Bartaman Logo
৬ জুন, ২০২৬
বর্তমান / চতুষ্পর্ণী

ঐতিহ্যের পরশ

ঐতিহ্যবাহী শাড়ির মায়া নিয়ে আলোচনা, ইধিকা পালের ফ্যাশন শ্যুট। আধুনিকতার সঙ্গে ঐতিহ্য কীভাবে বাঁচে? বিস্তারিত পড়ুন।

ঐতিহ্যের পরশ
  • ৬ জুন, ২০২৬ ০৪:০০

• সে ছিল একদিন...। গল্পের শুরুতে যেই একথা বলেন ঠাকুরমা বা দিদিমা, অমনি পাশ থেকে নাতনি বলে ওঠে, দিন আমাদেরও আছে। তা সে কেমন দিন? শাড়ি পরার দিন। 

Advertisement

পাঁচ, ছ’বছর বয়স হলেই গাছকোমর করে শাড়ি পরিয়ে দেওয়া হত কন্যা সন্তানকে। তারপর সে গাছের ডালে উঠে পেয়ারা পাড়ুক অথবা মায়ের সঙ্গে হাতে হাতে গিন্নিপনা শিখুক, তার এক এবং একমাত্র পোশাক শাড়ি। এত ছোটো থেকে শাড়ি সামলাতে মেয়েরা অভ্যস্ত হয়ে উঠত যে এই চিরন্তন পোশাককে ভালো না বেসে কোনো উপায়ই থাকত না। 
যুগ বদলাল। শাড়ি ছেড়ে ফ্রক ধরল মেয়েরা। পরনে উঠল আরও নানা ধরনের পোশাক। কিন্তু শাড়ির মায়া? তাকে অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। তাই ঠাকুরমা যখন তাঁর প্রথম শাড়ি পরার গল্প বলেন, নাতনিরও মনে পড়ে তার প্রথম শাড়ি পরার কথা। ঐতিহ্যের হাতবদলে বেঁচে থাকে বাঙালিয়ানা।
চতুষ্পর্ণীর ফ্যাশন শ্যুটে যখন ঐতিহ্য নিয়ে লুক তৈরি করার কথা ভাবা হল, তখন আদর্শ পোশাক শাড়ি। বাঙালি ঐতিহ্যের আবেগে মিশে রয়েছে বেনারসি। তাই ডাক পড়ল তারও। সেদিনের মডেল অভিনেত্রী ইধিকা পাল। যিনি শাড়ি পরতে ভালোবাসেন। মেকআপ করতে করতেই মায়ের শাড়ি, তাঁর নিজের প্রথম শাড়ি পরার নানা গল্প করছিলেন।
ইধিকার পরনে রয়েছে জামরঙা একটি বেনারসি। শাড়ির জমিতে ফুলের জংলা নকশা। তার ভিতরে মিনাকারি কাজ। ব্রোকেডের আঁচল। শাড়ির  পাড়টি অপূর্ব। তার উপরে জারদৌসি কাজ নতুনত্ব তৈরি করেছে। আঁচলেও রয়েছে জারদৌসির কারুকার্য। লম্বাহাতা অফ হোয়াইট রঙের ব্লাউজ পরেছেন ইধিকা। যার হাতে এবং গলায় সোনালি সুতোর নকশা। লম্বা হাতা ব্লাউজ হওয়ার জন্য হাতে কোনো গয়না পরেননি। আবার শাড়ির ভিতরের লালরঙা মিনের কথা মাথায় রেখে ম্যাচ করে স্টোন ও কুন্দনের গয়না পরানো হয়েছিল। এই ধরনের বেনারসি সাধারণত বাঙালি কন্যেরা নিজেদের স্পেশাল দিনটির জন্য বেছে রাখেন। বিয়ে হোক বা রিসেপশন যে কোনো একদিন বেনারসি পরার পরিকল্পনা থাকে অনেকেরই। বিয়েতে এখনও অনেকেই লাল, মেরুন, রাস্ট, গোলাপি রং পছন্দ করেন। তাই রিসেপশন ব্রাইডদের জন্য এই জামরঙা বেনারসি আদর্শ। কয়েকবছর আগে জারদৌসি ফ্যাশনে ইন ছিল। এখন আবার ধীরে ধীরে জারদৌসির নকশা ফিরছে। 
বেনারসি শাড়ি হিসেবে এতটাই গর্জিয়াস যে তার সঙ্গে কেমন মেকআপ বা হেয়ারস্টাইল হবে, তা নিয়ে আলাদা করে ভাবনাচিন্তা করতে হয়। ইধিকার পছন্দ ছিল সাধারণ বিনুনি। মাঝে সিঁথি করে লম্বা বিনুনির সাজ খানিক ঘরোয়া লুকও তৈরি করে। কপালের দু’পাশ থেকে কার্ল করে চুল বের করে দেওয়া হয়েছিল। ছোটো টিপ ইধিকা পছন্দ করেন। সব মিলিয়ে ঐতিহ্যের ছোঁয়া রয়েছে নায়িকার সম্পূর্ণ লুকে।
বেনারসির মতো ঐতিহ্যবাহী সিল্ক বিয়েবাড়ির মতো অনুষ্ঠানে পরলে ভালো মানায়। পার্টিতে যাওয়ার জন্য হালকা সিল্ক বা তসর খোঁজেন আধুনিকারা। কিন্তু ডিজাইনারদের মতে, বেনারসি পরেও পার্টিতে যাওয়া যায়। তার সঙ্গে হেয়ারস্টাইল বদলে ফেলুন পার্টি লুকে। গয়না কম পরুন। ক্লাচ জাতীয় ব্যাগ দিয়ে স্টাইলিং করুন। ডার্ক আই এবং ন্যুড লিপ মেকআপ করে বদলে ফেলুন স্টাইল। সঙ্গে অবশ্যই হিল পরুন। তাহলেই আপনি তৈরি।
ঐতিহ্য বহন করা নেহাত সহজ কাজ নয়। কিন্তু কঠিন কাজটাই চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেন আধুনিকারা। শত শত বছরের বুননকে তাঁরা আপন করে নিয়েছেন। আর এভাবেই ঐতিহ্য বেঁচে থাকে আধুনিকতার হাত ধরে।
স্বরলিপি ভট্টাচার্য

সম্পর্কিত সংবাদ