


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: হঠাৎ করে কোনো জমায়েত নয়। গত রবিবার পার্ক সার্কাস মোড়ে সরকারি নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে আচমকা জমায়েতের নেপথ্যে রয়েছে পূর্ব পরিকল্পিত প্লট। তাণ্ডবের ঘটনায় ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে কলকাতা পুলিশ। লালবাজার সূত্রের দাবি, আপাতভাবে বিক্ষোভ প্রদর্শনে সামনে দেখা গিয়েছিল সংখ্যালঘু আম জনতাকে। কিন্তু, বিক্ষোভের সলতে পাকিয়েছেন এক রাজনৈতিক নেতা। তদন্তকারীদের দাবি, ধৃতরা জানিয়েছে, জনৈক নেতার উস্কানিতেই উর্দিধারীদের উপর হামলা ও পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর চালানো হয়েছে। এই দাবির স্বপক্ষে বেশ কিছু ডিজিটাল প্রমাণ হাতে এসেছে লালবাজারের। সেগুলি আতসকাচের তলায় এনে বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
রবিবার পার্ক সার্কাস মোড়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন হয়। দীর্ঘক্ষণ চলে রাস্তা অবরোধ। পুলিশ বিক্ষোভ হটাতে গেলে উর্দিধারীদের উপর আক্রমণ চালায় তারা। ইটের আঘাতে জখম হন অ্যাসিস্ট্যান্ট পুলিস কমিশনার চিত্রদীপ পান্ডে সহ কলকাতা পুলিশের ৪ জন অফিসার-কর্মী। ভাঙচুর চালানো হয়ে পুলিশের গাড়িতেও। সেই ঘটনার তদন্তে সোমবার মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। ধৃতের নাম ফরিদুল ইসলাম। ইটবৃষ্টির নেপথ্যে তিনিই ছিলেন বলে জানিয়েছে লালবাজার। অভিযোগ, নিজে ইট ছোড়ার পাশাপাশি বাকি বিক্ষোভকারীদের প্ররোচনা দেন ফরিদুল। পার্ক সার্কাস চত্বরের একাধিক সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে মূল অভিযুক্তকে চিহ্নিত করেন তদন্তকারীরা। মূল অভিযুক্ত ছাড়া আরও ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছেন তদন্তকারীরা। পুলিশ সূত্রে খবর, প্রত্যেকের মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তা থেকে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গিয়েছে। প্রত্যেকের ফোন থেকে বেশ কিছু হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ মিলেছে। সেগুলিতে রবিবারের পার্কসার্কাস মোড়ে বিক্ষোভ প্রদর্শনের নকশা তৈরি হয়। একইসঙ্গে, স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে ফরিদুলের যোগাযোগ মিলেছে তাঁর কল ডিটেলস রেকর্ডস (সিডিআর) থেকে। ঘটনার ২-৩ দিন আগে থেকেই ওই নেতার সঙ্গে ফরিদুল সহ বেশ কয়েকজনের নিয়মিত যোগাযোগ হয়। এমনকী, ঘটনার দিনও কয়েকবার দু’পক্ষের কথাবার্তা হয় বলে ডিজিটাল তথ্যে তার প্রমাণ পেয়েছেন তদন্তকারীরা। তা থেকেই পুলিশের অনুমান, তাণ্ডব, হাঙ্গামার ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত। তপসিয়ায় বেআইনি কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা বাড়িটি ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দেয় রাজ্য সরকার। সেখানেই লুকিয়ে ছিল পার্ক সার্কাস তাণ্ডবের ভ্রুণ।
কোন জায়গায় জমায়েত হবে, কোন জায়গা থেকে ইট নেওয়া হবে, কোন জায়গা থেকে হামলা চালানো হবে— সবটাই পরিকল্পনার অংশ ছিল। গোটা বিষয়টি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে মঙ্গলবার পার্ক সার্কাস মোড় চত্বরে ঘটনার পুনর্নির্মাণ চালায় বেনিয়াপুকুর থানার আধিকারিকরা। কোমরে দড়ি বেঁধে , হ্যান্ডকাফ পরিয়ে পাঁচ ধৃতকে সেখানে নিয়ে আসেন তদন্তকারীরা। ঘটনাস্থলে ছিলেন বেনিয়াপুকুর থানার অতিরিক্ত অফিসার ইন-চার্জ অমৃত মুখোপাধ্যায়। একইসঙ্গে, কলকাতা পুলিশের বিরাট ফোর্স ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরাও সেখানে হাজির ছিলেন। সূত্রের খবর, পরিকল্পনামাফিক তাণ্ডবের নেপথ্যের ব্লুপ্রিন্ট তদন্তকারীদের জানায় অভিযুক্তরা। পার্ক সার্কাস চত্বরের একাধিক গলিতেও চলে পুনর্নির্মাণের কাজ।