নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: দু’মাসেরও বেশি সময় ধরে মিলছে না বেতন। অসুস্থ বাবা-মায়ের চিকিৎসার খরচ জোগাতে না পেরে স্বেচ্ছামৃত্যুর দাবি জানিয়েছেন হাওড়ার জগাছার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক পার্শ্বশিক্ষক। রামমোহন শীল নামে ওই পার্শ্বশিক্ষকের অভিযোগ, স্কুল কর্তৃপক্ষ অজানা কারণে গত আগস্ট মাস থেকে তাঁর বেতন আটকে রেখেছে। কেন বেতন আটকে রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে তাঁকে স্পষ্ট করে কিছুই জানানো হয়নি। মঙ্গলবার বিদ্যালয় পরিদর্শকের (এসআই) সার্কেল অফিসে প্ল্যাকার্ড গলায় ঝুলিয়ে ধর্নায় বসেন রামমোহনবাবু। শেষে পুলিশ গিয়ে তাঁকে বাড়িতে পাঠানোর ব্যবস্থা করে।
জগাছার উনসানি গোয়ালবাটি এলাকার বাসিন্দা রামমোহন শীল। ২০০৮ সালে গড়পা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তিনি পার্শ্বশিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। রামমোহনবাবু জানান, স্কুলে যোগদানের সময় তখনকার প্রধান শিক্ষক তাঁকে প্রতিদিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত স্কুলে থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই অনুযায়ী তিনি নিত্যদিন সময় মেনেই স্কুলে আসেন, ক্লাস নেন এবং নির্দিষ্ট সময়ের পরই স্কুল ছাড়েন। তাঁর অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে বর্তমান স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাঁর একাধিকবার বচসা হয়েছে। কেন তিনি সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত স্কুলে থাকেন, তা নিয়েই প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে। এরপর গত আগস্ট মাস থেকে কোনও কারণ না দেখিয়েই তাঁর বেতন আটকে দেওয়া হয়। স্কুলের প্রধান শিক্ষিকার কাছে বারবার এর কারণ জানতে চাইলেও কোনও সদুত্তর মেলেনি বলে দাবি তাঁর। ইতিমধ্যেই জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক, জেলা প্রশাসন থেকে শুরু করে শিক্ষাদপ্তরের বিভিন্ন স্তরে তিনি লিখিতভাবে বিষয়টি জানিয়েছেন। কিন্তু কোনও সুরাহা হয়নি এখনও।
তাই মঙ্গলবার সকালে নিজের স্বেচ্ছমৃত্যুর কথা জানিয়ে একটি প্ল্যাকার্ড গলায় ঝুলিয়ে তিনি গড়পা সার্কেলের বিদ্যালয় পরিদর্শকের অফিসে হাজির হন। বিকেল পর্যন্ত ওই অফিসেই ধর্নায় বসে থাকেন তিনি। যদিও বিদ্যালয় পরিদর্শকের দেখা পাননি। শেষে জগাছা থানার পুলিশ গিয়ে তাঁকে বুঝিয়ে বাড়ি পাঠানোর ব্যবস্থা করে। রামমোহনবাবু বলেন, ‘টাকার অভাবে ছেলেকে কলেজে ভর্তি করতে পারলাম না। বাড়িতে বৃদ্ধ বাবা-মা দু’জনেই অসুস্থ। তার উপর অসুস্থ শাশুড়ির দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে। তাঁদের ওষুধ কেনার টাকা পর্যন্ত নেই আমার কাছে। এই অবস্থায় বেতন না পেলে মৃত্যু ছাড়া আমার কাছে আর কোনও উপায় নেই।’ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান কৃষ্ণ ঘোষ বলেন, ‘পার্শ্বশিক্ষকদের নিয়োগ ও বেতন দেখভালের বিষয়টি সমগ্র শিক্ষা মিশনের দায়িত্ব। তবে ওই শিক্ষকের সঙ্গে স্কুল কর্তৃপক্ষের কোনও সমস্যা হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হবে।’ জেলা সমগ্র শিক্ষা মিশনের এক আধিকারিক বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। নিয়ম অনুযায়ী কেউ দায়িত্ব পালন করলে তার বেতন আটকে রাখার প্রশ্ন ওঠে না। কিন্তু ওই শিক্ষক সময়মতো স্কুলে আসেন কি না, সেটা দেখা হবে।’ -নিজস্ব চিত্র