Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

পিচে জুজু নেই, কমছে ব্যাটারদের ধৈর্য: সম্বরণ

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালে প্রথম দু’দিনে পড়েছিল ২৮ উইকেট, যা দেখে অনেকেই ভ্রু কোঁচকাচ্ছিলেন। কেউ কেউ তো পিচ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে ব্যস্ত। তবে ভারতের প্রাক্তন নির্বাচক তথা বাংলার রনজি জয়ী দলের ক্যাপ্টেন সম্বরণ বানার্জির স্পষ্ট কথা, ‘ব্যাটারদের ব্যর্থতার জন্য সব সময় উইকেটকে দায়ী করা ঠিক নয়। আসলে সাদা বলের ক্রিকেট খেলতে খেলতে ধৈর্য অনেক কমেছে।

পিচে জুজু নেই, কমছে ব্যাটারদের ধৈর্য: সম্বরণ
  • ১৪ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুকান্ত বেরা, কলকাতা: বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালে প্রথম দু’দিনে পড়েছিল ২৮ উইকেট, যা দেখে অনেকেই ভ্রু কোঁচকাচ্ছিলেন। কেউ কেউ তো পিচ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে ব্যস্ত। তবে ভারতের প্রাক্তন নির্বাচক তথা বাংলার রনজি জয়ী দলের ক্যাপ্টেন সম্বরণ বানার্জির স্পষ্ট কথা, ‘ব্যাটারদের ব্যর্থতার জন্য সব সময় উইকেটকে দায়ী করা ঠিক নয়। আসলে সাদা বলের ক্রিকেট খেলতে খেলতে ধৈর্য অনেক কমেছে। লর্ডসের পিচে কোনও জুজু নেই। না হলে মিচেল স্টার্ক (১৩৬ বলে অপরাজিত ৫৮) তিন ঘণ্টার বেশি সময় ব্যাট করল কীভাবে? শুক্রবার মার্করাম ও বাভুমাও দেখিয়ে দিল, টিকে থাকতে পারলেই রান আসবে। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে এই ধৈর্যেরই অভাব ছিল। উইকেট ছুড়ে দেয় ব্যাটাররা। দ্বিতীয় ইনিংসে মার্করাম ও বাভুমা অবশ্য ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে দলকে চ্যাম্পিয়ন করার জন্য দুর্দান্ত লড়ছে। কিন্তু প্রোটিয়া ওপেনার রিকেলটন বড়ই ছটপটে। দুই ইনিংসেই অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে উইকেট উপহার দিয়েছে বাঁ হাতি ব্যাটার। এদের দেখে করুণা হয়। মনে হচ্ছে, আইপিএল ফাইনালের ঘোর এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি। আসলে সপ্তাহ ঘুরতে না ঘুরতেই সাদা জার্সি পরে নেমে পড়েছে টেস্ট খেলতে। শরীরটাই শুধু স্থান বদল করেছে, মানসিকতায় পরিবর্তন ঘটেনি। এখনকার ব্যাটারদের উচিত রাহুল দ্রাবিড়ের ভিডিও ফুটেজ দেখা। ফ্রন্টফুটেও কীভাবে বল ছাড়তে হয়, তা ও দেখিয়েছে।’

Advertisement

সাড়ে তিন দিনেই ফয়সালা হওয়ার পথে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনাল। তা নিয়ে অবশ্য কোনও হা-হুতাশ নেই সম্বরণের। তিনি বলছেন, ‘এই ট্রেন্ড তো গত কয়েক বছর ধরেই চলছে। এটার সঙ্গে আমরা ধাতস্থ হতে পারছি না। কারণ, চোখের সামনে ছয়-সাতের দশকের ছবি ভেসে বেড়াচ্ছে। বিশ্বাস করুন, বর্তমানে টেস্ট ক্রিকেট আমূল বদলে গিয়েছে। এর জন্য দায়ী কোচেরাও। ম্যাকালাম চালু করেছেন বাজবল ক্রিকেট। তাঁর চাহিদা, ওভার পিছু পাঁচের উপর রান রেট। গম্ভীরও কম যান না। অবলীলায় বলেন, খেলার ফল যাই হোক, আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলব। এই ধরনের টার্গেট সেট করে দিলে ব্যাটাররা কী করবে? বল ছাড়ার অভ্যাসটাই নষ্ট হয়ে গিয়েছে। বেড়েছে ভুল শট খেলার প্রবণতা। আমার মনে পড়ে, ইংল্যান্ড সফরের জন্য সুনীল গাভাসকর মাস দুয়েক আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতেন। দাদারের ইউনিয়ন ক্লাবে মার্শল পাতিলের বলে প্রত্যেকদিন দু’ঘণ্টা শুধু বল ছাড়া অভ্যাস করতেন সানি। তার সুফলও মিলেছে। ৭৯’র সফরে ওভালে গাভাসকরের অনবদ্য ২২১ রানের ইনিংস আজও মনে গেঁথে রয়েছে ক্রিকেটপ্রেমীদের। এখন দু’মাস টি-২০ খেলে কোটি কোটি টাকা উপার্জনের হাতছানি। সেখানে টেস্ট খেলে মেরেকেটে কয়েক লাখ পাওয়া যাবে। টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ কমছে। পড়ছে খেলার মানও। বাস্তবটা আমাদের মেনে নিতেই হবে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ