দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: ট্রেনের আরএসি তালিকাভুক্ত যাত্রীদের আংশিক অর্থ ফেরত দিক রেল। সংশ্লিষ্ট রেল যাত্রীদের কনফার্মড টিকিট দিতে না পারা সত্ত্বেও তাঁদের থেকে পুরো টিকিটের দাম নেওয়ার মধ্যে কোনো যৌক্তিকতা নেই। রেলমন্ত্রককে এমনই সুপারিশ করেছে সংসদীয় পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি (পিএসি)। এর পরেই প্রশ্ন উঠছে, সংসদীয় কমিটির সুপারিশ মেনে আদৌ কি এসংক্রান্ত বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ করবে রেল? যদি এবিষয়ে রেল কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করে, তাহলে সঙ্গত কারণে আম জনতা অত্যন্ত উপকৃত হবেন।
রেলে ওয়েটিং লিস্টের সমস্যা অত্যন্ত গুরুতর। আরএসি তালিকাভুক্ত যাত্রীদের বিড়ম্বনাও কম নয়। ওয়েটিং লিস্টের তালিকায় থাকা যাত্রীরা ট্রেনে উঠতে পারেন না। সেক্ষেত্রে শর্তসাপেক্ষে ওই যাত্রীদের টিকিট মূল্য ফেরত দেয় রেল। কিন্তু আরএসি তালিকাভুক্ত যাত্রীদের অন্য এক আরএসি তালিকাভুক্ত যাত্রীর সঙ্গে আসন ভাগাভাগি করে যেতে হয়। সম্পূর্ণ অপরিচিত কারও সঙ্গে এভাবে আসন ভাগাভাগি করে যেতে অনেক যাত্রীই অস্বস্তিতে পড়েন। কিন্তু তার পরেও আরএসি যাত্রীদের কাছ থেকে পুরো ভাড়া আদায় করে রেল। তা নিয়ে সাধারণ যাত্রীদের একটি বড়ো অংশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তোষ রয়েছে। এবার সংসদীয় পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির এহেন সুপারিশে প্রত্যাশিতভাবেই কিছুটা হলেও আশার আলো দেখছেন সাধারণ রেল যাত্রীদের একাংশ। রেল ভাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে সুপারফাস্ট মেল, এক্সপ্রেস ট্রেনের মাপকাঠি সংশোধনের সুপারিশও করেছে পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি। সংসদে ওই কমিটি যে রিপোর্ট পেশ করেছে, তাতে উল্লেখ রয়েছে যে, ২০০৭ সালের পর এ সংক্রান্ত মাপকাঠিতে কোনো পরিবর্তন হয়নি। কমিটি জানিয়েছে, উল্লিখিত নিয়ম অনুসারে ব্রড গেজ রেল লাইনে যদি কোনো ট্রেন ঘণ্টায় ন্যূনতম ৫৫ কিলোমিটার গতিতে চলে, তাহলে তাকে সুপারফাস্ট ট্রেনের তকমা দেওয়া যায়। মিটার গেজের ক্ষেত্রে এই গতির পরিমাণ ঘণ্টায় ন্যূনতম ৪৫ কিলোমিটার। পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি জানিয়েছে, মোট ৪৭৮টি সুপারফাস্ট ট্রেনের মধ্যে ১২৩টিই ঘণ্টায় ৫৫ কিলোমিটারের কম গতিতে চলছে। অর্থাৎ, এইসব ট্রেনকে আর সুপারফাস্টের তকমা দেওয়া যায় না। অথচ সংশ্লিষ্ট ট্রেনের যাত্রীদের কাছ থেকে সুপারফাস্ট চার্জ আদায় করা হচ্ছে। সংসদীয় কমিটির সুপারিশ, সুপারফাস্ট ট্রেনের মাপকাঠি সংশোধন করে ট্রেনের গতি ঘণ্টায় ন্যূনতম ১০০ কিলোমিটার করা হোক। কারণ এটিই সুপারফাস্ট ট্রেনের তকমা পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় বিশ্বমান।