নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পাসপোর্ট তৈরির জন্য জন্মের ভুয়ো শংসাপত্র তৈরির ঘটনায় অভিযুক্ত পাঠানখালি পঞ্চায়েতের চুক্তিভিত্তিক কর্মী গৌতম সরদারের নতুন ‘কীর্তি’ সামনে এল। লাইসেন্সবিহীন নার্সিংহোমে জন্মানো শিশুদেরও সরকারি বার্থ সার্টিফিকেট তৈরি করে দিয়েছেন টাকার বিনিময়ে। নথি ছাড়াই নবজাতকদের নাম পঞ্চায়েতের পোর্টালে আপলোড করে দেন বলে অভিযোগ। বাসন্তী এলাকার লাইসেন্সবিহীন একটি বেসরকারি নার্সিংহোমের মালিকের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে বার্থ সাটিফিকেট বিক্রির চক্র চালাচ্ছিলেন গৌতম। নতুন এই বিষয়টি সামনে আসতেই মঙ্গলবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বাসন্তী এলাকার একটি বেসরকারি নার্সিংহোমের মালিক রহমতুল্লা মোল্লাকে।
পাসপোর্টের আবেদন করার জন্য জন্মের ভুয়ো শংসাপত্রের জোগান দিচ্ছে পাঠানখালি গ্রাম পঞ্চায়েত। এই কাজ করছে সেখানকার চুক্তি ভিত্তিক কর্মী গৌতম সরদার। প্রতারণা, জালিয়াতি সহ একাধিক ধারায় কেস রুজু করে গ্রেপ্তার করা হয় গৌতমকে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, শুধু পাসপোর্ট তৈরির জন্য ভুয়ো বার্থ সার্টিফিকেটই নয়, লাইসেন্সবিহীন নার্সিংহোমে জন্ম হওয়া শিশুদের শংসাপত্রও তৈরি করে দিয়েছে সে। রহমতুল্লা খান নামে এক বেআইনি নার্সিংহোম মালিককে চিহ্নিত করেন তদন্তকারীরা। ২০২২ -২০২৫ পর্যন্ত পাঠানখালি পঞ্চায়েত থেকে ইস্যু হওয়া বার্থ সার্টিফেকেটের নথি পরীক্ষা করতে গিয়ে তদন্তকারীরা দেখেন, রহমতুল্লার নার্সিংহোমে জন্মানো বাচ্চাদেরও শংসাপত্র রয়েছে। অথচ ২০২২-২৪ পর্যন্ত এই নার্সিংহোমের কোনও লাইসেন্সই ছিল না। তদন্তকারীরা জানতে পারেন, গৌতমই জন্ম শংসাপত্রের জোগানদার। এখনও পর্যন্ত রহমতুল্লার নার্সিংহোম থেকে জন্মানো ২০টি বাচ্চার জন্ম শংসাপত্র পাঠানখালি পঞ্চায়েত থেকে দেওয়া হয়েছিল বলে জেনেছেন অফিসাররা। তবে এর সংখ্যাটা আরও বাড়বে। গ্রেপ্তারের পর রহমতুল্লা জানিয়েছে, তাঁর নার্সিংহোমের অনুমতি না থাকায়, স্থানীয় পঞ্চায়েত থেকে বার্থ সার্টিফিকেট ইস্যুর সম্ভাবনা ছিল না। সেই কারণে যোগাযোগ করেন পাঠানখালির গৌতমের সঙ্গে। টাকার বিনিময়ে বার্থ সার্টিফিকেট তৈরি করান। তদন্তকারীরা জেনেছেন, বাসন্তী, ক্যানিং এলাকার এরকম একাধিক লাইসেন্সবিহীন নার্সিংহোমের মালিক গৌতমের মাধ্যমে জন্মের সার্টিফিকেট পেয়েছেন। যার নথিও এসেছে। সেগুলি কাটাছেঁড়ার কাজ চলছে।