সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: যন্ত্রণার অপর নাম হয়ে উঠেছে কৃষ্ণনগর শহরের ১৯নম্বর ওয়ার্ডের কুর্চিপোতা লেন। এই রাস্তায় একাধিক নার্সিংহোম, প্যাথলজি সেন্টার ও ক্লিনিক রয়েছে। ভাঙাচোরা রাস্তা, পিচ উঠে গিয়েছে সর্বত্র। এ. রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে প্রতিদিন স্থানীয় বাসিন্দা ও চিকিৎসার জন্য আসা রোগী ও পরিজনরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। তাঁদের দাবি, যত দ্রুত সম্ভব রাস্তা সংস্কার করা হোক।
এই এলাকার বেশ কয়েকটি বেসরকারি নার্সিংহোম ও প্যাথলজি সেন্টার রয়েছে। রাস্তার বেহাল দশা বৃষ্টি নামলে আরও করুণ হয়। ভাঙা ড্রেনে জলনিকাশি ঠিকমতো হয় না। বৃষ্টির ফলে রাস্তায় জল উঠে আসে। বৃষ্টি আর ড্রেনের নোংরা জল জমে রাস্তা ডুবে যায়। রাস্তার মাঝে গর্ত তৈরি হয়েছে। অ্যাম্বুলেন্স, মোটরবাইক, কিংবা হেঁটে চলাচলে সমস্যায় পড়ছেন সকলে। রোগী নিয়ে যাওয়া তো দূরের কথা, সাধারণ পথচারীদেরও প্রতিটি পদক্ষেপে সতর্ক থাকতে হয়। এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার এমন পরিস্থিতি থাকলেও প্রশাসনের নজর নেই। স্থানীয় বাসিন্দা প্রতিমা গুহ বলেন, কুর্চিপোতায় বহু মানুষ বসবাস করেন। দীর্ঘদিন এই রাস্তায় কোনও কাজ হয়নি। এখানে অনেক ডাক্তার বসেন, বেশকিছু নার্সিংহোমও আছে। প্রতিদিন বহু রোগী এখানে আসেন। রাস্তা খারাপ থাকায় মাঝেমাঝেই যানজট হয়। এমনকী, সঙ্কটজনক রোগী নিয়ে আসা গাড়িও মাঝপথে আটকে পড়ে। পরিস্থিতি সত্যিই ভয়ানক।
ডাক্তার দেখাতে আসা রোগীর এক আত্মীয় বলেন, রাস্তাটা এমন খারাপ যে অসুস্থ মানুষ নিয়ে এখানে আসাটাই কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। গাড়ি নিয়ে ঢোকাও বিপজ্জনক। এত নার্সিংহোম আর প্যাথলজি সেন্টার থাকার পরও রাস্তাঘাটের এমন দশা সত্যিই দুঃখজনক। প্রশাসন একটু নজর দিলে রোগী-পরিজনদের সবারই সুবিধা হতো। শহরের এক বাসিন্দা বলেন, বেহাল রাস্তা দিয়ে যাতায়াতের খুব সমস্যা হচ্ছে। দ্রত এই রাস্তার সংস্কার করা হোক।
১৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলার সৌগতকৃষ্ণ দেব বলেন, প্রায় এক বছর আগে পথশ্রী প্রকল্পে রাস্তাটি করার কথা ভেবেছিলাম। তারজন্য যাবতীয় কাজ করেছিলাম। কিন্তু ফাইলটি আটকে যাওয়ায় আর কাজ হয়নি। পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর থেকে কৃষ্ণনগর পুরসভার বোর্ড ভেঙে দেওয়ার পর সদ্য প্রশাসকের দায়িত্ব নিয়েছেন কৃষ্ণনগর সদরের মহকুমা শাসক শারদ্বতী চৌধুরী। তিনি বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হেবে।