নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: রানাঘাটের মেয়ে, আগরপাড়ার ছেলে! দু’পক্ষের দেখাশোনার পর স্থির হওয়া বিয়ে শেষ মুহূর্তে ভেঙে দিয়েছিল পাত্রপক্ষ। পাত্রীপক্ষের অনুরোধে নিজের ওয়ার্ড অফিসে ‘সভা’ ডেকেছিলেন পানিহাটির তৃণমূল কাউন্সিলার। সেখানে আগরপাড়ার ওই যুবককে বিয়ের জন্য চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, বিয়েতে রাজি না হওয়ায় ওই যুবকের পাশাপাশি তাঁর দিদি ও বৃদ্ধা মাকে ওয়ার্ড অফিসে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে কাউন্সিলারের দলবলের বিরুদ্ধে। ওই কাউন্সিলার তথা পুরসভার সিআইসি (জঞ্জাল) হিমাংশু দেব সমস্যা সমাধানের জন্য মিটিংয়ের কথা স্বীকার করলেও, মারধরের কথা অস্বীকার করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্ত ওই যুবক সুমিত দাসের বাড়ি পানিহাটি পুরসভার ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের আগরপাড়া এলাকায়। আগে তিনি বিজেপি করলেও, বর্তমানে নিষ্ক্রিয়। মাস দেড়েক আগে সমাজমাধ্যমে তাঁর সঙ্গে রানাঘাটের এক যুবতীর পরিচয় ও বন্ধুত্ব হয়েছিল। এরপর বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে আলোচনা ও দেখাশোনা হয়। আলাদা করে যুবক ও যুবতী দেখা করে সময় কাটান। পুলিস জানিয়েছে, চলতি মাসের গত চার তারিখ বিয়ের দিনক্ষণ স্থির হয়েছিল। বিয়ের চূড়ান্ত প্রস্ততির মধ্যে আগের দিন ওই যুবকের পরিবার বিয়ে বাতিল করে। তারা মেয়ে পক্ষকে সে কথা জানায়। এনিয়ে ক্ষিপ্ত হয় ওই যুবতী ও তাঁর পরিবার। তাঁরা স্থানীয় কাউন্সিলার হিমাংশু দেবকে বিষয়টি জানান। এরপর আসরে নামেন হিমাংশুবাবু। বুধবার নিজের ওয়ার্ড অফিসে দু’পক্ষকে ডেকে পাঠান। অভিযোগ, সেখানে ওই যুবককে বিয়ের জন্য চাপ দেওয়া হয়। বিয়ে করতে অস্বীকার করায় শুরু হয় শারীরিক নির্যাতন। যুবকের দিদি প্রতিবাদ করার পাশাপাশি ঘটনার ভিডিও করতে শুরু করেন। তখন তাঁর দিদিকে মারধর করে জামা-কাপড় ছিঁড়ে দেওয়া হয়। যুবকের মা বাঁচাতে গেলে, তিনিও আক্রান্ত হন। পরে খবর পেয়ে খড়দহ থানার পুলিস ওয়ার্ড অফিসে এসে ওই যুবকের পরিবার ও রানাঘাটের যুবতীকে থানায় নিয়ে যায়। সেখানে দুই পক্ষ অভিযোগ দায়ের করে।
আক্রান্ত যুবক বলেন, দেখাশোনা করে বিয়ে ঠিক হয়েছিল। কিন্তু পরে মেয়ের পরিবার সম্পর্কে অনেক খারাপ বিষয় জানতে পারি। তাই বিয়ের সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে এসেছিলাম। পরে কাউন্সিলার আমাকে ওয়ার্ড অফিসে ডেকে এনে ওই মেয়ের সঙ্গে জোর করে বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। রাজি না হওয়ায় আমাকে, দিদিকে ও অসুস্থ মাকে মারধর করেছে। বাধ্য হয়ে আমি থানায় জানিয়েছিলাম। থানায় লিখিত অভিযোগও জানিয়েছি। অপরদিকে বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ করেছেন রানাঘাটের ওই যুবতীও। কাউন্সিলার হিমাংশু দেব বলেন, ওই যুবকের আগেও তিনবার বিয়ে হয়েছিল। তাদের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ জমা পড়ছিল। নতুন করে এক যুবতীকে বিয়ে করবে বলেও অস্বীকার করছিল। যুবতীর পরিবার আমাদের কাছে জানানোর পর আমরা দুই পক্ষকে বসিয়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছিলাম। সমাধান না হওয়ায় পুলিস ডেকে তাঁদের হাতে তুলে দিয়েছি। মারধরের অভিযোগ ভিত্তিহীন।