নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চারদিনে ওজনের পার্থক্য ১০ কেজি! এও কী সম্ভব? এত কম সময়ে এক যুবকের ওজন ১০ কেজি কমে যাওয়ায় সন্দেহ প্রকাশ করে ফের ওজন মাপার জন্য কল্যাণী এইমসকে নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট।
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চারদিনে ওজনের পার্থক্য ১০ কেজি! এও কী সম্ভব? এত কম সময়ে এক যুবকের ওজন ১০ কেজি কমে যাওয়ায় সন্দেহ প্রকাশ করে ফের ওজন মাপার জন্য কল্যাণী এইমসকে নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট।
২০২৩ সালে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান নিয়োগের পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন বিট্টু গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, শারীরিক সক্ষমতা সহ সমস্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও চাকরি মেলেনি। অভিযোগ, ওজন বেশি বলে তাঁর নাম চাকরিপ্রার্থীর তালিকা থেকে খারিজ করে দেওয়া হয়। এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি। বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি স্মিতা দাস দে’র ডিভিশন বেঞ্চে তাঁর আইনজীবী, লক্ষ্মীকান্ত ভট্টাচার্য সওয়ালে দাবি করেন, ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই আধাসেনা গঠিত মেডিক্যাল বোর্ড শারীরিক পরীক্ষা করেছিল। তারা জানায়, বিট্টুর ওজন ৮২ কেজি। কিন্তু চারদিন বাদে ২০ জুলাই একটি সরকারি হাসপাতালে ওজন পরিমাপ করলে দেখা যায় বিট্টুর ওজন ৭২ কেজি। দু’টি হাসপাতালে এক ব্যক্তির পৃথক ওজন কীভাবে হল? তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
বিষয়টি শোনার পরই ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, ‘মাত্র চারদিনে কোনও ব্যক্তির ওজনে এত হেরফের হতে পারে না। আদালত মনে করছে, দু’টির মধ্যে একটি রিপোর্টে সমস্যা রয়েছে। তাই নতুন করে ওজন করা প্রয়োজন।’ তিন সপ্তাহের মধ্যে কল্যাণী এইমসকে ওই যুবকের ওজন সহ মেডিক্যাল পরীক্ষা করার নির্দেশ দেয় ডিভিশন বেঞ্চ। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে যুবকের চাকরির বিষয়টি নির্ধারণ করতে হবে বলেও জানায় বেঞ্চ। যোগ্যতা প্রমাণিত হলে প্রয়োজনে অতিরিক্ত শূন্যপদ তৈরি করে চাকরি দিতে হবে বলেও নির্দেশে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে সিঙ্গল বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বিট্টু। সিঙ্গল বেঞ্চ আধাসেনা কর্তৃপক্ষের মেডিক্যাল বোর্ডের রিপোর্টে সিলমোহর দিয়ে বিট্টুর আবেদন খারিজ করেছিল। তারপরই ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হন তিনি।