নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: পানিহাটি পুরসভা নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। পুর পরিষেবাই হোক বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত—সবেতেই বিতর্ক। এবার সেই বিতর্ককে জিইয়ে রেখে ভেঙে দেওয়া হল পানিহাটি পুরসভার বোর্ড। পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসার সন্দীপ সিংহকে প্রশাসক পদে বসানো হয়েছে।
পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান সুভাষ চক্রবর্তী বলেন, স্রেফ গায়ের জোরে পুরবোর্ড ভেঙে দেওয়া হল। নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচনের জন্য ১২ জন কাউন্সিলারের প্রয়োজন। আমরা ১৭ জন কাউন্সিলার আইন মেনে নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত করতে চেয়েছিলাম। তা সত্ত্বেও সরকার বেআইনিভাবে নির্বাচিত বোর্ড ভেঙে দিল।
পানিহাটি পুরসভায় মোট ৩৫ জন কাউন্সিলার ছিলেন। তারমধ্যে ১৫ জন কাউন্সিলার পদত্যাগ করেছেন। একজন সিআইসি সহ দু’জন কাউন্সিলার বর্তমানে জেল হেপাজতে রয়েছেন। চেয়ারম্যান সোমনাথ দে গত দেড় মাস অনুপস্থিত। তিনি পুরসভায় না আসায় নাগরিক পরিষেবার পাশাপাশি আর্থিক কাঠামোও ভেঙে পড়েছে। আশাকর্মী, নির্মলসাথী সহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রায় ১৫০০ অস্থায়ী কর্মীর বেতন দু’মাস ধরে বন্ধ ছিল। উন্নয়নের কাজ থমকে গিয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে গত ১৭ জুলাই পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান সুভাষ চক্রবর্তী বোর্ড মিটিং ডেকে নতুন চেয়ারম্যান তৈরির উদ্যোগ নেন। কিন্তু বিজেপির বিক্ষোভের জেরে ওইদিন বোর্ড মিটিং ভেস্তে যায়। তিনি পরিস্থিতির কথা জানিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, স্থানীয় বিধায়ক ও জেলাশাসককে চিঠি পাঠিয়ে ছিলেন।
গত শুক্রবার এই বোর্ড ভাঙার বিষয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই। বলেছিলেন, সুষ্ঠু নাগরিক পরিষেবার স্বার্থে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পানিহাটি পুরসভায় প্রশাসক বসানো হবে। ওই আবহে শনিবার দুপুরের পর পুর বোর্ড কেন ভাঙা হবে না, তা জানতে চেয়ে শো-কজ নোটিস দেওয়া হয়েছিল। নোটিস জারির তিনদিনের মধ্যে উত্তর দেওয়ার কথা বলা হলেও কাউন্সিলাররা ওই নোটিস পেয়েছেন শেষদিন বিকালে। তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।
এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার পানিহাটির বিধায়ক রত্না দেবনাথ পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যানকে চিঠি দেন। বিজেপির বিক্ষোভের কারণে বোর্ড মিটিং না হওয়া সংক্রান্ত চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করে তিনি লেখেন, নতুন করে পুরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচনের জন্য কেন বোর্ড মিটিং ডাকা হচ্ছে? রাজ্য সরকার প্রশাসক বসাবে। উন্নয়নের কাজ করবে। পুরসভার মেয়াদ আর অল্প কিছুদিন বাকি। অনেক কাউন্সিলার পদত্যাগ করেছেন। তাই আপনি কেন নতুন করে চেয়ারম্যান তৈরির চেষ্টা করছেন? এখন নতুন চেয়ারম্যান তৈরির কোনো দরকার নেই। এনিয়ে বিতর্কের আবহে বুধবার সন্ধ্যায় নগরোন্নয়ন দপ্তরের তরফে পুরবোর্ড ভেঙে প্রশাসক নিয়োগের নির্দেশিকা পুরসভায় এসে পৌঁছায়।
এই প্রসঙ্গে বিধায়ক রত্না দেবনাথ বলেন, কাউন্সিলাররা পুরসভার পাশাপাশি নিজেদের এলাকায় না থাকায় পুর পরিষেবা ভেঙে পড়েছে। প্রশাসক বসায় সমস্যা মিটবে।