নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: ভারতীয় সেনা পাকিস্তানের জঙ্গিঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়ায় দেশভক্ত ভারতীয়রা যখন স্বস্তির শ্বাস নিচ্ছে। তখনই চাঞ্চল্য ছড়াল রূপনারায়ণপুরে। দিল্লি থেকে আধা সামরিক বাহিনীর এক শীর্ষকর্তা সহ উর্দিধারী সিআরপিএফ জওয়ানরা হাজির সালানপুর থানার হিন্দুস্থান কেবলসে। কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে থাকা বন্ধ এক কারখানা, টাউনশিপ ও ফাঁকা পড়ে থাকা জমি পরিদর্শন করেন জওয়ানদের ঘেরাটোপে থাকা আধিকারিকরা। ৯৪৭ একর জমিতে কি এবার তাহলে গড়ে উঠছে আধাসামরিক বাহিনী ঘাঁটি! যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য কিছু খোলসা করেননি সিআরপিএফের শীর্য কর্তারা। তাঁদের সংক্ষিপ্ত মন্তব্য, এই পরিস্থিতিতে কোনও মন্তব্য করা যাবে না। দীর্ঘক্ষণ ধরে এলাকা পরিদর্শন করার পাশাপাশি হিন্দুস্থান কেবলসের আধিকারিকদের অফিসে গিয়ে বৈঠকেও করেন তাঁরা। সেখানে ম্যাপ দেখে ফের দিল্লির সঙ্গে আলোচনা করেন বলে জানা গিয়েছে।
হিন্দুস্থান কেবলসের কারখানাটি ভারতীয় ভারী শিল্প মন্ত্রকের অধীনে ছিল। একশো একর জমিতে কারখানা ও ২০০ একর জমিতে টাউনশিপ থাকলেও মোট জমির পরিমাণ প্রায় হাজার একর। কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এলাকার মানুষ কেন্দ্র সরকারের উপর যথেষ্ট ক্ষুব্ধ। এই বিপুল জমিতে ফের শিল্প গড়ার হোক দাবি ছিল দীর্ঘদিন ধরে। অন্যদিকে বন্ধ কারখানার জমি, কোয়ার্টার লুট চলতে থাকে নির্বিচারে। কোয়ার্টারের বহুতল আবাসনগুলি প্রভাবশালীরা নির্বিচারে বিক্রি করতে থাকে। সেখানে জল ও বিদ্যুৎ সংযোগও হতে থাকে কোনও এক জাদুবলে। এই অবস্থায় জানা যায়, জমিটি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক নিতে পারে। বাসিন্দারাদের দাবি ছিল, যে মন্ত্রকই জমি নিক এমন কিছু প্রজেক্ট হোক যাতে এলাকার মানুষের কর্মসংস্থান হয়, অর্থনীতি চাঙ্গা হয়। এই অবস্থায় পাকিস্তানে আঘাত হানার পরের দিনই হিন্দুস্থান কেবলসের জমি পরিদর্শন বহু জল্পনা ছড়িয়েছে। এক আধিকারিক বলেন, বিপুল পরিমাণ জমি রয়েছে নির্জন এলাকায়। এক পাশে রয়েছে অজয় নদ। যে কোনও বাহিনীর উপযুক্ত প্রশিক্ষণ স্থল হতে পারে। আবার আন্তজার্তিক সীমান্ত থেকে অনেকটা ভেতরে এই অংশে অস্ত্র কারখানাও গড়া সম্ভব। যদিও কিছুই খোলসা করা হয়নি। অন্যদিকে একটি সূত্রের দাবি, আধাসামরিক বাহিনীর কর্তাদের নজর এড়ায়নি জমি ও কোয়ার্টার লুটের ঘটনা। কেবলসের আধিকারিকদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, কীভাবে বহিরাগতরা এখানে ঢুকে পড়ছে। হিন্দুস্থান কেবলস পুনর্বাসন সমিতির সম্পাদক সুভাষ মহাজন বলেন, কেন্দ্র সরকার নাটক না করে এখানে কারখানা গড়ুক।