নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: চাকরিতে আপত্তি বাবা-মায়ের। অভিযোগ, সেকারণে স্কুল শিক্ষিকা মেয়েকে দিনের পর দিন ঘরে তালাবন্দি করে রেখেছিলেন তাঁরা। কিন্তু এমনটা সহ্য করতে না পেরে নিজের বাড়িতে তালাবন্দি অবস্থায় এক পুলিসকর্তাকে মোবাইলে মেসেজ করেন ওই শিক্ষিকা। আর তারপরই জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার পুলিস গিয়ে উদ্ধার করে তাঁকে। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে জলপাইগুড়ি শহর সংলগ্ন পাহাড়পুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়।
কোতোয়ালি থানার আইসি সঞ্জয় দত্ত বলেন, আমরা ওই শিক্ষিকাকে উদ্ধার করেছি। তিনি যাতে স্কুলে পড়ানোর কাজে ফিরতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি তাঁর পরিবার ওই শিক্ষিকার সঙ্গে যে আচরণ করেছে, সেটা আদালতকে জানানো হচ্ছে। আদালতের নির্দেশমতো পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
যদিও এ ব্যাপারে ওই শিক্ষিকার পরিবার কোনও মন্তব্য করতে নারাজ। কথা বলতে চাননি শিক্ষিকা নিজেও। পুলিস সূত্রে খবর, ২৬ বছর বয়সি ওই স্কুল শিক্ষিকা কেমিস্ট্রিতে এমএসসি। বিএড করেছেন। নাগরাকাটার একটি স্কুলে পড়ান তিনি। খুব বেশিদিন হয়নি তিনি ওই চাকরি পেয়েছেন। প্রথমে পরিবার সম্মতি জানিয়েছিল মেয়ের চাকরিতে। কিন্তু হঠাৎ করে বেঁকে বসে তারা। জানিয়ে দেয়, ওই চাকরি করা যাবে না। আপত্তির কারণ জানতে চান শিক্ষিকা। পরিবারের বক্তব্য, প্রশ্নের জবাব দেবে না তারা। এনিয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে শিক্ষিকার কথা কাটাকাটি হয়। অভিযোগ, এরপরই ওই শিক্ষিকাকে চাকরি ছাড়তে চাপ দিয়ে কড়া পদক্ষেপ নেন তাঁর বাবা-মা। বাড়িতে একটি ঘরে কার্যত তালাবন্ধ করে রেখে দেওয়া হয়। খাওয়াদাওয়া সেই ঘরেই দেওয়া হতো। জরুরি প্রয়োজনে ওই ঘরের বাইরে বেরতে দিলেও পা রাখতে দেওয়া হতো না বাড়ির বাইরে। গত দু’মাস ধরে এমনটা চলার পর অবশেষে ‘বন্দিদশা’ থেকে মুক্তি পেতে ইন্টারনেটে সার্চ করে জলপাইগুড়ির এক পুলিসকর্তার মোবাইল নম্বর জোগাড় করেন ওই শিক্ষিকা। গোটা ঘটনা জানিয়ে তাঁকে মেসেজ করেন তিনি। এরপরই সংশ্লিষ্ট পুলিসকর্তা কোতোয়ালি থানার আইসিকে বিষয়টি জানান। খবর পাওয়ামাত্র পুলিস পাঠিয়ে ওই শিক্ষিকাকে উদ্ধার করে পুলিস।
পুলিস সূত্রে খবর, স্কুলের এক শিক্ষকের সঙ্গে মেলামেশা নিয়ে আপত্তি ওই শিক্ষিকার পরিবারের। সেকারণে তাঁকে চাকরি ছাড়তে চাপ দিচ্ছে পরিবার। কোতোয়ালি থানার আইসি বলেন, শনিবার রাতে বাড়ি থেকে উদ্ধারের পর জলপাইগুড়ি মেডিক্যালে ‘ওয়ান স্টপ’ সেন্টারে রাখা হয় ওই শিক্ষিকাকে। ওই শিক্ষিকা চাকরি করতে চান। বাড়ি ফিরলে আবারও তাঁকে আটকে রাখা হবে বলে পুলিসের কাছে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।