Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ত্রিস্তরীয় গ্রাম পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় কাজের নিরিখে দ্বিতীয় স্থানে পশ্চিম মেদিনীপুর

ত্রিস্তরীয় গ্রাম পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় কাজের নিরিখে দ্বিতীয় স্থানে পশ্চিম মেদিনীপুর
  • ৪ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় কাজের নিরিখে রাজ্যে দ্বিতীয় স্থানে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা। মঙ্গলবার জেলার আউটকাম ওভারভিউ মিটিংয়ে উপস্থিত হয়ে বার্তা দিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চায়েত দপ্তরের সেক্রেটারি পি উলগানাথন, রাজ্যের মন্ত্রী বেচারাম মান্না, মানস ভুঁইয়া, শিউলি সাহা, শ্রীকান্ত মাহাত, পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদরি, জেলা পরিষদের সভাধিপতি প্রতিভা মাইতি সহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিক ও জনপ্রতিনিধিরা। এদিন জেলা পরিষদের প্রদ্যুৎ স্মৃতি হলে মূলত ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত ব্যবস্থার নানা কাজ, প্রকল্পের রূপায়ণ নিয়ে আলোচনা হয়। সেই আলোচনায় জেলার বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধিরা নানা সমস্যার দিক তুলে ধরেন।

Advertisement

এদিন পঞ্চায়েত মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার বলেন, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় বেশিরভাগ প্রকল্পে ভালো কাজ হয়েছে। তবে বেশকিছু প্রকল্পে আমরা পিছিয়ে আছি। সেগুলোতেও যাতে নজর দেওয়া যায়, তার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী বেচারাম মান্না বলেন, মিশন নির্মল বাংলায় নানা ধরনের কাজ হচ্ছে। এই কাজে জেলাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। কমিনিউটি স্যানিটরি কমপ্লেক্স আরও বেশি পরিমাণে করার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। এই জেলায় সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট আরও বেশি পরিমাণে তৈরি করতে হবে।
জানা গিয়েছে, গত কয়েক বছরে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাজুড়ে কাজের গতি বেড়েছে। শুধু জেলা পরিষদের উদ্যোগে, একাধিক রাস্তা, নিকাশি নালা, সেতু, পথবাতি স্থাপন সহ একাধিক প্রকল্পের কাজ হয়েছে। গত অর্থ বছরে ৬৭. ৬৬ কোটি টাকার মধ্যে ৫২.১০ কোটি টাকা খরচ করেছে জেলা পরিষদ। এরফলে উপকৃত হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। জেলা পরিষদের কাজের গতি গত দু’বছরে রেকর্ড হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া পথশ্রী প্রকল্পে জেলায় ১ হাজার ৭১৯টি রাস্তা তৈরির কাজ হয়েছে, যা অন্যান্য জেলার থেকে অনেকটাই এগিয়ে রাখছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাকে। এছাড়াও স্বনির্ভর গোষ্ঠী তৈরিতেও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে। 
গত অর্থবছরে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা ঋণ পেয়েছেন মহিলারা। চলতি অর্থবছরে ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় পর্যাপ্ত পরিমাণে পানীয় জলের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, এদিন রিভিউ মিটিং চলাকালীন বিভিন্ন প্রশ্ন তোলেন জনপ্রতিনিধিরা। মেদিনীপুরের বিধায়ক সুজয় হাজরা প্রশ্ন তোলেন, স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলো কোনওভাবেই সহযোগিতা করে না। তাঁদের ঋণ নেওয়া টাকা অপব্যবহার হচ্ছে বলে ধারণা। এরফলে বিপুল টাকা ঋণ দেওয়া হলেও গ্রামীণ অর্থনীতিতে সেভাবে প্রভাব পড়ছে না।
পাশাপাশি জেলা পরিষদের দলনেতা মহম্মদ রফিক প্রশ্ন তোলেন, গ্রামীণ রাস্তা সাধারণত ৮ থেকে ৯ ফুট চওড়া হয়। এরফলে গাড়ি যাতায়াতে অসুবিধা হচ্ছে। একইসঙ্গে দুর্ঘটনাও হচ্ছে। কেশপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি চিত্তরঞ্জন গড়াই বলেন, বয়স্ক ভাতা পাচ্ছেন না বহু মানুষ। এরফলে সমস্যায় পড়ছেন তাঁরা।
মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া বলেন, জন প্রতিনিধিদের নানা দাবি নোট করা হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য একশো শতাংশ মানুষের সমস্যার সমাধান করা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানুষকে পরিষেবা দেওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ