নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর ও কলকাতা: ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ দায়ের হয়েছিল গত মাসে। ঘনিষ্ঠ সঙ্গীরা গ্রেপ্তার হতেই বিপদের আঁচ পেয়েছিলেন প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষের পুত্র তথা পানিহাটির তৃণমূল প্রার্থী তীর্থঙ্কর ঘোষ ওরফে পুচি। তাই পানিহাটি ছেড়ে দক্ষিণ ভারতে আত্মগোপন করেছিলেন। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। রবিবার রাতে খড়দহ থানার পুলিশ অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইন সহ মোট ১০টি ধারায় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের দাবি, তাঁকে দক্ষিণেশ্বর থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদিন ধৃতকে বারাকপুর মহকুমা আদালতের বিচারক ছ’দিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। এদিন তাকে থানা থেকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় ঢোল বাজিয়ে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠার পাশাপাশি, চলে ডিম থেরাপিও।
২০২১ সালের ১৮ এপ্রিল পানিহাটির বিজেপি নেতা জয় সাহার বাড়িতে হামলা চালানো হয়। তাঁকে খুন করার উদ্দেশ্যে বাড়ি লক্ষ্য করে দেদার বোমাবাজি করা হয় বলে অভিযোগ। ওইদিন স্বদেশী মোড়েও বোমাবাজি করা হয়েছিল। পরদিন সশস্ত্র বাহিনী জয় সাহা সহ তাঁর অনুগামীদের উপর হামলা চালিয়েছিল। অভিযোগ, এই হামলার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষের ছেলে তীর্থঙ্কর। পালাবদলের পর গত ২৪ জুন নতুন করে ফের অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। অভিযোগের ভিত্তিতে পরাশ মল্লিক, বিশ্বজিৎ দাস ওরফে ভোলা, পরিতোষ দাস ওরফে পরি, পিন্টু ভৌমিক ওরফে চোর পিন্টু ও সজল সাউ গ্রেপ্তার হয়েছিল। গ্রেপ্তারির আশঙ্কায় এই কেসের মূল অভিযুক্ত তীর্থঙ্কর ঘোষ গত ২৫ জুন থেকে পলাতক ছিলেন। খড়দহ থানার পুলিশ জানিয়েছে, গাড়িতে জিপিএস সিস্টেম স্বয়ংক্রিয় থাকে। মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করা যায়। সেসব বুঝেই তীর্থঙ্করবাবু নিজের গাড়ি ও মোবাইল ছাড়াই গা ঢাকা দিয়েছিলেন। বাসে বিভিন্ন জায়গা ঘোরার পর তিনি তিরুপতিতে আশ্রয় নেন। সেখান থেকে ট্রেনে চেপে রবিবার রাতে তিনি দক্ষিণেশ্বরে নেমেছিলেন। এরপর ডানলপ মোড়ের সবেদা বাগানের কাছে তিনি অপেক্ষা করছিলেন। পুলিশের সোর্স মারফৎ খবর পেয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর বিরুদ্ধে ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের বিজেপি প্রার্থী সন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে হামলা, এক কোটি টাকার লটারির টিকিট কেড়ে নেওয়া সহ বহু অভিযোগ রয়েছে। সেইসব কেসেও পুলিশ আগামী দিনে তাঁকে হেপাজতে নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে। বিজেপি নেতা জয় সাহা বলেন, পানিহাটির বড় গুন্ডা নির্মল ঘোষ ও তার ছেলে তীর্থঙ্কর ঘোষ। পরিবারতন্ত্র কায়েম করে সন্ত্রাসের রাজত্ব চালিয়েছিল। এবার, পালা নির্মল ঘোষের। ওঁনাকেও কৃতকর্ম ভোগ করতে হবে। দিন কয়েক আগে ঋতব্রত শিবিরের বৈঠকে যোগ দিতে যাওয়ার পরই ছেলের গ্রেপ্তারিতে মুহ্যমান নির্মল ঘোষ বলেন, কমবয়সি একটি ছেলেকে মিথ্যে কেসে ফাঁসিয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করা হল। অন্যদিকে, এদিন ছেলের গ্রেপ্তারের পরই তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া তিনটি মামলায় রক্ষাকবচ চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন নির্মলবাবু। এদিন মামলা দায়ের হয়েছে। চলতি সপ্তাহেই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।