নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বন্দে মাতরমকে খণ্ডিত করা মানে রাষ্ট্রকে ভাগ করা। স্বাধীনতার ১০ বছর আগে এই ‘মহাপাপ’ করার জন্যই সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে দেশভাগ হয়েছিল। রবিবার ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে বন্দে মাতরমের ভূমিকা নিয়ে আয়োজিত আলোচনাসভায় এই মন্তব্য করেছেন রাজ্যপাল আর এন রবি। এই বক্তব্যর মাধ্যমে রাজ্যপাল কার্যত স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সময়ে নেহরু-গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেসের ভূমিকার সমালোচনা করলেন বলে মনে করা হচ্ছে। ১৯৩৭ সালে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। বন্দে মাতরমের গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি সরাসরি নাম না করে কেন্দ্রের মোদি সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করেন রাজ্যপাল। তিনি বলেন, দেশ আগে কোথায় ছিল? আর এখন কোথায় আছে? সারা বিশ্ব এখন ‘বিশ্বগুরু’ ভারতের দিকে তাকিয়ে আছে।
সাহিত্য অ্যাকাডেমি আয়োজিত এই আলোচনাসভায় রাজ্যপাল বলেন, বন্দে মাতরমে ‘মাতৃবন্দনাকে’ যারা মানে না তাদের বিচারধারাই দেশকে ভাগ করেছে। আমরা দেশকে আবার ভাগ করতে দেব না। আরও উন্নত ভারত গড়ার জন্য বন্দে মাতরমের মাতৃবন্দনাকে সবার কাছে নিয়ে যেতে হবে। যাঁরা বন্দে মাতরমের বিরোধিতা করেন, বলতে সংকোচ বোধ করেন তাঁরা একদিন ঠিক পথে আসবেন বলে আশা প্রকাশ করেন রাজ্যপাল। তিনি বলেন, দেশ স্বাধীনতা পাওয়ার পরেও বন্দে মাতরমকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। বন্দে মাতরমকে সম্মান দেওয়া হয়নি। এতে ক্ষতি হয়েছে রাষ্ট্রেরই। বন্দে মাতরমকে বুঝতে হবে। তাকে সম্মান দিতে হবে।
আগের পরিস্থিতির যে পরিবর্তন হয়েছে সেটাও উল্লেখ করেন রাজ্যপাল। বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে আন্দোলনে বন্দে মাতরমের ভূমিকা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেন রাজ্যপাল। তিনি বলেন, ওই সময় গোটা দেশে বন্দে মাতরম ছড়িয়ে পড়ে। স্বাধীনতা অন্দোলনের মন্ত্র হয়ে উঠেছিল বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত এই সংগীত। তামিল, কন্নড়-সহ বিভিন্ন ভারতীয় ভাষায় অনূদিত হয়েছে বন্দে মাতরম। এই সংগীতই গোটা দেশকে ঐক্যবদ্ধ করেছে। কিন্তু স্বাধীনতার ১০ বছর আগের করা মহাপাপ সবকিছু নষ্ট করে দেয়। আলোচনা সভায় সাহিত্য অ্যাকাডেমির সভাপতি মাধব কৌশিক, মিউজিয়ামের ডিরেক্টর সায়ন ভট্টাচার্য ও সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আগান ভট্টাচার্য বক্তব্য রাখেন।