নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ঘটনা ১: এয়ারপোর্ট থেকে হাওড়াগামী এসি-৩৯ বাস। দু’জনের ভাড়া হয়েছে ৮০ টাকা। কিন্তু যাত্রীকে ১২০ টাকা ফেরত দিতে অপারগ কনডাক্টর। কারণ, ১০ বা ২০ টাকার নোট নেই। একচোট কথা কাটাকাটিও হয়ে গেল তা নিয়ে। অবশেষে অন্য এক যাত্রী ত্রাতার ভূমিকা নিলেন। কনডাক্টরকে ১০০ টাকা খুচরো করে দিতেই সমস্যার সমাধান হল।
ঘটনা ২: বিরাটি থেকে বাবুঘাট, ২৩৭ নম্বর রুটের বাস। এয়ারপোর্ট থেকে উল্টোডাঙা যাবেন এক যাত্রী। কনডাক্টরকে ধরিয়ে দিলেন একটা ৫০ টাকার নোট। কনডাক্টর কিছুতেই সেটি নেবেন না। ৩৫ টাকা যাত্রীকে ফেরৎ দেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়! অবশেষে অন্যান্য যাত্রীদের টিকিট কাটার পর ওই যাত্রীকে ৩৫ টাকা ফেরত দিতে পারলেন তিনি।
এসব শহরের কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়! বরং রাস্তাঘাটে গণপরিবহণে প্রতি নিয়ত মানুষকে এভাবেই খুচরো সংক্রান্ত ঝামেলায় পড়তে হচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি বাসে কোনও না কোনও যাত্রীর সঙ্গে কনডাক্টরের বচসা কানে আসবেই। এই পরিস্থিতিতে যাত্রীমহল থেকে দাবি উঠছে, বাজারহাট থেকে চা-জলখাবারের দোকান—সর্বত্র এখন কিউআর কোড স্ক্যান করে টাকা মেটানোর সুযোগ রয়েছে। তাহলে সেই ব্যবস্থা কেন বাসে থাকবে না? এখন তো সিংহভাগ মানুষই অনলাইন পেমেন্টে অভ্যস্ত। যাত্রীদের বক্তব্য, এভাবে ভাড়া মেটানোর সুযোগ থাকলে তো খুচরো নিয়ে প্রতিদিনের ঝামেলা পোহাতে হয় না। কনডাক্টর আর যাত্রী, উভয়েরই সুবিধা হতো।
যাত্রীরা আরও বলছেন, বিশেষ করে সরকারি বাসে ই-পস মেশিনের মাধ্যমে ভাড়া মেটানো হচ্ছে। সেখানে কেন স্ক্যানারের মাধ্যমে টাকা দেওয়ার সুযোগ থাকবে না? যদিও বেসরকারি বাসে অনলাইনে পেমেন্ট নেওয়ার ক্ষেত্রে নানা ঝক্কি রয়েছে বলে দবি ওয়েস্ট বেঙ্গল বাস-মিনিবাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের জেনারেল সেক্রেটারি প্রদীপ বসুর। তিনি বলেন, ‘অনেক সময় যাত্রীদের অনেকে পুরো ভাড়া দেন না। রেগুলার প্যাসেঞ্জারদের একাংশের মধ্যে কম ভাড়া দিয়ে যাতায়াতের প্রবণতা রয়েছে। যে রুটে এই ধরনের লিকেজ বেশি, সেই রুটে কনডাক্টরদের একটা উপরি ইনকাম থাকে। তাই বাসে কিউআর কোড রাখলে কনডাক্টর খুঁজে পাওয়া যাবে না। আবার কিউআর কোডে কখনও টাকা না গেলে রাতে হিসেব মেলাতে সমস্যা হবে। কোন ট্রিপে কত টাকা বা কটা টিকিট অনলাইনে কাটা হল, তার হিসেবও পাওয়া যাবে না।’ প্রদীপবাবুর আরও যুক্তি, কোনও মালিকের চারটে বাস থাকলে চারটে অ্যাকাউন্ট খুলে চারটে কিউআর কোড দিতে হবে। কারণ, একটি অ্যাকাউন্টে সব বাসের টাকা ঢুকলে সমস্যা।
বাগুইআটির বাসিন্দা কিংশুক ভট্টাচার্য বলেন, ‘বেসরকারি বাসে নানা সমস্যা হতে পারে। কিন্তু সরকারি বাসে তো কেন্দ্রীয়ভাবে এই অনলাইন পেমেন্ট চালু করা যায়।’ এ প্রসঙ্গে পরিবহণমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী বলেন, ‘দুর্নীতি বন্ধে সরকারি বাসে ই-পস মেশিনের মাধ্যমে ভাড়া নেওয়া চালু হয়েছে। আপাতত পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে ১৫টি রুটে ২০০টি সরকারি বাসে অনলাইনে টিকিট কাটার ব্যবস্থা চালু হয়েছে। ভবিষ্যতে যাত্রী সুবিধার্থে সমস্ত রুটেই সরকারি বাসে ইউপিআই বা কিউআর কোডে ভাড়া নেওয়ার ব্যবস্থাও চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।’ নিজস্ব চিত্র