নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: পেটে অসহ্য ব্যথা। ছুটে গিয়েছিলেন সরকারি হাসপাতালে। হার্নিয়ার সমস্যা ধরা পড়েছিল। অথচ, সেখানে চিকিৎসা না করিয়ে ডাক্তারবাবু ওই রোগীকে পাঠিয়েছিলেন এক নার্সিং হোমে। অভিযোগ, সেই নার্সিং হোমের মালিকানা ওই ডাক্তারের পরিবারের এক সদস্যের। সেখানে রোগীকে নিয়ে যাওয়া হলে হার্নিয়ার বদলে অ্যাপেনডিক্স অপারেশন করা হয়। পানিহাটি স্টেট জেনারেল হাসপাতালের ওই ডাক্তারের এই কর্মকাণ্ডে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর ইতিমধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পানিহাটি শহরের ১ নং দেশবন্ধু নগরের বাসিন্দা মাঝবয়সি বিশ্বজিৎ দাস পেশায় নির্মাণ শ্রমিক। ২০২৩ সালে তিনি পেটের ব্যথায় কাবু হয়েছিলেন। গিয়েছিলেন পানিহাটি স্টেট জেনারেল হাসপাতালে। সেখানে তাঁর শারীরিক পরীক্ষা করেন কর্তব্যরত ডাক্তার। তাঁর নামও বিশ্বজিৎ দাস। পরীক্ষার সময় তাঁর হার্নিয়ার সমস্যা ধরা পড়ে। অভিযোগ, ওই ডাক্তার রোগীকে মধ্যমগ্রাম-সোদপুর রোড সংলগ্ন মুড়াগাছার একটি নার্সিং হোমে অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন। বলেন, স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে হার্নিয়া অপারেশনের সুবিধা নেই। তাই কাগজে-কলমে অ্যাপেনডিক্স অপারেশন দেখিয়ে বিমার টাকা নেওয়া হবে। কিন্তু, অপারেশন হবে হার্নিয়াই। সেই আশ্বাস পেয়ে ওই রোগী নার্সিং হোমে গিয়ে ভর্তি হন। ২০২৩ সালের ৩ এপ্রিল তাঁর অস্ত্রোপচার হয়। কিন্তু কিছুদিন পর থেকে তাঁর একই সমস্যা শুরু হয়। পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হওয়ায় তাঁরা রোগীকে সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজ সহ একাধিক জায়গায় নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা জানান, হার্নিয়া অপারেশন তো হয়নি। বরং অ্যাপেনডিক্স অপারেশন করা হয়েছে। এই শুনে মাথায় হাত পড়ে রোগী পরিবারের। এরপর ডাঃ বিশ্বজিৎ দাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি রোগীকে ঘোরাতে শুরু করেন। সম্প্রতি ওই রোগী স্থানীয় কাউন্সিলারকে জানানোর পাশাপাশি জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরে অভিযোগ জানান। জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ডাঃ বিশ্বজিৎ দাসের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। অভিযুক্ত ডাক্তারকে বারাকপুর পুলিস ব্রিগেড হাসপাতালে স্থানান্তরের পাশাপাশি বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। রোগীর বক্তব্য, আমাকে বলা হয়েছিল, হার্নিয়া অপারেশন করা হবে। স্বাস্থ্যসাথী থেকে মিলবে ১৫ হাজার ৫০০ টাকা। বাকি ছ’হাজার টাকা আমাকে দিতে হবে। খাতায় কলমে দেখানো হবে অ্যাপেনডিক্স অপারেশন হয়েছে। ওই ডাক্তারকে ভরসা করেছিলাম। পরে বুঝেছি, টাকার জন্য অ্যাপেনডিক্স অপারেশন করে আমার সর্বনাশ করেছে। আমি কাজ করতে পারছি না। এর বিচার চাই। ডাঃ বিশ্বজিৎ দাসকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ওই নার্সিং হোম কর্তৃপক্ষও কোনও মন্তব্য করতে চায়নি। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সমুদ্র সেনগুপ্ত বলেন, ওই ডাক্তারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তাঁকে পানিহাটি থেকে অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে। বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে।