নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: ভাড়ায় নিয়ে সেই গাড়ি নিজের নামে করে নেওয়ার অভিযোগ ঘিরে পানিহাটিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ইতিমধ্যে শাসন থানার পুলিস গাড়িটি উদ্ধার করে ঘোলা থানার হাতে তুলে দিয়েছে। মালিকের অজ্ঞাতে কীভাবে কৃষ্ণনগর আরটিও অফিসের মাধ্যমে গাড়ির মালিকানা পরিবর্তন হল তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তাহলে কি সরকারি অফিসেই রয়েছে গাড়ি পাচার চক্রের চাঁই? পুলিস জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযুক্ত যুবকের খোঁজ চলছে।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, পানিহাটির নাটাগড় কালীতলার বাসিন্দা সুজিত দে। তাঁর স্ত্রী সহেলি বোসের নামে তিনি বেশ কয়েক বছর আগে একটি চারচাকা গাড়ি কিনেছিলেন। তিনি ওই গাড়ি ভাড়ায় দেন। আশিক বিশ্বাস নামে শাসনের এক ব্যক্তি আগেও তাঁর গাড়ি ভাড়ায় নিয়েছে। গত মাসের শেষে সে ফের ১০ দিনের জন্য গাড়ি ভাড়ায় চায়। সরল বিশ্বাসে তাতে রাজি হয়েছিলেন সুজিতবাবু। কিন্তু ১০ দিন কেটে যাওয়ায় আশিক আরও চার-পাঁচ দিন ভাড়ায় চায়। তাতেই তাঁর সন্দেহ হয়। গাড়ির জিপিএস লোকেশন ট্র্যাক করতেই দেখা যায়, সেই গাড়ি রয়েছে শাসন থানা এলাকায়। তাঁরা শাসন থানায় যান। সেখানে গিয়ে তাঁরা জানতে পারেন আশিক বিশ্বাস কৃষ্ণনগর আরটিও থেকে ওই গাড়ি নিজের নামে করে নিয়েছে। তাঁদের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। তাঁরা থানায় সমস্ত কাগজপত্র দেখান। এরপর পুলিস তাঁদের লিখিত অভিযোগ করার পরামর্শ দেয়। শাসন থানার পুলিস গাড়ি উদ্ধার করে। এরপর ওই কেস ঘোলা থানায় ট্রান্সফার করার পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া গাড়িও হস্তান্তর করা হয়।
তদন্তকারীরা নিশ্চিত, এর সঙ্গে আন্তঃরাজ্য গাড়ি পাচার চক্রের যোগ রয়েছে। আর সেই চক্রের সঙ্গে যোগ রয়েছে কৃষ্ণনগর আরটিও অফিসের কোনও কর্মীর। তা না হলে মালিকের অজ্ঞাতে কীভাবে গাড়ির মালিকানা পরিবর্তন হতে পারে? গাড়ির আসল মালিক সহেলিদেবীর স্বামী সুজিত দে বলেন, আমরাও হতবাক হয়ে গিয়েছি। কীভাবে এই জিনিস সম্ভব। আরটিও অফিসেই দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারি কর্মী রয়েছেন। না হলে এই জিনিস সম্ভব নয়।