Bartaman Logo
১৭ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সংসদীয় কমিটির বৈঠক মমতার সরকারকে আক্রমণ কাকলির

সংসদীয় কমিটির বৈঠকে কাকলি মমতার সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। শিশু পাচার ও বাল্যবিবাহের সমস্যা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা। বিস্তারিত পড়ুন।

সংসদীয় কমিটির বৈঠক মমতার সরকারকে আক্রমণ কাকলির
  • ১৭ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ভিন দলে মিশে গিয়েই রাজ্যের পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের উপর রীতিমতো খড়্গহস্ত হলেন সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। মঙ্গলবার দিল্লিতে স্বরাষ্ট্র সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে যোগ দেন তিনি। বৈঠক শেষে বেরিয়ে কাকলি সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘আমি পশ্চিমবঙ্গে বাল্যবিবাহ এবং শিশু পাচার সংক্রান্ত বিষয় তুলেছি। আগের রাজ্য সরকার এমন অপরাধ বন্ধই করতে পারেনি। আমি জানতে চেয়েছি, এব্যাপারে কী কী পদক্ষেপ করা হয়েছে?’ সরকারি সূত্রের খবর, এদিন সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে কাকলি জানিয়েছেন, ‘অনেক সময়ই বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেন জড়িয়ে থাকে। যদি কোনো বাবা-মা টাকা নিয়ে নাবালিকা মেয়ের বিয়ে দেন, তাহলে যেন তাঁদেরও গ্রেপ্তার করা হয়। শিশুদের ভিন দেশে পাচার করে দেওয়া হচ্ছে। এব্যাপারেও পদক্ষেপ করতে হবে।’ সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, এদিনের বৈঠকে কাকলি অভিযোগ করেছেন, ‘বাংলার পূর্বতন সরকার কোনো পদক্ষেপ তো করেইনি। এমনকি কেন্দ্রের কাছে এসংক্রান্ত কোনো রিপোর্টও পাঠায়নি।’  

Advertisement

তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করলেও মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত কাকলি ঘোষ দস্তিদারের এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলের ওয়ালে শোভা পাচ্ছে মমতা এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি। এমনকি তাঁর পরিচয় হিসাবে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত এক্স হ্যান্ডেলে লেখা রয়েছে ‘এআইটিসি উইমেন উইং প্রেসিডেন্ট’। অর্থাৎ, তৃণমূলের মহিলা নেত্রী। এদিকে, মঙ্গলবার দিল্লিতে বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বিদ্রোহী তৃণমূলের অন্যতম মুখ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে নিশিকান্ত দুবের সঙ্গেই তিনি ৯, মতিলাল নেহরু মার্গে গিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। পরে রচনা লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে বিদ্রোহীদের চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন। এদিন রচনা বলেন, ‘দিদির সঙ্গে আমার যথেষ্ট সুসম্পর্ক রয়েছে। ভবিষ্যতেও থাকবে। দিদিকে দেখেই আমি তৃণমূলে এসেছিলাম। কিন্তু কেন্দ্র এবং রাজ্যে একই দলের সরকার থাকলে কাজ করতে যে খুব সুবিধা হয়, তা বুঝতে পারছি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে রাজ্যে একাধিক উন্নয়নমূলক কাজ হচ্ছে। প্রত্যেক রাজ্যবাসীই তার শরিক হতে চাইবেন।’  বিদ্রোহী সাংসদরা যেমন লোকসভার স্পিকারকে চিঠি দিয়েছেন। তেমনই অভিষেক ‘আসল’ তৃণমূলের হয়ে ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়েছেন। এমন প্রেক্ষাপটে দু’পক্ষের বক্তব্য শুনতে চেয়ে অভিষেককেও নোটিস দিয়েছেন লোকসভার অধ্যক্ষ। যদিও তৃণমূলের দাবি, সোমবার দু’ঘণ্টার নোটিসে দেখা করতে বলা হয়েছিল অভিষেককে। কিন্তু সেইসময় তিনি ইডির মুখোমুখি হয়েছিলেন। তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদ ফোন ধরেন এবং ইমেলের উত্তর দেন। লোকসভার স্পিকারের কাছে ফের সময় চাওয়া হবে। এদিকে মঙ্গলবার দিল্লির বঙ্গভবনে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘এটা বিশ্বাসঘাতকতা নয়। দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন আমাদের দিকে রয়েছে। তৃণমূলের প্রতীক এবং সম্পদ কার কাছে থাকবে, তা আলাদত ঠিক করবে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ