তুলে না নেয়, সেব্যাপারে প্রচারে নামা হবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ