Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গয়না চুরি করে পালানোর সময় ওড়িশায় ধৃত পশ্চিম মেদিনীপুরের যুব বিজেপির সম্পাদক

সোনার দোকানে ঢুকে গয়না চুরি করে চম্পট দেওয়াই ছিল মূল লক্ষ্য

গয়না চুরি করে পালানোর সময় ওড়িশায় ধৃত পশ্চিম মেদিনীপুরের যুব বিজেপির সম্পাদক
  • ২৯ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: সোনার দোকানে ঢুকে গয়না চুরি করে চম্পট দেওয়াই ছিল মূল লক্ষ্য। আর সেই কাজ করতে গিয়ে ধরা পড়ল বিজেপির পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা যুব মোর্চার সম্পাদক সোমনাথ সাহু। এই ঘটনা সামনে আসতেই ‘ছিঃ ছিঃ’ রব উঠল জেলাজুড়ে। জানা গিয়েছে, জেলা যুব মোর্চার সম্পাদক সোমনাথের বাড়ি মেদিনীপুর শহরের সাহেবচক এলাকায়। এনিয়ে সরব হয়েছে রাজ্য তৃণমূল নেতৃত্বও। অভিযোগ, ওড়িশার জলেশ্বর থানা এলাকার একটি সোনার দোকান থেকে প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা মূল্যের সোনার গয়না নিয়ে চম্পট দেন গেরুয়া বাহিনীর সদস্য সোমনাথ। ইতিমধ্যেই সেই সোনার দোকানের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সামনে এসেছে। গয়না চুরি করে পালানোর সময় দোকানের লোকজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা সোমনাথদের কালো স্করপিও গাড়ির পিছনে ধাওয়া করে। প্রায় ৮ কিমি দূরে রাস্তার ধারে ডিভাইডারে গিয়ে গাড়িটি ধাক্কা মারে। ওড়িশা পুলিস গ্রেপ্তার করে সোমনাথ ও তাঁর শাগরেদদের। পুলিস টানা জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

Advertisement

জেলার বিজেপি নেতারা বলছেন, ‘সোমনাথদের একটা সোনার দোকান রয়েছে। গত পুরসভা নির্বাচনে মেদিনীপুর শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ডে প্রার্থী হয়েছিলেন সোমনাথের স্ত্রী। কথাটা জেনে আমাদের লজ্জায় মাথা কাটা যাচ্ছে।’ বিজেপি যুব মোর্চার সভাপতি আশীর্বাদ ভৌমিকের ছায়াসঙ্গী ছিলেন সোমনাথ। তাঁরা একসঙ্গে কুম্ভে অমৃতস্নানে গিয়েছিলেন। এমনকী তাঁরা যে গাড়িতে চেপে বিভিন্ন এলাকায় যেতেন, সেই গাড়িতে করেই চুরির চেষ্টা হয় বলে শোনা গেছে। যদিও এদিন আশীর্বাদ বলেন, ‘লোকসভা ভোটের আগে-পরে সময় থেকেই ও বিজেপির সক্রিয় কর্মী নেই। তবে শুনেছি সোনার কারবার করত। এখন অন্য ব্যবসা করে। বিজেপি কর্মী হিসেবে চিনতাম। কিন্তু কী কাজ করে, সেটা তো জানা সম্ভব নয়।’এনিয়ে সুর চড়িয়েছে তৃণমূল। জেলা তৃণমূলের সভাপতি সুজয় হাজরা বলেন, ‘ঘটনার তীব্র নিন্দা করছি। এই দলের কর্মীরাই তৃণমূলের কাজের সমালোচনা করেন।’ 
জেলা বিজেপির এক নেতার কথায়, ‘বারবার যুব নেতাদের কার্যকলাপে লজ্জায় পড়তে হচ্ছে। প্রতিটা প্রথম সারির নেতার বিরুদ্ধে ভুরি ভুরি অভিযোগ। অনেক নেতাই নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছেন। একইসঙ্গে মহিলাদের তরফ থেকেও নানা অভিযোগ সামনে এসেছে।’ জানা গিয়েছে, সোমনাথ নানা অসামাজিক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেই কথা জানা সত্ত্বেও, তাঁকে বাদ দেওয়া তো দূরের কথা, যুব মোর্চার প্রথম সারির নেতাদের সুপারিশের জন্যই তিনি ভালো পদ পেয়েছিলেন। গত কয়েক বছরে তাঁর আর্থিক অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন হয়। জেলা বিজেপির সভাপতি শমিত কুমার মণ্ডল বলেন, ‘জেলায় শুধু যুব সভাপতির নাম ঘোষণা হয়েছে। কোনও পদেই কেউ নেই। তবে এই ঘটনা দল কোনওভাবে সমর্থন করে না। কেউ দোষ করে থাকলে যথাযোগ্য শাস্তি পাওয়া দরকার।’জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক মহম্মদ রফিক বলেন, ‘বিজেপি উপরে উপরে ধর্মের রাজনীতি করে। আর ভিতরে ভিতরে অসামাজিক কাজ করে। ওদের নেতাদের প্রশ্রয় আছে। কান টানলেই মাথা আসবে। এই ঘটনার সঙ্গে আরও অনেক নেতা জড়িত আছেন বলে মনে হয়।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ