সংবাদদাতা, লালবাগ: ভোর থেকে রাত পর্যন্ত যাত্রীদের ভিড়ে জমজমাট থাকে পূর্ব রেলের শিয়ালদহ-লালগোলা শাখার ভগবানগোলা স্টেশন। অথচ যাত্রীদের ন্যূনতম পরিষেবার বালাইটুকু নেই এখানে। দীর্ঘ দু’টি প্ল্যাটফর্ম আচ্ছাদনহীন। বর্ষায় জলে ভিজে, রোদে পুড়ে এবং শীতে কাঁপুনি ধরা ঠান্ডায় দাঁড়িয়ে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। নেই পানীয় জলের ব্যবস্থাও। দু’টি সুলভ শৌচাগার থাকলেও মাসের বেশিরভাগ দিন তালাবন্ধ অবস্থায় পড়ে থাকে। রেলস্টেশনের এই অব্যবস্থা নিয়ে নিত্যযাত্রী থেকে আপামর ভগবানগোলাবাসী একাধিকবার সরব হয়েছেন। স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে স্টেশন ম্যানেজার থেকে রেলের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের। সেক্ষেত্রে প্রতিবারই আশ্বাস মিলেছে। সমস্যার সমাধান হয়নি। স্টেশনে ট্রেন ধরার জন্য এসে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার প্রয়োজন হলে যাত্রীদের চরম বিড়ম্বনার মধ্যে পড়তে হয়।
পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কৌশিক মিত্র বলেন, পূর্ব রেলের দুই শাখার প্রতিটি স্টেশনের মানোন্নয়ন এবং যাত্রী পরিষেবা সংক্রান্ত কাজ চলছে। ভগবানগোলা স্টেশনের সমস্যা সমাধানে খুব শীঘ্রই কাজ শুরু হবে। ভগবানগোলা পূর্ব পরেলের শিয়ালদহ-লালগোলা শাখার অন্যতম ব্যস্ত স্টেশন। ভগবানগোলা বিধানসভার ভগবানগোলা-১, ২ ব্লকের ১৪টি অঞ্চলের পাশাপাশি লালগোলা ব্লকের তিন-চারটি অঞ্চলের বাসিন্দারা রেলপথে যাতাযাতের জন্য ভগবানগোলা স্টেশনে এসে ট্রেন ধরে থাকেন। স্বাভাবিকভাবেই, ভোর থেকে রাত পর্যন্ত বেশ কয়েক হাজার মানুষ ওঠানামা করে। পূর্বরেলের এই গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে দু’টি দীর্ঘ প্ল্যাটফর্মে শেড নেই। রেলযাত্রীদের ট্রেনের জন্য খোলা আকাশের নীচে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়। প্ল্যাটফর্মের কোথাও পানীয় জলের ব্যবস্থা নেই। সুলভ শৌচাগার দু’টি দেখভালের কেউ নেই। কাজেই বেশিরভাগ দিন তালাবন্ধ অবস্থায় পড়ে থাকে। রানিতলার বাসিন্দা মতিউর রহমান বলেন, গ্রীষ্মে চাঁদিফাটা রোদে দাঁড়িয়ে থেকে ট্রেন ধরতে হয়। আবার বর্ষাকালে বৃষ্টিতে ভিজতে হয়। দু’টি প্ল্যাটফর্মে শেডের খুব প্রয়োজন। ভগবানগোলা রামবাগের বাসিন্দা মৃত্যুঞ্জয় রবিদাস বলেন, স্টেশনে পানীয় জলটুকু নেই। রেল এই নূন্যতম পরিষেবা প্রদানে উদ্যোগ নিক।
ভগবানগোলা-রানিতলা নাগরিক মঞ্চের সম্পাদক আজমল হক বলেন, প্ল্যাটফর্মে শেড, পানীয় জল, সুলভ শৌচাগার, যাত্রী প্রতীক্ষালয়-এই পরিষেবাগুলি দেওয়া রেলের নৈতিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। এই বিষয়ে সংগঠনের তরফে রেলের আধিকারিকদের একাধিকবার স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। রেল আশ্বাস দিয়েই দায় সেরেছে। ফলে রেলযাত্রীরা পরিষেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। গত বছর নভেম্বর মাসে এই সমস্যাগুলি নিয়ে রেলের আধিকারিকদের সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের একটি মিটিং হয়েছিল। ওইদিনের মিটিং-এ সমস্যাগুলি সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। দুঃখের বিষয় এখন পর্যন্ত কোনও কাজই শুরু হয়নি। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে রেল দাবি পূরণ না করলে সংগঠন বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে। দাবি আদায়ে রেল অবরোধ করা হবে।