Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গরহাজির শিক্ষক, ফাঁকা ক্লাস স্কুলে বিক্ষোভ অভিভাবকদের

গরহাজির শিক্ষক, ফাঁকা ক্লাস স্কুলে বিক্ষোভ অভিভাবকদের
  • ২৫ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: শিক্ষক গরহাজির। ফলে ক্লাস ফাঁকা। আর এই সুযোগে প্রাক প্রাথমিকের পড়ুয়ারা কেউ ক্লাসে সহপাঠীদের সঙ্গে মারামারি করছে। কেউ ছোটাছুটি করতে গিয়ে পড়ে জখম হচ্ছে। দেখার কেউ নেই। এরই প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকালে জলপাইগুড়ির অন্যতম নামী সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ফণীন্দ্রদেব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিক্ষোভ দেখান অভিভাবকরা। তাঁদের অভিযোগ, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। প্রায়ই এমনটা হয়ে থাকে। 

Advertisement

অভিযোগ, খাতায়কলমে স্কুলে ৩১ জন শিক্ষক থাকলেও সাকুল্যে রোজ ১০ জনও আসেন না। গোটা শহরের আর পাঁচটা সরকারি প্রাথমিকের তুলনায় এই স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা অনেক বেশি। ন’শোর বেশি ছাত্র। অথচ বেশিরভাগ শিক্ষক স্কুলে গরহাজির থাকেন। ফলে কার্যত লাটে ওঠে পড়াশোনা। ফাঁকা ক্লাসে দৌড়ঝাঁপ, মারামারি করে পড়ুয়ারা। স্কুলের জানালা দিয়ে উঁকি মেরে কয়েকদিন এমনটা দেখার পর এদিন প্রতিবাদে সরব হন অভিভাবকরা। 
কেন দিনের পর দিন বেশিরভাগ শিক্ষক স্কুলে গরহাজির থাকছেন, তা নিয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে কৈফিয়ত চান তাঁরা। চাপের মুখে প্রধান শিক্ষক জাহিরুল ইসলাম বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন ক্ষুব্ধ অভিভাবকদের। 
আজ, শুক্রবার স্কুলে অভিভাবক-শিক্ষক বৈঠক রয়েছে। সেখানেও বিষয়টি তোলা হবে বলে জানান তিনি। প্রধান শিক্ষকের দাবি, প্রাক প্রাথমিকে দায়িত্বপ্রাপ্ত দু’জন শিক্ষক-শিক্ষিকার মধ্যে একজন অসুস্থ। তিনি এদিন স্কুলে এসে রক্ত পরীক্ষা করাতে গিয়েছিলেন। পরে অবশ্য ওই শিক্ষক স্কুলে আসেন। অন্য যে শিক্ষিকা রয়েছেন, পারিবারিক সমস্যা থাকায় তিনি এদিন আসতে পারবেন না বলে জানান। রোজ এমনটা হয় না। তাঁর দাবি, প্রাক প্রাথমিকে এদিন পরে এক শিক্ষককে পাঠানো হয়েছিল। তিনিও গিয়েছিলেন। ক্লাস হয়েছে। 
অভিভাবকদের অভিযোগ, এদিন স্কুল শুরুর সময় মাত্র চারজন শিক্ষক ছিলেন। পরে কয়েকজন ঢোকেন। এটা রোজকার ছবি। প্রধান শিক্ষকের দাবি, বেশিরভাগ শিক্ষক ছুটিতে রয়েছেন। ৩১ জন শিক্ষকের মধ্যে এদিন ১৭ জন এসেছিলেন। 
স্কুল যে ওয়ার্ডে, সেটির কাউন্সিলার সৈকত চট্টোপাধ্যায়কে কয়েকজন অভিভাবক নালিশ জানিয়েছেন। পদাধিকার বলে তিনি ওয়ার্ড এডুকেশন কমিটির সভাপতিও। এনিয়ে ফোনে যোগাযোগ করা হলে সৈকত বলেন, স্কুলে শিক্ষকদের পড়াতেই হবে। এক্ষেত্রে কোনও আপস চলবে না। কোনও শিক্ষক ছুটি নিয়েছেন বলে ক্লাস ফাঁকা থাকবে, এটা হতে পারে না। ফণীন্দ্রদেব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে কেন এমন অভিযোগ উঠছে, ওয়ার্ড এডুকেশন কমিটির বৈঠকে বিষয়টি জানতে চাওয়া হবে। 
 নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ