সংবাদদাতা, ঘাটাল: ‘সরকারি গাইড লাইন মেনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হেড টিচার নিয়োগ করলে দলের পতাকা বওয়ার লোক পাওয়া যাবে না। তাই দল যার নাম সুপারিশ করবে তাকেই হেড টিচার করা হবে।’ শনিবার তৃণমূলের শিক্ষক সংগঠনের অনুষ্ঠানে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান অনিমেষ দে, তৃণমূলের জেলা সভাপতি আশিস হুদাইতের সামনে দাসপুর-২ ব্লক সভাপতি সৌমিত্র সিংহরায়ের এই বক্তব্য ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এতে দলের নেতানেত্রীরাও যেমন অপ্রস্তুতে পড়েছেন, তেমনই সারা মহকুমা জুড়ে শিক্ষক-শিক্ষিকারাও।
শনিবার পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির দাসপুর থানা এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চারটি চক্রের শিক্ষক কনভেনশন ছিল দাসপুর-২ ব্লকের গৌরা-সোনামুই কুঞ্জবিহারী আদর্শ শিক্ষায়তনে। সেখানে সৌমিত্রবাবু বলেন, শিক্ষক সংগঠনের মধ্যেই কিছু কিছু সুযোগ সন্ধানী শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন। যাঁরা বিজেপি, সিপিএম এবং তৃণমূল সমস্ত শিক্ষক সংগঠনকেই চাঁদা দিয়ে সমতা বজায় রাখেন। তাঁরা সুযোগ নেওয়ার জন্য এই ধরনের কাজগুলো করে থাকেন। সেটা আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। তারপরই তিনি বক্তব্য শুরু করেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হেড টিচার নিয়োগের বিষয়ে। চারটি চক্রের ২৫০টি বিদ্যালয়ের প্রায় ৪০০ জন শিক্ষক শিক্ষিকার উদ্দেশ্যে মাইক্রোফোন ধরে বলেন, হেড টিচার নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারি অনেক নিয়ম বা গাইডলাইন থাকবে। সেটা মেনে নিয়োগ করলে আমাদের দলের ঝান্ডা বওয়ার লোক পাওয়া যাবে না। তাই আমাদের দলের পক্ষ থেকে যার নাম সুপারিশ করা হবে তাঁকেই নিয়োগ করতে হবে। দেখতে হবে কারা সিপিএমের হার্মাদদের সঙ্গে লড়াই করে এতদিন দলটা করে আসছেন। কারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদর্শের প্রতি আস্থা রেখে তৃণমূল করে আসছেন।
সৌমিত্রবাবুর ওই কথা বলার সময় পাশে বসে থাকা অনিমেষবাবু, আশিসবাবু সহ অন্যান্য নেতানেত্রীদের মুখ ফ্যাকাসে হয়ে যায়। কারণ এমনিতেই রাজ্যে সুপারিশের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের চাকরি দেওয়া নিয়ে চরম বির্তক তৈরি হয়েছে। সেই পরিস্থিতি সরকারি গাইডলাইনকে উপেক্ষা করে প্রকাশ্যে দেলের ব্লক সভাপতির ওই বক্তব্যে অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন তাঁরা। তারপরই দলের জেলা সভাপতি আশিসবাবু বক্তব্য রাখতে গিয়ে দলের গাইডলাইন ব্যাখ্যা করে সাফ জানিয়ে দেন, উনি (সৌমিত্র সিংহরায়) ব্যক্তিগতভাবে ওই কথা বলেছেন। তাই ওই বক্তব্যের দায় তাঁকেই নিতে হবে। দল কোনও ভাবেই ওই বক্তব্যকে সমর্থন করে না। আমরা সরকারি গাইডলাইন মেনেই নিয়োগের পক্ষে। সেক্ষেত্রে যোগ্যতার নিরিখে যিনি এগিয়ে থাকবেন তাঁকেই নিয়োগের বলব। রবিবার ফোনে আশিসবাবু এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, সৌমিত্রবাবুর ওই বক্তব্যের বিষয়টি আমি দলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও জানিয়ে দিয়েছি।
সিপিএমের প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠন এবিপিটিএ’র জেলা কমিটির এক সদস্য বিকাশ প্রামাণিক বলেন, তৃণমূল সরকার যে নিয়মে নিয়োগ করে সেটাই সৌমিত্রবাবু ওই দিনের সভায় পরিষ্কার বলে দিয়েছেন। যোগ্যতা নয়, দলের সুপারশটাই বড় কথা। তাই আমরাও বুঝতে পারছি এই ভাবে হলে হেড টিচার নিয়োগেও যে যোগ্যরা পাবেন না এটা এখন থেকেই পরিষ্কার হয়ে গেল।