নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপ ক্রমশ শক্তি বৃদ্ধি করছে। সোমবার এটি মধ্য-পূর্ব ও লাগোয়া পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরের উপর সুস্পষ্ট নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। বুধবার ভোরের মধ্যে তা আরও শক্তি বৃদ্ধি করে অতিগভীর নিম্নচাপ হিসাবে দক্ষিণ ওড়িশা-উত্তর অন্ধ্র উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছে যাবে বলে এদিন কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে। নিম্নচাপটির ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আবহাওয়া দপ্তর রাত পর্যন্ত কিছু জানায়নি। তবে আবহাওয়াবিদরা বলছেন, তীব্রতার নিরিখে অতিগভীর নিম্নচাপ ও সাধারণ ঘূর্ণিঝড়ের মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য নেই। অতিগভীর নিম্নচাপে ঝড়ের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬১ কিমি হতে পারে। সাধারণ ঘূর্ণিঝড়ে ঝড়ের গতিবেগ হয় ঘণ্টায় ৬২ থেকে ৮৮ কিমি। শক্তিশালী নিম্নচাপের ধাক্কায় ২৩-২৪ সেপ্টেম্বর প্রবল বৃষ্টির সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে, ওড়িশা, উপকূলীয় অন্ধ্র ও ইয়ানাম এবং ছত্তিশগড়ে।
নিম্নচাপটির অবস্থান পশ্চিমবঙ্গ উপকূল থেকে অনেক দূরে থাকলেও কিছুটা প্রভাব দক্ষিণবঙ্গের উপর আগামী কয়েকদিন থাকবে। আজ মঙ্গলবার উপকূলবর্তী পূর্ব মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টি হতে পারে। বুধবার এই তিনটি জেলার সঙ্গে ঝাড়গ্রামের কিছু এলাকায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুই মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম জেলার কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ওইদিন ভারী বৃষ্টি হতে পারে, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমান, হাওড়া প্রভৃতি জেলার কোথাও কোথাও। শুক্রবার পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি জেলাতে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। সাধারণভাবে দক্ষিণবঙ্গে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হবে। কোথাও কোথাও বিশেষ করে উপকূলবর্তী এলাকায় জোরালো হাওয়া ও বজ্রপাত হতে পারে। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪০-৫০ কিমি গতিবেগে ঝোড়ো হাওয়া প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। রাজ্যের উপকূলের মৎস্যজীবীদের আগেই শুক্রবার পর্যন্ত সমুদ্রে না-থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে আগামী শুক্রবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের উপর এই নিম্নচাপের প্রভাব থাকবে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, জোরালো নিম্নচাপের বাইরের দিকের অংশ থেকে মেঘপুঞ্জ দক্ষিণবঙ্গের দিকে চলে আসার জন্য প্রভাব পড়বে।