Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বারাসতে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর অভিভাবকরা আশ্রয়হীন! পরীক্ষা কেন্দ্রের সামনে বিক্ষোভ

জীবনের প্রথম বড়ো পরীক্ষা মাধ্যমিক। আর এই পরীক্ষা মানেই টানটান উত্তেজনা।

বারাসতে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর অভিভাবকরা আশ্রয়হীন! পরীক্ষা কেন্দ্রের সামনে বিক্ষোভ
  • ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: জীবনের প্রথম বড়ো পরীক্ষা মাধ্যমিক। আর এই পরীক্ষা মানেই টানটান উত্তেজনা। পরীক্ষার্থীদের যেমন টেনশন, কোথাও কোথাও তার থেকেও বেশি অভিভাবকদের। এই চাপের মধ্যেই ভোগান্তি বারাসত শহরে। প্রতি বছরই মাধ্যমিক চলাকালীন পরীক্ষা কেন্দ্রের সামনে পুরসভার উদ্যোগে অস্থায়ী শেড করে অভিভাবকদের বিশ্রামের ব্যবস্থা করা হয়। চলতি বছর শহরে তেমন কোনো শেড চোখে পড়েনি। এই অভিযোগকে ঘিরেই শুরু হয়েছে তীব্র অসন্তোষ। অভিভাবকদের অভিযোগ, ছেলেমেয়েদের পরীক্ষায় বসাতে এসে আমরাই যেন পরীক্ষার মুখে পড়েছি। একটু বসার জায়গা, একটু ছায়ার ব্যবস্থাও কি করা যেত না? প্রশ্ন উঠছে, প্রতি বছর যে ব্যবস্থা হয়ে থাকে, তা হঠাৎ করে কেন বন্ধ?

Advertisement

জানা গিয়েছে, বারাসত পুরসভা এলাকায় কমবেশি ৩০টি স্কুলে এবার মাধ্যমিক পরীক্ষার সিট পড়েছে। কিন্তু সিংহভাগ সেন্টারেই নেই অভিভাবকদের ‘আশ্রয়’। রোদে-গরমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে অভিভাবকদের। কেউ ছাতা মাথায়, কেউ বা দেওয়ালে ঠেস দিয়ে। অনেকে পরীক্ষা কেন্দ্রের সামনে দোকানের ছাউনির নীচে আশ্রয় নিচ্ছেন। এতে করে বিরক্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু অসহায়তার কথা ভেবে তাঁরা নীরব। বসার জায়গার পাশাপাশি নেই পানীয় জলের ব্যবস্থাও। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল নেতৃত্বের অন্দরমহল থেকেই বেরচ্ছে বিস্ফোরক দাবি। একাংশের বক্তব্য, এবার পুরসভার হাতে টাকা নেই। তাই শেড করা যায়নি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার সময়েও আর্থিক সংকটের অজুহাত? বারাসত গভর্নমেন্ট হাইস্কুলের এক মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর মা সোমা দাস বলেন, বড়ো ছেলে গত বছর পরীক্ষা দিয়েছে। সেবার দেখেছিলাম শেড করা হয়েছিল। কিন্তু এবার নেই। খালি শুভেচ্ছার পোস্টার আছে। তার উপর রাস্তা দখল করে পড়ে আছে বিভিন্ন সামগ্রী। ঝুঁকি নিয়ে রাস্তার একদিকে বসে আমাদের পরীক্ষা দিতে হচ্ছে!

অন্যদিকে নওপাড়ার স্কুলের সামনে অভিভাবক বিশ্বজিৎ চক্রবর্তীরও একই খেদ। বললেন, এটা কোনও বিলাসিতা নয়, ন্যূনতম নাগরিক পরিষেবা। প্রবীণ অভিভাবক, অসুস্থ মানুষ, মহিলারা কীভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রোদে দাঁড়িয়ে থাকবেন? এ নিয়ে বারাসত পুরসভার চেয়ারম্যান সুনীল মুখোপাধ্যায় বলেন, পরীক্ষা কেন্দ্রের সামনে থাকা বিভিন্ন ক্লাব বা সংগঠনকে তাঁদের অফিস খোলা রাখতে বলা হয়েছে। সেখানে অভিভাবকরা বসবেন। তাছাড়া পরীক্ষা কেন্দ্রের সামনে তো শেড করা যায় না। তবে পানীয় জলের জন্য আমরা ব্যবস্থা করব। অভিভাবকদের স্পষ্ট দাবি, অজুহাত নয়, অবিলম্বে সমস্যার সমাধান করুক পুরসভা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ