সংবাদদাতা, বজবজ: মহেশতলা, বজবজ, পুজালি, সাতগাছিয়া, নোদাখালি, বিষ্ণুপুর, ফলতায় পদ্ম প্রতীককে হাতিয়ার করে বিজেপির একটি অংশ দাদাগিরি ও চাঁদা আদায়ের নাম করে তোলাবাজি চালাচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে খোদ দলের একটি অংশ। এ নিয়ে বিজেপির ডায়মন্ডহারবার সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সোমা ঘোষের কাছে বিস্তর অভিযোগ জমা পড়েছে বিভিন্ন মণ্ডল থেকে। জেলা থেকে তা পাঠিয়ে দিয়েছে রাজ্য নেতৃত্বের কাছে। এতদিন যাঁরা তৃণমূলের দাদাগিরি, তোলাবাজির বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন, বিজেপির সেই অংশের নেতারাই দলের অন্দরে এ নিয়ে আওয়াজ তুলেছেন। তাঁরা স্পষ্টই বলেছেন, বিজেপির নাম করে যাঁরা তোলাবাজি ও দাদাগিরি করছেন, দল তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে নেতৃত্বের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে যাবে।
তাঁদের কথায়, চিহ্নিত তোলাবাজদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না নেওয়ায় কর্মীরা হতাশ হচ্ছেন। এমনকি, বিজেপির ভোটাররাও তিতিবিরক্ত। কারণ, তাঁরা দেখতে পাচ্ছেন, এখন কারা দাদাগিরি ও তোলাবাজি করছেন। বিজেপির সাংগঠনিক জেলার এক পদাধিকারী বলেন, মহেশতলায় আগে তৃণমূলের যে সব সিন্ডিকেট ছিল, সেই লোকজনই এখন বিজেপিতে ঢুকে পড়েছেন। তাঁরা বিজেপির পতাকা হাতে নিয়ে টাকা তুলছেন। মহেশতলা বাইপাসে একটি হোটেল মালিকের কাছ থেকে নানাভাবে টাকা চাওয়া হয়েছে। যে কারণে ওই হোটেল মালিক জেলার নেতাদের কাছে অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেছেন, এভাবে চললে হোটেল বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবেন। বজবজে পুজো কমিটি ও মন্দির দখল করে তার মধুভাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করেছেন তাঁরা। সাতগাছিয়া, নোদাখালিতে জমির দালালি ও তাকে কেন্দ্র করে কাটমানি খাওয়ার অভিযোগ এসেছে দলের কাছে। ফলতা ও বিষ্ণুপুরে একই চিত্র। সাতগাছিয়ার এক আদি বিজেপি নেতা বলেন, সব জায়গাতেই আমাদের সংগঠনে তিন-চারটি গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে। জেলা নেতৃত্ব কোনো কিছুই নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না।