নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: সিউড়িতে বেসরকারি বাসে চলছে নিয়ম ভাঙার খেলা। নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বাসের ছাদে যাত্রী তোলা হচ্ছে। বিপদ এড়াতে একসময় পুলিস কড়া পদক্ষেপ নিয়েছিল। বেসরকারি বাসের পিছনদিকে থাকা সিঁড়ি কেটে বাদ দেওয়া হয়েছিল। তারপরেও এই প্রবণতায় রাশ টানা যাচ্ছে না। শহরের রাস্তায় আকছার বাসের ছাদে যাত্রী পরিবহণের ছবি চোখে পড়ছে। অভিযোগ, পুলিসের তরফে এখন আর কড়া পদক্ষেপ না করার জেরেই বিপজ্জনকভাবে যাত্রী পরিবহণ চলছে। যদিও জেলার পুলিস সুপার আমনদীপ বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিউড়ি শহরের প্রাণকেন্দ্র ৮ নম্বর ওয়ার্ডে সিউড়ি-দুবরাজপুর রাস্তার ধারেই দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার বাস টার্মিনাস রয়েছে। তার পাশেই নেতাজি সুভাষ বাস টার্মিনাস। সেখান থেকে বেসরকারি বাস চলাচল করে। দুবরাজপুর, ইলামবাজার, বোলপুর, সাঁইথিয়া, রামপুরহাট, দুর্গাপুর সহ বিভিন্ন রুটের বাস সেখান থেকে ছাড়ে। সেই টার্মিনাস লাগোয়া এলাকাতেই আকছার নিয়ম ভাঙার ছবি নজরে পড়ে। যদিও সেই এলাকায় রাস্তার উপর ট্রাফিক পুলিস ও সিভিক ভলান্টিয়ার মোতায়েন থাকে। কিন্তু, তাদের সামনেই নিয়ম ভেঙে বাসের ছাদে যাত্রী তোলা হচ্ছে। শহরের বাসিন্দাদের অভিযোগ, পুলিসের সদিচ্ছার অভাবেই এই বিপজ্জনক কাজ চলছে।
বাসের ছাদে যাত্রী তোলা নিয়ে বেশিরভাগ পরিবহণকর্মী সরাসরি মন্তব্য করতে চাননি। নাম না প্রকাশের শর্তে এক চালক বলেন, বহু যাত্রী জোর করেই বাসের ছাদে উঠে পড়েন। বাধা দিলে কখনও কখনও তাঁদের হুমকি দেওয়া হয়। তবে অনেকে বেশি মুনাফার আশাতেও ছাদে যাত্রী তোলেন। সেইসঙ্গে মাত্রাতিরিক্ত মালপত্রও বাসের ছাদে তোলা হয়। দুর্ঘটনার আশঙ্কা তো থাকেই।
বীরভূম জেলা বাসমালিক সমিতির সহ-সম্পাদক তন্ময় পৈতুণ্ডি বলেন, কিছু ক্ষেত্রে বাসচালক ও কর্মীদের দোষ রয়েছে।
তবে কোনও কোনও ক্ষেত্রে যাত্রীদেরও দোষ আছে। অনেকক্ষেত্রে তাঁরা জোর করে বাসের ছাদে উঠে পড়েন। আমরা বাসের ছাদে যাত্রী তোলা বন্ধে সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ করে চলেছি। সাধারণ মানুষকেও এবিষয়ে সচেতন হতে হবে।