নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: এমনিতেই ট্রেনের সংখ্যা হাতেগোনা। তারউপর সময়ে চলে না প্রায় কোনও ট্রেনই। সেইসঙ্গে রেলের উন্নয়নমূলক কাজের নাম করে প্রায়ই বাতিল করা হচ্ছে ট্রেন। ফলে ক্ষোভ বাড়ছে যাত্রীদের মধ্যে। রেলের এই অচলাবস্থার জেরে ক্রমশ কদর বাড়ছে বাসের। তবে তারজন্য কয়েকগুণ বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের।
দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার(এসবিএসটিসি) পুরুলিয়ার ডিপো ইনচার্জ সুবীর দে মানছেন, ট্রেনের এই খামখেয়ালিপনার জেরে বাসের চাহিদা বাড়ছে। পুরুলিয়া থেকে বিভিন্ন রুটে প্রায় ২৪টি বাস চলে। বর্তমানে প্রায় সমস্ত বাসই ভিড়ে ঠাসা থাকছে। তাঁর সংযোজন, বাসের চাহিদা যেভাবে বাড়ছে, সেই তুলনায় আমরা পরিষেবা দিতে পারছি না। কিছু বাস অনেক পুরাতন হয়ে গিয়েছে। যন্ত্রাংশ বিকল হয়ে পড়ছে। তবে খুব শীঘ্রই আমরা একাধিক নতুন বাস পেতে চলেছি। আশা করছি, সেই সমস্যা আর থাকবে না।
প্রসঙ্গত, দক্ষিণ পূর্ব রেলের আদ্রা শাখায় ট্রেন লেট নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সময়ের কাণ্ডজ্ঞান নেই পুরুলিয়া এক্সপ্রেসের। যে ট্রেন রাতে পুরুলিয়া এসে পৌঁছনোর কথা, তা আসছে সকালে। যে ট্রেন পুরলিয়ায় আসার কথা, না বলে কয়ে সেই আদ্রাতেই যাত্রা শেষ করছে। প্রায় প্রতিদিনের মতো বুধবারও বিকেল ৪টে ৫০মিনিটের পুরুলিয়া এক্সপ্রেস দু’ঘণ্টা দেরিতে রওনা দিয়েছে। কখন যে এসে পৌঁছবে তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। রেলের এই খামখেয়ালিপনা নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে ক্রমশই। এনিয়ে বহু বিক্ষোভ দেখিয়েছে রাজনৈতিক ও নাগরিক সংগঠনগুলি। তবুও কোনও হেলদোলই নেই রেল কর্তৃপক্ষের। মানুষের যতই সমস্যা হোক, রেল যেন এব্যাপারে ভাবিতই নয়। তাই রেলের উপর থেকে ভরসা উঠছে মানুষের। বাড়ছে বাসের উপর নির্ভরতা। তবে, তাতেও দুর্ভোগ রয়েছে। ব্যবসার কাজে আসানসোল থেকে পুরুলিয়া আসেন বৈভব তিওয়ারি। তিনি বলছিলেন, প্রায়ই দেখি ট্রেন এসে আদ্রা দাঁড়িয়ে যায়। তারপর ঘোষণা হয় ট্রেনটি আর পুরুলিয়া যাবে না। তখন মালপত্র নিয়ে ব্যাপক সমস্যায় পড়তে হয়। আবার গাড়ি ভাড়া করে মালপত্র নিয়ে পুরুলিয়া আসতে হয়। এতে প্রচুর টাকা খরচ হয়ে যায়। তাই আর ট্রেনের ভরসায় না থেকে বাসে করেই আসি। চাকরি সূত্রে পুরুলিয়ায় থাকেন বর্ধমানের বাসিন্দা শুভাশিস গোস্বামী। তিনি বলেন, প্রতি শুক্রবার বিকেলে বাড়ি যাই। সোমবার সকালে পুরুলিয়ায় ফিরি। ফেরার সময় ট্রেনের অপেক্ষায় থাকতে গিয়ে ব্যাপক ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়। বাধ্য হয়ে বাসে ফিরি। খরচ একটু বেশিই হয়। কিন্তু, সময়ে অফিসে পৌঁছতে পারি। পুরুলিয়া বাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রতিভারঞ্জন সেনগুপ্ত বলেন, পুরুলিয়া শহর ও জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কলকাতা পর্যন্ত রাতে একাধিক বাস ছাড়ে। সেই সব বাসের ভিড়ই বলে দেয়, ট্রেনের উপর মানুষের ভরসা উঠে গিয়েছে। শুধু তাই নয়, টাটা রুটের বাসেরও ভালো চাহিদা রয়েছে। এর প্রধান কারণ ট্রেনের খামখেয়ালিপনা।