Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

হাই কোর্টের রায়ে কাটল জট খুশি অভিভাবকরা,চার দশকের পর ছাত্রী ভর্তি নিতে পারবে দাসপুরের স্কুল

দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় ধরে চলা এক জটিল আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটল। অবশেষে জয় হল ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবকদের দীর্ঘদিনের দাবির।

হাই কোর্টের রায়ে কাটল জট  খুশি অভিভাবকরা,চার দশকের পর ছাত্রী ভর্তি নিতে পারবে দাসপুরের স্কুল
  • ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ঘাটাল: দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় ধরে চলা এক জটিল আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটল। অবশেষে জয় হল ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবকদের দীর্ঘদিনের দাবির। দাসপুর-২ ব্লকের গৌরা-সোনামুই কুঞ্জবিহারী আদর্শ শিক্ষায়তনে পঞ্চম শ্রেণি থেকে ফের ছাত্রী ভর্তি করা যাবে বলে রায় দিল কলকাতা হাই কোর্ট। বৃহস্পতিবার উচ্চ আদালতের এই নির্দেশ পৌঁছতেই এলাকায় আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। খুশিতে ফেটে পড়েন স্কুলের ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা থেকে শুরু করে পরিচালন কমিটির সদস্য ও সাধারণ অভিভাবকরা। বিদ্যালয়ের টিআইসি রণজিৎ জানা বলেন, খবরটি পেয়ে আমাদেরও খুব ভালো লাগছে। এবার আমাদের স্কুলে পড়ুয়া বাড়বে। স্থানীয় তৃণমূল নেতা তথা ওই বিদ্যালয় পরিচালন কমিটির প্রাক্তন সভাপতি কৌশিক কুলভী বলেন, আমরা এই রায়কে স্বাগত জানাচ্ছি। পছন্দমতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সন্তানদের ভর্তি করার স্বাধীনতা অভিভাবকদের থাকা উচিত। উচ্চ আদালত সেই নির্দেশই দিয়েছে।

Advertisement

ঘটনার সূত্রপাত কয়েক দশক আগে। ১৯৬৫ সালে গৌরা-সোনামুই কুঞ্জবিহারী আদর্শ শিক্ষায়তনের পথ চলা শুরু হয়েছিল একটি কো-এডুকেশন স্কুল হিসেবে। আশির দশকের মাঝামাঝি পরিস্থিতি বদলায়। কুঞ্জবিহারী থেকে ২০০ মিটার দূরে একটি বালিকা বিদ্যালয় তৈরি হয়। সেটা ১৯৮৫ সাল। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, নতুন বালিকা বিদ্যালয় তৈরি হলেও অভিভাবকদের সিংহভাগ তাঁদের মেয়েদের কুঞ্জবিহারী স্কুলেই পাঠাতেন। কারণ, এই স্কুলটি এলাকায় অত্যন্ত প্রাচীন এবং এর পঠন পাঠনের মান অত্যন্ত উন্নত। এমনকী এটি মডেল স্কুল হিসেবেও পরিচিতি লাভ করেছিল।

পঠনপাঠনের গুণগত মানের নিরিখে অভিভাবকরা যখন কুঞ্জবিহারী স্কুলের দিকে ঝুঁকে পড়েন, তখন ক্ষীরদাময়ী বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী সংখ্যা ক্রমশ কমতে শুরু করে। এই নিয়েই মূলত দুই স্কুলের মধ্যে দীর্ঘকালীন বিরোধের সূত্রপাত। বালিকা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়, পাশের স্কুলটি ছাত্রী ভর্তি বন্ধ না করলে তাঁদের অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত আদালত পর্যন্ত গড়ায়। বালিকা বিদ্যালয়ের করা আবেদনের ভিত্তিতে মধ্যশিক্ষা পর্ষদকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেয় হাই কোর্ট। কয়েক বছর আগে পর্ষদ নির্দেশ দেয় যে, কুঞ্জবিহারী স্কুলে দশম শ্রেণি পর্যন্ত আর কোনও ছাত্রী ভর্তি নেওয়া যাবে না। ২০১৬ সাল থেকে সেই নির্দেশ মেনে ওই স্কুলে ছাত্রী ভর্তি বন্ধ হয়ে যায়। বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। বালিকা বিদ্যালয়ের প্রাক্তন টিআইসি তথা বর্তমান সহকারী শিক্ষিকা বিভা পাল বলেন, মাধ্যমিক বোর্ডেরই নিয়ম রয়েছে নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে কোনও বালিকা বিদ্যালয় থাকলে সেই স্কুল ছাত্রী ভর্তি নিতে পারে না। সেই নিয়ম কুঞ্জবিহারী স্কুল মানেনি। তবে এদিন একটি রায় ঘোষণা হয়েছে শুনেছি। রায়টি হাতে পেলে বিস্তারিত মন্তব্য করব।এদিন হাইকোর্টের রায়ে কুঞ্জবিহারী স্কুলে পঞ্চম শ্রেণি থেকে ছাত্রী ভর্তিতে আর কোনও বাধা থাকল না। কৌশিকবাবু বলেন, এবার কুঞ্জবিহারী স্কুল পঞ্চম শ্রেণি থেকেই ছাত্রদের পাশাপাশি ছাত্রীদের ভর্তি নিতে পারবে।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ