লন্ডন: অ্যান্ডারসন-তেন্ডুলকর ট্রফিতে ভারত এখন ১-২ পিছিয়ে। আর এটাই হজম করতে পারছেন না রবি শাস্ত্রী। ভারতের প্রাক্তন কোচের মতে, শুভমান গিলদেরই ৩-০ এগিয়ে থাকার কথা। ‘দ্য আইসিসি রিভিউ’-তে তিনি বলেছেন, ‘এই সিরিজের ১৫ দিনই আকর্ষণীয় ক্রিকেটের সাক্ষী হয়েছি আমরা। কখনও কখনও মনে হয়েছে, সবগুলো টেস্ট ভারতেরই জেতা উচিত ছিল। ভাগ্যের সহায়তা পেলে টিম ইন্ডিয়াই ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকত। সিরিজে আরও দুটো টেস্ট বাকি। যে কোনও কিছু হতে পারে এই দুই ম্যাচে। ভারত দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারে। ম্যাঞ্চেস্টারে গিলরা যদি জিতে যায়, সেক্ষেত্রে ওভালে শেষ টেস্ট থ্রিলারে পরিণত হবে।’কেন হারতে হল লর্ডসে? শাস্ত্রী দুটো আউটকে তুলে ধরেছেন। প্রথম ইনিংসে ঋষভ পন্থের রান আউট আর দ্বিতীয় ইনিংসে করুণ নায়ারের এলবিডব্লু। তাঁর বিশ্লেষণ, ‘এই টেস্টের প্রথম টার্নিং পয়েন্ট অবশ্যই ঋষভের রান আউট। বেন স্টোকস অবিশ্বাস্য উপস্থিত বুদ্ধির পরিচয় রেখে পন্থের দিকের স্টাম্প ভেঙেছিল সরাসরি থ্রোয়ে। লাঞ্চের ঠিক আগে ওই আউটটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায়। তা নাহলে ভারত বড় লিড পেত। জাঁকিয়েও বসত ম্যাচে।’
১৯৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দ্বিতীয় ইনিংসে একসময় এক উইকেটে ৪১ উঠে গিয়েছিল। করুণের সঙ্গে লোকেশ রাহুলের জুটি ভরসা জোগাচ্ছিল। কিন্তু দিনের শেষলগ্নে ব্রাইডন কার্সের একটা নিরীহ ডেলিভারিতে কোনও শট না খেলে এলবিডব্লু হন করুণ। এটাকেও ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখছেন শাস্ত্রী। তাঁর যুক্তি, ‘সোজা বলটা খেলেনি করুণ। নিশ্চয়ই মনঃসংযোগ হারিয়ে ফেলেছিল আচমকা। নাহলে ওই বলটা একেবারে সাধারণ ছিল। ওই এলবিডব্লুটাই ইংল্যান্ডের সামনে জয়ের দরজা খুলে দেয়। এমনকী আউটের সময়টাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়।’
ভারতীয় টপ অর্ডারের দায়ছাড়া মানসিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শাস্ত্রী। তাঁর মতে, ‘সিরাজ, বুমরাহ, জাদেজারা দীর্ঘক্ষণ ব্যাট করে দেখিয়ে দিয়েছে যে, পিচে জুজু ছিল না। বল ৪০ ওভারের পুরনো হয়ে যাওয়ার পর কিছুই হচ্ছিল না। তখন অনায়াসেই খেলা যাচ্ছিল। বুমরাহ-সিরাজদের রক্ষণও জমাট লাগছিল। লাঞ্চের সময় টার্গেট ছিল ৮২। তখন মনে হচ্ছিল, খেলা শুরু হলে দশ মিনিটের মধ্যে গুটিয়ে যাবে ভারত। কিন্তু সেখান থেকে মাত্র ২২ রানে হার বিশাল কৃতিত্বের। সেজন্যই আপশোস যে, টপ অর্ডার যদি একটু লড়াকু মানসিকতা দেখাত, তাহলে ম্যাচটা ভারতই জিতত।’
এদিকে, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় একধাপ নামল ইংল্যান্ড। সদ্যসমাপ্ত টেস্টে মন্থর ওভার রেটের জন্য দুই পয়েন্ট কাটা গেল তাদের। আইসিসি’র কোড অব কনডাক্টের ১৬.১১.২ ধারা অনুসারে শাস্তি পেয়েছে ইংল্যান্ড। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দুই ওভার কম বল করেছে হোমটিম। সেজন্য ইংল্যান্ড ক্রিকেটারদের প্রত্যেকের ১০ শতাংশ জরিমানা হয়েছে। লর্ডস টেস্টের পর বদলেছে টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে ব্যাটারদের তালিকাও। স্বদেশীয় হ্যারি ব্রুককে পিছনে ফেলে ফের শীর্ষস্থানে উঠলেন জো রুট। পাঁচে আছেন যশস্বী জয়সওয়াল। অষ্টম ও নবম স্থানে যথাক্রমে ঋষভ পন্থ ও শুভমান গিল। বোলারদের তালিকায় যশপ্রীত বুমরাহ শীর্ষস্থান ধরে রাখতে সফল।