লন্ডন: লিড নেওয়ার সুযোগ হাতছাড়া ভারতের। প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ডের ৩৮৭ রানের জবাবে ভারতও থামল একই স্কোরে। টেস্টের ইতিহাসে এমন ঘটনা এর আগে আটবার ঘটেছে। ২০১৫ সালে শেষবার প্রথম ইনিংসে নিউজিল্যান্ডের সমান ৩৫০ রান তুলেছিল ইংল্যান্ড। ১০ বছর পর একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি লর্ডসে। অর্থাত্, তৃতীয় টেস্টের ভাগ্য ঝুলে দ্বিতীয় ইনিংসের উপর। দ্বিতীয় ইনিংসে তৃতীয় দিনের শেষে ইংল্যান্ডের স্কোর বিনা উইকেটে ২।
অথচ, একটা সময় মনে হচ্ছিল হেসেখেলে হোম টিমের স্কোর টপকে যাবে ভারত। পন্থের ঝোড়ো ইনিংসের পর লোকেশ রাহুলের শতরানে বেশ পোক্ত দেখাচ্ছিল টিম ইন্ডিয়াকে। এরপর দুরন্ত অর্ধশতরানে ভরসা জোগালেন জাদেজাও। কিন্তু জাড্ডু আউট হতেই কাঁপতে থাকে ভারতের লোয়ার অর্ডার। টেলেন্ডারদের ব্যর্থতায় ৩৮৭ রানে অলআউট গিল-ব্রিগেড। মাত্র ১১ রানের ব্যবধানে পড়ল শেষ চার উইকেট। নাটক তখনও বাকি ছিল। দিনের খেলা শেষ হতে তখনও ১০ মিনিট বাকি। তাতে ২ ওভার খেলা যেত। কিন্তু দেরি করে ক্রিজে আসেন ইংল্যান্ডের দুই ওপেনার। পাশাপাশি ওভারের মাঝেও অযথা সময় নষ্ট করলেন ক্রলি ও ডাকেট। তাতে রেগে যান ভারতীয় ক্রিকেটাররা। মাঠেই ক্রলির সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয় গিলের। শেষ পর্যন্ত ১ ওভারের বেশি খেলা হয়নি।
তার আগে স্কোরবোর্ডে ৩ উইকেটে ১৪৫ রান নিয়ে তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করেন লোকেশ রাহুল ও পন্থ। প্রথম সেশনে ইংল্যান্ডের বোলারদের সেভাবে সুযোগই দেননি তাঁরা। আঙুলে চোট সহ্য করেও পন্থ রীতিমতো শাসন করছিলেন আর্চারদের। অন্যপ্রান্তে লোকেশ ছিলেন রক-সলিড। শেষ পর্যন্ত মধ্যাহ্নভোজের বিরতির প্রাক্কালে অযথা ঝুঁকি নিয়ে সিঙ্গলস নিতে গিয়ে রান-আউট পন্থ (৭৪)। তবে অস্বীকারের জায়গা নেই, চতুর্থ উইকেটে লোকেশ-পন্থের ১৪১ রানের জুটিই ভারতকে অক্সিজেন জোগায়। দ্বিতীয় সেশনের শুরুতে শতরান পূর্ণ করেন লোকেশ। টেস্ট কেরিয়ারে এটা তাঁর দশম সেঞ্চুরি। লোকেশের ক্লাস নিয়ে কোনওদিনই সন্দেহের অবকাশ ছিল না। কিন্তু তাঁর ধারাবাহিকতা নিয়ে অতীতে বারবার প্রশ্ন উঠত। অনেকে কটাক্ষ করে বলতেন ‘কনসিসটেন্টলি ইন-কনসিসটেন্ট।’ তার জন্য অবশ্য কিছুটা দায় বর্তায় পূর্ববর্তী অধিনায়কদের কাঁধেও। কারণ, পছন্দের ওপেনিং থেকে সরিয়ে কখনও চারে, কখনও ছয়ে খেলানো হয়েছে তাঁকে। সম্প্রতি অভ্যস্ত পজিশন ফিরে পেয়ে ধারাবাহিকভাবে বড় রান করছেন তিনি। অবশ্য শতরানের পর মনঃসংযোগ হারিয়ে উইকেট প্যাভিলিয়নে ফেরেন তিনি। ১৭৭ বলে তাঁর ১০০ রানের ইনিংস সাজানো ছিল ১৩টি বাউন্ডারিতে। এরপর ভারতকে ভরসা জোগায় জাদেজার চওড়া ব্যাট। টানা তিনটি হাফ-সেঞ্চুরি পেলেন জাড্ডু। কিন্তু টেলেন্ডারদের ব্যর্থতায় এল না লিড।
স্কোরবোর্ড: ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংস ৩৮৭।
ভারত প্রথম ইনিংস (১৪৫-৩ এর পর): রাহুল ক ব্রুক বো বশির ১০০, পন্থ রান আউট ৭৪, জাদেজা ক স্মিথ বো ওকস ৭২, নীতীশ ক স্মিথ বো স্টোকস ৩০, সুন্দর ক ব্রুক বো আর্চার ২৩, আকাশদীপ ক ব্রুক বো কার্স ৭, বুমরাহ ক স্মিথ বো ওকস ০, সিরাজ ব্যাটিং ০, অতিরিক্ত ১২, মোট (১১৯.২ ওভারে) ৩৮৭। বোলিং: ওকস ২৭-৫-৮৪-৩, আর্চার ২৩.২-৬-৫২-২, কার্স ২৪-৫-৮৮-১, স্টোকস ২০-৪-৬৩-২, বশির ১৪.৫-২-৫৯-১, রুট ১০.১-০-৩৫-০। ইংল্যান্ড দ্বিতীয় ইনিংস: ক্রলি ব্যাটি ২, ডাকেট ব্যাটিং ০, মোট (১ ওভারে) ২। বোলিং: বুমরাহ ১-০-২-০।