নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: রাত ১০টা ২০ মিনিট। চেন্নাই-হাওড়া মেল থেকে সাঁতরাগাছি স্টেশনে নামলেন বৃদ্ধ দম্পতি। যাবেন নৈহাটিতে। লোকাল ধরতে হলে দ্রুত পৌঁছতে হবে শিয়ালদহে। এদিকে, সাঁতরাগাছি স্টেশনের বাইরে ঘুটঘুটে অন্ধকার। কাঁচা রাস্তায় জল-কাদা পেরিয়ে কোনওমতে যাত্রীসাথী কাউন্টারে গিয়ে জানতে পারলেন, গাড়ি নেই। সুযোগ বুঝে ওই দম্পতিকে রীতিমতো মশার মতো ছেঁকে ধরল কয়েকজন অসাধু ট্যাক্সি ড্রাইভার। অগত্যা দ্বিগুণ ভাড়াতেই শিয়ালদহে যেতে রাজি হলেন অসহায় দম্পতি। এই দম্পতি একা নয়, সাঁতরাগাছি স্টেশনের যাত্রীসাথী কাউন্টারে ক্যাব না পাওয়ার অভিযোগ করছেন বহু যাত্রী। দালাল দৌরাত্ম্য কমাতে পুলিসি নজরদারিও চোখে পড়ে না বলে অভিযোগ।
হাওড়া স্টেশনের উপর যাত্রী চাপ কমাতে বিকল্প হিসেবে সাঁতরাগাছিকে দক্ষিণ-পূর্ব শাখার গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন করে তোলা হচ্ছে। লোকাল ট্রেন ছাড়াও হায়দরাবাদ ও দক্ষিণ ভারতের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন এই স্টেশনে যাত্রা শেষ করে। ফলে প্রতিদিন সাঁতরাগাছি স্টেশনে যাত্রী সংখ্যা বেড়েই চলেছে। হাওড়া ও শিয়ালদহের মতো এই স্টেশনেও চালু হয়েছিল যাত্রীসাথী অ্যাপ ক্যাব কাউন্টার। কিন্তু সেই কাউন্টারকে স্টেশনের মূল বিল্ডিং থেকে প্রায় দেড়শো মিটার পিছনে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে স্টেশন থেকে বেরিয়ে কাঁচা রাস্তা ধরে ব্যাগপত্র নিয়ে যাত্রীদের পৌঁছতে হয় সেখানে। সামান্য বৃষ্টি হলেই গোড়ালির উপর জল দাঁড়িয়ে যায়। তার উপর সন্ধ্যা নামলেই ঘুটঘুটে অন্ধকার হয়ে যায় ওই পথ। এত কিছুর পরেও কাউন্টারে গিয়ে ওটিপি নেওয়ার পর আধ ঘণ্টারও বেশি দাঁড়িয়ে থাকতে হয় যাত্রীদের। কারণ বেশিরভাগ সময়ই ক্যাব থাকে না। যাত্রীদের অভিযোগ, কাউন্টারে দু’-একজন কর্মী ডিউটিতে থাকলেও পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের চূড়ান্ত অনীহা। অগত্যা ‘রাইড ক্যানসেল’ করা ছাড়া আর উপায় থাকে না যাত্রীদের কাছে। রাতের দিকে প্রায়ই এমন ঘটনা ঘটছে বলে তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা শুনিয়েছেন অনেকে।
কাউন্টারে ক্যাব না পেয়ে যাত্রীরা স্টেশনের সামনে আসতেই শুরু হয় আসল খেলা। অভিযোগ, ভাড়া নিয়ে রীতিমতো হাঁকডাক দিতে থাকে ট্যাক্সি চালকরা। হাওড়া স্টেশন পর্যন্ত যেতে হলে দিতে হবে জনপ্রতি ২০০ টাকা, শিয়ালদহ পৌঁছে দিতে ৭০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত চেয়ে বসে অনেকে। শুধু তাই নয়, হাওড়া স্টেশন সহ শহরের যে কোনও জায়গায় পৌঁছে দিতে রুট পারমিটের তোয়াক্কা না করেই দেদার যাত্রী তুলতে দেখা যায় অটোগুলিকে। ভাড়া নিয়ে যাত্রী ও চালকের মধ্যে বচসা হয় প্রায়ই। সেই সময় কোনও পুলিসকর্মীর দেখা মেলে না বলে অভিযোগ। রানাঘাটের বাসিন্দা শ্যামল সেনগুপ্ত বলেন, ‘দক্ষিণ ভারতে চিকিৎসা করিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে ফিরছিলাম। সাঁতরাগাছি স্টেশনের বাইরে কাদা পেরিয়ে যাত্রীসাথী কাউন্টার পর্যন্ত যেতেই পারলাম না। বাধ্য হয়ে ৮০০ টাকা ভাড়া দিয়ে ট্যাক্সি করে শিয়ালহে যেতে হল।’
যাত্রীসাথী কাউন্টারে থাকা এক কর্মীর দাবি, অনেক সময় দিনের বেলাতেও ক্যাব মেলে না। ফলে ট্যাক্সি চালকদের দৌরাত্ম্য কমছে না। যাত্রী ভোগান্তি কমাতে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি তুলছেন অনেকেই।