Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

করিমপুরে পটলের উৎপাদন খুব ভালো, কিন্তু তেমন দাম না পাওয়ায় চিন্তায় চাষিরা

করিমপুরে পটলের উৎপাদন খুব ভালো, কিন্তু তেমন দাম না পাওয়ায় চিন্তায় চাষিরা
  • ২০ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, করিমপুর: পটলের উৎপাদন ভালো হওয়া সত্ত্বেও বিপাকে পড়েছেন করিমপুরের আনাজ চাষিরা। বেশি ফলনের পরেও কম দামের কারণে পটল চাষের খরচ উঠবে না বলে অভিযোগ চাষিদের। তাঁরা জানান, এলাকার করিমপুর, মহিষবাথান, সুন্দলপুরে সপ্তাহের দু’দিন ছাড়াও বাড়ির কাছে রাজাপুরে প্রতিদিন পাইকারি আনাজের হাটে এলাকার চাষিরা জমির কাঁচা সব্জি বিক্রি করেন। মাস দুয়েক আগে পটলের উৎপাদন কম হলেও তখন ৩৭ টাকা কেজি দরে পটল বিক্রি হয়েছে। তবে তারপর থেকে সময় যত গড়িয়েছে, পটলের দাম তলানিতে ঠেকেছে। শেষ পর্যন্ত ২০ টাকা, ১৫ টাকা কেজি থেকে বুধবার এক কেজি পাইকারি পটল মাত্র আড়াই টাকা দরে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন চাষিরা। 

Advertisement

হোগলবেড়িয়ার পটল চাষি উত্তম মণ্ডল বলেন, এবছর প্রায় দুই বিঘা জমিতে পটলের চাষ হয়েছে। বুধবার প্রায় তিন কুইন্টাল পটল নিয়ে হাটে গিয়েছিলাম। বিক্রি করে পেয়েছি মাত্র ৭৫০ টাকা। এভাবে চলতে থাকলে চাষের খরচই তো  উঠবে না। শ্রমিক লাগিয়ে পটল খেতে জমে ওঠা নোংরা-আবর্জনা পরিষ্কার করা বা সার দেওয়ার সামর্থ্যও নেই। চাষিদের দাবি, গত বছরেও এই সময়ে হাটে পটলের পাইকারি দর ছিল ১০-১২ টাকা কেজি। এ বার দর পাওয়া যাচ্ছে না। করিমপুরের চাষি লিয়াকত মণ্ডল প্রায় এক বিঘা জমিতে পটল চাষ করেছেন। তিনি জানান, বিঘে প্রতি পটল চাষে খরচ হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার টাকা। অথচ এখন প্রতি কেজি পটল পাইকারি ৪-৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গতদিন সেই পটল বিক্রি হয়েছে মাত্র আড়াই টাকায়। 
চাষিদের একাংশের অভিযোগ, হাটে পটলের পাইকারি দর ঠিক করেন ফড়েরা। তাঁদের বেঁধে দেওয়া দরেই আমাদের বিক্রি করতে হয়। ফড়েরা আমাদের কাছ থেকে পটল কিনে কারবারিদের কাছে বেশি দামে বিক্রি করেন। জমির কাঁচা মাল বিক্রি না করে রেখে দেওয়াও সম্ভব নয়। সেই সুযোগ নেন ব্যবসায়ীরা। মুরুটিয়ার চাষি সুজন সেখ জানান, এক বিঘে জমিতে পটল চাষ করেছেন তিনি। পটলের জন্য জমি তৈরি করা, সার দেওয়া, মাচা তৈরি করা, শ্রমিক খরচ মিলিয়ে বিঘে প্রতি জমিতে কুড়ি হাজার টাকার মতো খরচ হয়। কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাসে তিনি পটল লাগিয়েছিলেন। চৈত্র-বৈশাখে ফলন শুরু হয়েছে। চলবে শীতের আগে পর্যন্ত। সম্প্রতি কেজি প্রতি আড়াই টাকা দরেও পটল বিক্রি করেছেন। রাজাপুর হাটের এক পাইকারি ব্যবসায়ী উৎপল বিশ্বাস বলেন, এখানকার পটল ট্রাক বোঝাই হয়ে রাজ্যের বিভিন্ন শহরের পাশাপাশি ওড়িশা, বিহার কিংবা দিল্লিতেও পাঠানো হয়। বর্তমানে বিহারে স্থানীয় পটল উৎপাদন হওয়ায় চাহিদা কমেছে। এছাড়াও শুধুমাত্র রাজাপুর হাটেই প্রতিদিন প্রায় একশো কুড়ি টন পটলের আমদানি হচ্ছে। ফলে চাহিদার তুলনায় আমদানি অনেক বেশি হওয়ার ফলে দাম এত কমে গিয়েছে।   

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ